Author: rajeeb

burashiv

ওঁ ব্রজানন্দ ওঁ বাবা বুড়াশিবের চতুদ্দর্শী বা শিবরাত্রি মহাব্রত জয় বাবা বুড়াশিব নিত্যনিরঞ্জন, আদিদেব মহেশ্বর পতিত পাবন । তুমিই যে একমাত্র সর্ব্বমূলাধার, তুমি ভিন্ন ত্রিভুবনে কেহ নাহি আর । তোমারি ইচ্ছায় হয় সৃষ্টিস্থিতি লয়, তুমিই বিশ্বের কর্ত্তা সর্ব্ব শাস্ত্রে কয় । তুমিই রয়েছ সব ভুবন ভরিয়া , মায়াতে রেখেছ সবে আচ্ছন্ন করিয়া । তাই সবে অহঙ্কারে “আমি আমি করে, প্রকৃতি কর্ম্মে যেয়ে বদ্ধ হয়ে পড়ে । ঘুচাতে জীবের এই মোহের বন্ধন, বহুমত পথ তুমি করেছ সৃজন । জ্ঞান ভক্তি কর্ম্ম আদি যত পথ আছে , তার এক পথে গেলেই মোহ যাবে ঘুচে । প্রতিমাতে ঈশ্বর বুদ্ধি যাহাদের আছে, প্রতিমা পূজাই শ্রেষ্ঠ তাহাদের কাছে। মানুষে ঈশ্বর বুদ্ধি হয়েছে যাহার, গুরু পূজা করাই যে প্রশস্ত তাহার । যোগীদের আত্মাই যে শ্রেষ্ঠ উপাসনা, জ্ঞানীদের পক্ষে শ্রেষ্ঠ ব্রহ্ম বিচারণা । অধিকারী ভেদে শুধু উপাসনা ভেদ । মূলে কিন্তু বস্তুলাভ সকলেরই এক । মহালিঙ্গ রূপে তুমি করুণা করিয়া ঢাকাতে উত্থিত হ’লে মৃত্তিকা ভেদিয়া । কবে যে উঠেছ তাহা কেহ নাহি জানে, রমনার বনে ছিলে অতি সঙ্গোপনে । তুমি যে রয়েছ হেথা সদা বিদ্যমান, শাস্ত্রেতে রয়েছে তার যথেষ্ট প্রমাণ । তাই দেখে মহামনা আচার্য্য শঙ্কর, তোমার উদ্ধার এসে করিল সত্বর । তদবধি হ’ল ইহা মহাপূণ্য ধাম । চারিদিকে পড়ে গেল মস্ত এক নাম । দলে দলে লোকজন আসিতে লাগিল, পূজিয়া তোমারে সবে সন্তাপ নাশিল । পূজার বিধান করি দিলেন শঙ্কর, নিয়োজিত করি তাঁর এক অনুচর । তাঁর শিষ্যরাই ক্রমে মোহন্ত হইয়া, এপর্য্যন্ত আসিয়াছে পূজা চালাইয়া । বর্ত্তমানে আছেন যিনি মোহন্তের পদে, শিব অবতার বলি মানে তাঁরে সবে । ভগবান ব্রজানন্দ নামটি যে ধরে, শিব পূজা করি সবে তাঁর পূজা করে । এহেন অমূল্য রত্ন এখানে থাকায়, স্থানের মাহাত্ম্য আরো বাড়িয়াছে তায় এর আগে সেই পদে ছিল যেই জন, ত্রিপুরানন্দ নাম তাঁর জ্ঞানে বিচক্ষণ । তাঁর সমাধিটীও যে আছে শিবালয়ে, নমস্কার করে সবে ভক্তিযুক্ত হয়ে । শিবের ত্রিশূলখানি গাড়া যেই স্থানে শিশুদের চুল কাটি দেয় সেই খানে । আপদে বিপদে তারে কভু নাহি পায়, সুস্থদেহে থাকে সদা শিবের কৃপায় । ভক্তিভাবে শিবের স্থানে যে যাহা চায়, শিবের প্রসাদে সে তাহাই যে পায় । জ্ঞানীগণ পায় জ্ঞান যোগীজন যোগ, ভক্তগণ পায় ভক্তি , ভোগীগণ ভোগ । অপুত্রকে পুত্র পায়, বধিরে শ্রবণ, শক্তিহীনে শক্তি পায় অন্ধেরা নয়ন । ছাত্রগণ উত্তরণ, হয় পরীক্ষায়, সর্ব্ব দুঃখ যায় দূরে শিবের কৃপায় । শিবরাত্রি উপলক্ষে হেথা সন, সন, মস্ত এক মেলা হয় বিদিত ভুবন । এবার হইবে তাহা দু’দিন ব্যাপিয়া, ফাগুনের ১ আর ২ নিয়া । এই সময় আসি হেথা বহু লোকজন, মহানন্দে করে সবে শিবের অর্চ্চন । কেহ পূজে ফলে ফুলে কেহ বিল্বদলে, কেহ দেয় কাচা দুগ্ধ মস্তকেতে ঢেলে । ধুপ দীপ নৈবেদ্যাদি বস্তু অলঙ্কারে, কেহ কেহ পূজে তারে ষোড়শোপচারে । কেহ নাচে কেহ গায় কেহ বৈসে শুনে, ঘুরে ঘুরে দেখে কেহ স্বজনের সনে । কেহ বলে শিব শিব কেহ সীতারাম, কেহ বলে কালী কালী কেহ বাধেশ্যাম । হরি হরি বলে কেহ নাচে বাহুতুলে, গুরু গুরু বলে কেহ ভাসে আঁখিজলে । শানাই টিকার বাজে গেটের উপরে, খোলে ঢোলে শিবধাম ঝম ঝম করে । মাঝে মাঝে হুলুধ্বনি দেয় নারীগণ, তাহাতে যে হয় আরো আনন্দ বর্দ্ধন । দোকান পসার সব বসে সারি সারি, মনমুগ্ধ হয় দেখে সন্দেশের কাড়ী । ফলমূল পড়ে বহু হয়ে স্তূপাকার , ভক্তগন খায় লুটে আনন্দ অপার । হেন শুভদিনে কেউ না রবেন ঘরে, সবাই আসুন ছুটে শিবের দুয়ারে । দর্শন স্পর্শন আদি শিবের করিয়া, ধন্য হয়ে যান সবে সন্তাপ নাশিয়া ।

rajeeb , , , , Leave a Comment on ওঁ ব্রজানন্দ ওঁ বাবা বুড়াশিবের চতুদ্দর্শী বা শিবরাত্রি মহাব্রত জয় বাবা বুড়াশিব নিত্যনিরঞ্জন, আদিদেব মহেশ্বর পতিত পাবন । তুমিই যে একমাত্র সর্ব্বমূলাধার, তুমি ভিন্ন ত্রিভুবনে কেহ নাহি আর । তোমারি ইচ্ছায় হয় সৃষ্টিস্থিতি লয়, তুমিই বিশ্বের কর্ত্তা সর্ব্ব শাস্ত্রে কয় । তুমিই রয়েছ সব ভুবন ভরিয়া , মায়াতে রেখেছ সবে আচ্ছন্ন করিয়া । তাই সবে অহঙ্কারে “আমি আমি করে, প্রকৃতি কর্ম্মে যেয়ে বদ্ধ হয়ে পড়ে । ঘুচাতে জীবের এই মোহের বন্ধন, বহুমত পথ তুমি করেছ সৃজন । জ্ঞান ভক্তি কর্ম্ম আদি যত পথ আছে , তার এক পথে গেলেই মোহ যাবে ঘুচে । প্রতিমাতে ঈশ্বর বুদ্ধি যাহাদের আছে, প্রতিমা পূজাই শ্রেষ্ঠ তাহাদের কাছে। মানুষে ঈশ্বর বুদ্ধি হয়েছে যাহার, গুরু পূজা করাই যে প্রশস্ত তাহার । যোগীদের আত্মাই যে শ্রেষ্ঠ উপাসনা, জ্ঞানীদের পক্ষে শ্রেষ্ঠ ব্রহ্ম বিচারণা । অধিকারী ভেদে শুধু উপাসনা ভেদ । মূলে কিন্তু বস্তুলাভ সকলেরই এক । মহালিঙ্গ রূপে তুমি করুণা করিয়া ঢাকাতে উত্থিত হ’লে মৃত্তিকা ভেদিয়া । কবে যে উঠেছ তাহা কেহ নাহি জানে, রমনার বনে ছিলে অতি সঙ্গোপনে । তুমি যে রয়েছ হেথা সদা বিদ্যমান, শাস্ত্রেতে রয়েছে তার যথেষ্ট প্রমাণ । তাই দেখে মহামনা আচার্য্য শঙ্কর, তোমার উদ্ধার এসে করিল সত্বর । তদবধি হ’ল ইহা মহাপূণ্য ধাম । চারিদিকে পড়ে গেল মস্ত এক নাম । দলে দলে লোকজন আসিতে লাগিল, পূজিয়া তোমারে সবে সন্তাপ নাশিল । পূজার বিধান করি দিলেন শঙ্কর, নিয়োজিত করি তাঁর এক অনুচর । তাঁর শিষ্যরাই ক্রমে মোহন্ত হইয়া, এপর্য্যন্ত আসিয়াছে পূজা চালাইয়া । বর্ত্তমানে আছেন যিনি মোহন্তের পদে, শিব অবতার বলি মানে তাঁরে সবে । ভগবান ব্রজানন্দ নামটি যে ধরে, শিব পূজা করি সবে তাঁর পূজা করে । এহেন অমূল্য রত্ন এখানে থাকায়, স্থানের মাহাত্ম্য আরো বাড়িয়াছে তায় এর আগে সেই পদে ছিল যেই জন, ত্রিপুরানন্দ নাম তাঁর জ্ঞানে বিচক্ষণ । তাঁর সমাধিটীও যে আছে শিবালয়ে, নমস্কার করে সবে ভক্তিযুক্ত হয়ে । শিবের ত্রিশূলখানি গাড়া যেই স্থানে শিশুদের চুল কাটি দেয় সেই খানে । আপদে বিপদে তারে কভু নাহি পায়, সুস্থদেহে থাকে সদা শিবের কৃপায় । ভক্তিভাবে শিবের স্থানে যে যাহা চায়, শিবের প্রসাদে সে তাহাই যে পায় । জ্ঞানীগণ পায় জ্ঞান যোগীজন যোগ, ভক্তগণ পায় ভক্তি , ভোগীগণ ভোগ । অপুত্রকে পুত্র পায়, বধিরে শ্রবণ, শক্তিহীনে শক্তি পায় অন্ধেরা নয়ন । ছাত্রগণ উত্তরণ, হয় পরীক্ষায়, সর্ব্ব দুঃখ যায় দূরে শিবের কৃপায় । শিবরাত্রি উপলক্ষে হেথা সন, সন, মস্ত এক মেলা হয় বিদিত ভুবন । এবার হইবে তাহা দু’দিন ব্যাপিয়া, ফাগুনের ১ আর ২ নিয়া । এই সময় আসি হেথা বহু লোকজন, মহানন্দে করে সবে শিবের অর্চ্চন । কেহ পূজে ফলে ফুলে কেহ বিল্বদলে, কেহ দেয় কাচা দুগ্ধ মস্তকেতে ঢেলে । ধুপ দীপ নৈবেদ্যাদি বস্তু অলঙ্কারে, কেহ কেহ পূজে তারে ষোড়শোপচারে । কেহ নাচে কেহ গায় কেহ বৈসে শুনে, ঘুরে ঘুরে দেখে কেহ স্বজনের সনে । কেহ বলে শিব শিব কেহ সীতারাম, কেহ বলে কালী কালী কেহ বাধেশ্যাম । হরি হরি বলে কেহ নাচে বাহুতুলে, গুরু গুরু বলে কেহ ভাসে আঁখিজলে । শানাই টিকার বাজে গেটের উপরে, খোলে ঢোলে শিবধাম ঝম ঝম করে । মাঝে মাঝে হুলুধ্বনি দেয় নারীগণ, তাহাতে যে হয় আরো আনন্দ বর্দ্ধন । দোকান পসার সব বসে সারি সারি, মনমুগ্ধ হয় দেখে সন্দেশের কাড়ী । ফলমূল পড়ে বহু হয়ে স্তূপাকার , ভক্তগন খায় লুটে আনন্দ অপার । হেন শুভদিনে কেউ না রবেন ঘরে, সবাই আসুন ছুটে শিবের দুয়ারে । দর্শন স্পর্শন আদি শিবের করিয়া, ধন্য হয়ে যান সবে সন্তাপ নাশিয়া ।