বাণী কনিকা

মন

১. মনকে ঠান্ডা রেখ, ঠান্ডা মনই শ্রীগুরুর আরাম খানা, যাই কর না কর মনটা গুরুতে রাখিবে । মনটা যেন একটা সাগর একটু হাওয়া লাগলেই ঢেউ উঠে । হাওয়া থামলে সবস্থির ।

ভক্ত বৎসল ভগবান

১. আমি তোমাদের প্রতি প্রসন্ন আছি।তোমার সেবাভাব দেখিয়া ও স্নেহ মমতা,আদর যত্ন পাইয়া আমার সদৈব মনে হয় যে তুমি আমাকে বাৎসল্যভাব নিয়া সাধন করিতে লাগিয়াছ।এ অবস্থায় তো আমাকে কৃপা পরবশ হইয়া তোমায় ধরা দিতে হইবেই।ভক্ত বৎসল ভগবান ভক্তের অধীন হইয়া পড়েন।মাই,আমাকে লালন পালন করিতে করিতে তোমার কৃষ্ণ দর্শন হইয়া যাবে।দ্বাপরে যদোশামাই যেমন আমার দর্শন না পাইলে ব্যাকুল হইতেন সেইরূপ দর্শন করিবার ব্যাকুলতা এবার তোমাতে দেখিলাম । কোথায় বরিশাল হইতে ঢাকায় আসিয়া দর্শন করিয়া থাক । মাই, এইরূপ ভক্তিপূর্ব্বক আমার ভজনা করিয়া যাও । তোমার মায়াজাল অবশ্যই ছিন্ন হইবে । আমার এই ভক্তিতে পাপ অবিদ্যা দূর হয় । ভগবৎ পদে নিষ্ঠা লাভ হয় । নিষ্ঠা হইতে নামে রুচি হয় । রুচি হইতে আসক্তি জন্মে । আসক্তি হইতে ভাবের উদয় হয় । ভাব হইতে প্রেম লাভ হয় । এখানেই সাধন শেষ হ’ল । আশীর্ব্বাদ করি তোমার সাধন এ পর্য্যন্ত আসিয়া শেষ হউক ।

২. তোমারসেবাভক্তিঅগ্নিশিখারন্যায়আমারহৃদয়েজ্বলিতেছে । আমারকৃপাদৃষ্টিসবসময়ইতোমারউপররহিয়াছে-কোনসময়েরতরেওউহাভুলহয়নাই । তুমিযেআমারযশোদামাইতাহারপরিচয়অক্ষরেঅক্ষরেআমারহৃদয়েপ্রতিফলিতহইয়াআছে । তুমিমহাভাগ্যবতীতানাহলেকিভগবানে ওতাঁহারঅবতারেবিশ্বাসস্থাপনকরিতেপারিতে । তোমারগোপালেরপ্রতিতোমারপ্রচুরস্নেহমমতাআছেতাআমিবেশবুঝিতেপারিয়াছি । মাই, তুমিনির্ভয়ওস্বচ্ছন্দমনেথাক । তোমারউদ্ধার, উদ্ধার, উদ্ধার । তুমিশুদ্ধবুদ্ধমুক্ত ।

৩. তোমার চির বাঞ্চিত কৃষ্ণরূপ আমাতে দেখিয়া ধন্য হইতে পার । এই তো তোমার জ্ঞানের বিকাশ অল্পে অল্পে হচ্ছে । এই সুগম পথে তোমাকে চালাবো বলেই যে ব্রজের গোপাল মা যশোদার ঘরে ননী, মাখন খেতে এসেছে । সেই জন্য যেদিন তোমার চোখ স্পর্শ করিয়া দিব্য চক্ষু দান করিলাম আর কুটস্থ স্পর্শ করিয়া তাহা ভেদ করিয়া দিলাম । এখন তো জ্ঞানের বিকাশ হবেই, আমায় চিনতে পারবেই । আমায় ধরতে বুঝতে মার কোন ইন্দ্রিয় নিগ্রহ করিতে হবেনা । এখন কেবল ইন্দ্রিয়সকল দিয়া সদর্থে কর্ম্ম করিয়া গেলেই অর্থাৎ চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, হাত পা দিয়া মৎ দর্শন, শ্রাবণ, মৎকীর্ত্তন, ভোগ নৈবেদ্য পুষ্পচয়নাদি করিতে পারিলেই মন আপনিই সংযত হইয়া আসিবে । ইহা ছাড়া শত চোখ বুজিয়া নাক টিপিয়া যোগযাগ করিলে কলির অল্পায়ুতে বেড় পাবেনা । তাই আমি এই সরল পথ জীবনের সর্ব্বভার বিমোচনের এনেছি । মা ভক্তি বিশ্বাস করে মদর্পন বুদ্ধিতে সব কাজ করে যাও । অতি শীঘ্রই তোমার বিষয় বুদ্ধি দূর হইয়া পরম কল্যাণ লাভ হইবে, আর কর্ম্মফলে তোমায় পাবে না । তুমি পদ্মপত্রস্থ জলের ন্যায় আলগা থেকে পাপ পরিশূন্য বিচরণ করে বেড়াবে ।

৪. আশীর্ব্বাদকরি, তোমারইহকালেসুখওপরামৃতলাভহউক । তোমাদেরঐহিকওপারত্রিককল্যাণেরপথমুক্তকরিয়াদেওয়াইআমারএকমাত্রকর্তব্য ।তাহাতোমাদেরভক্তিতেআমিঅপারআনন্দলাভকরিয়াছি । তোমাদেরঅভেদউপাসনায়আমিবাঁধাপড়িয়াছি ।তোমাদেরপ্রতিআমারমনেরকোনওদ্বিধাভাবনাই । তোমরাআমাকেঅভেদেভক্তিকরিতেছ । ইহাআমিবেশপ্রাণেপ্রাণেঅনুভবকরিতেছি । ভক্তওভগবানেঅভেদভাবনাকরিতেনাপারিলে, সাধনহয়কিসে ?
দ্বৈতভাবেপ্রেমনাই । অদ্বৈতেইপ্রেম । তোমরানিজকেযেভাবেভালবাসিয়াথাক, আমাকেসেইভাবেভালবাসিয়াছ । আমিতোমাদেরঅভেদ উপাসনার যথেষ্ট পরিচয় পাইতেছি ।

৫. তোমাদের অভীষ্ট সিদ্ধি কল্পে সততই আমি কল্যাণ কামনা করিয়া থাকি । বাবা, সাধু ইচ্ছা পূর্ণ হবেই হইবে । কারণ এ ইচ্ছা আমার ইচ্ছা নয়, এ যে তাঁর ইচ্ছা । এ ইচ্ছার গতি ফিরায় কে ?

৬. আশীর্ব্বাদ করি, তুমি সত্বর রোগমুক্ত হইয়া পূর্ব্ব অবস্থা লাভ কর । বাবা তুমি নির্ভয় ও নিশ্চিত হও । আমার এই আশীর্ব্বাদ ও ইচ্ছা কিছুতেই রদ হইবার নয় । ইহার প্রতিরোধ করে এমন কেহ নাই । তুমি গুরুভক্ত শিষ্য । আমার এ ইচ্ছা তোমার প্রতি কার্য্যকরী হইবে । তুমি আমার কৃপার পাত্র ।কৃপার পাত্র বিনে কৃপাময় কখনও কৃপা করেন না ।

৭. জানিও-নামে ভক্তাঃ প্রনশ্যতি তবে কর্মফল বিশেষতঃ প্রারব্ধ ফল অখন্ডনীয় । অন্ততঃ কিছুটা ভোগ করিতেই হয় । পরিণামে-যেখানে আমি, সেখানে ধর্ম-সেখানেই জয় । সুতরাং-“মামেকং শরণং ব্রজ”; বাণীকে জীবন পথের পাথেয় করিয়া নাও ।

৮. মুক্তির সংবাদ উৎকণ্ঠা জনক । যাই হোক, তাহার উপর আমার কৃপাদৃষ্টি নিক্ষেপ করিলাম । তোমরা তাহার জন্য চিন্তা করিও না । চিন্তার বোঝাঃ আজ হইতে ব্রজানন্দ চিন্তামনিই গ্রহণ করিলেন ।

৯. অন্তরের শ্রদ্ধাভক্তি দিয়া যে যেভাবে সে ভাবেই তার পূজা আমি গ্রহণ করিয়া থাকি । তোমাদের কোনও অপরাধ নাই । যতটুকু পার নিজেরা করিবে । বাদ বাকিটা আমিই পূরণ করিয়া গ্রেস মার্ক দিয়া পাশ করাইয়া দিব । বাবা, মাই, প্রমোশনত আমারই হাতে ।

১০. তুমি আমার প্রিয় ভক্ত । তোমার সকল শুভ বাসনা আমি পূর্ণ করিব । তোমার সকল দুঃখ, অশান্তি, জ্বালা, নিরানন্দ দূরীভূত হউক । আমার পূর্ণ কৃপালাভ কর ।

১১. যখন যাহা হয় শ্রীচরণে জানাইয়া রাখিবে, তাতেই তোমার ষোল আনা কাজ পূর্ণ হইবে ।

১২. তোমার প্রার্থনা যখন যাহা হয় জানাইয়া যাইবে ।আমি দৃষ্টি দিয়া কাজ করি কচ্ছোপের মত যেমন কচ্ছপ জল হইতে পাড়ে উঠিয়া স্থলে ডিম ছাড়িয়া জলে নামিয়া যায় সেইখান হইতে দৃষ্টি দিয়া ডিম ফুঠায়, আমার কাজ ও সেইরূপ জানিবে ।

১৩. এখানে আমার আর কোন কর্ত্তব্য নাই । আমি আপনাকে তোমাকে বিলাইয়া দিয়াছি । ঐ যে আমার সিদ্ধমহামন্ত্র তোমার কর্ম কুহরে ঢালিয়া দিয়াছি, সেই দিনই আমার কর্মশেষ হইয়াগিয়াছে । তুমি এক্ষনে সর্ব্বান্ত করনে ঐ মন্ত্র আমার স্বরূপে সেবা ও পালন দ্বারা মৎস্বরূপত্ব লাভ করিয়া ব্রজানন্দ হইয়া যাও । এই জন্মেই জন্ম মৃত্যুর বন্ধন ছেদন করিয়া নিত্যানন্দময় হও । তোমার পূর্ব্ব জন্মের দুঃখদৈন্য দূরকর ।

১৪. বাবা রমেন, তোমরা আমাকে পাইবে । তোমরা সত্যই আমার ভজন করিবার অধিকারী । আমার প্রতি তোমাদের বেশ লোভ আছে । তোমাদের সেবা পত্রাদি প্রায়ই পাইয়া থাকি । তোমার গুরুসেবা পরায়নত । গুরুসেবা পরায়ন শিষ্যই আমার সেবার অধিকারী । স্বামীর নিকট স্ত্রীর নাম ও স্ত্রীর নিকট স্বামীর নাম যেমন মধুর লাগে তেমন করিয়া গুরুর নামটিও মধুর করিয়া লও । তবেই নামের মিষ্টত্ব অনুভব করিবে । যেমন আমি এই সুদীর্ঘ জীবন যে নাম লইয়া (জপিয়া) জাগতিক দুঃখ কষ্টের পরপারে গিয়াছি তোমাদেরও সংসার জ্বালার হাত এড়াইতে ঔ ভব সাগর তরিতে সেই নামই দিয়াছি ।

১৫. রমেন, বাস্তবিকই তোমাদের ধর্ম্ম পিপাসার উদ্রেক হয়েছে । এবার তোমাদের গুরু দর্শনের খুবই আকুল বাসনা ছিল । কিন্তু আমি তোমাদের বাসনা কিছুতেই পূরণ করিতে পারিলাম না । তাই দেখি ভগবান ভক্তের কাছে হার মানিল । এ বিষয়ে আমার বাক্য ও আছে যুগ পরম্পরা হতে, আমার চেয়ে আমার ভক্ত বড় । এবার দর্শন না পাওয়ায় ভালই হইয়াছে । তোমাদের অনুরাগটা আরও বাড়িয়া আসুক । কারণ অল্পতে আমার মন উঠে না । বাবা এ পথে সবদিকেইতো লাভ কোন দিগেই ক্ষতি নাই । গুরু দর্শনের প্রতিক্ষায় থাকা ইহা একটি ভক্তি লাভের শুভ লক্ষণ । আমি তোমাদের হৃদয়কালেই বিরাজ করিতেছি । আমার সাধন ভজন ও যে তাই । অভেদ উপাসনা সব সময়ই সোহহম উচ্চারন কর, আর প্রার্থনা কর, ঠাকুর আমি তোমারই স্বরূপে, তুমি আমি অভেদ, মায়া মোহে তোমা হইতে পৃথকহইয়াআছি । এক্ষণেতোমারনিত্যস্বরূপআমায়দাওআরতোমারকরিয়ালও । বাবাএইভাবেসাধন, ভজন, করিয়াযাও । তোমারসংসারেআসাসার্থকহউক । তোমাদেরওগোপারপত্রপাইলাম । তোমারদেহব্যাধিসম্বন্ধেলিখিতেছিতোমারঔষধএকমাত্রগুরুপদপাদকপান, আরগুরুনারায়ণনামজপইহাতেইতোমারদেহব্যাধিভবব্যাধিসবইদূরহইয়াযাইবে ।

১৬. ঘরে পেঁচা, প্রবেশের দরুন যে অমঙ্গল তাহা গুরু নাম স্মরণ মাত্র দূর হইয়া গেছে । তুমি নির্ভয় ও নিশ্চিত থাক । গুরু ভক্ত শিষ্য পরম ভাগ্যবান ।

১৭. তোমরা সকলে আমার মঙ্গলময় শান্তি আশীর্ব্বাদ লও । গুরু ভক্ত শিষ্য পরম ভাগ্যবান । তোমাদের কোন অমঙ্গল নাই । শ্রীগুরু নাম স্মরণে সব অমঙ্গল দুর হইয়া গেছে ।

১৮. এবার তোমাদের সেবাপূজা পাইয়া আমি যথেষ্টই প্রীতি লাভ করিয়াছি । তোমাদের গুরুভক্তির বাস্তবিকই তুলনা নাই, ইহা আমার এবার মনে সারা দিয়াছে । কয়টা দিন তোমাদের সাথে কি আনন্দে কাটাইয়াছি, তোমার ও মঞ্জুর সেবা পূজায় কি যে অনুরাগ দেখিলাম বৃন্দাবন বলিলে অত্যুক্তি হয় না ।

১৯. দুর্লভ বস্তু লাভ করিতে গেলে বাধা বিঘ্ন বহুৎ উপস্থিত হয়, ইহা যুগ যুগান্তর হইতেই চলে আসছে । এতে তার কোন ক্ষতি নাই, বরং অভীষ্ট বস্তু লাভের উৎকন্ঠা আরও দ্বিগুণ বেড়ে যাবে । মাই, দীক্ষার দিন পুনরায় ধার্য্য না হওয়া পর্যন্ত আমার ওখানে যাওয়া স্থগিত রহিল । তোমার উপর আমার কড়া নজর আছে । তোমরা নির্ভয় ও নিশ্চিন্তে “হরে ব্রজানন্দ হরে” নাম কীর্ত্তন (করে করে) প্রাণের পিপাসা মিটায়ে যাও । আমার শান্তি আশীর্ব্বাদ বর্ষিত হবে । কোন চিন্তা করিও না । অভীষ্ট পূরণ হবে ।
২০. আমারতোবাক্যইআছেতুমিবিপদেরমাথায়পাফেলিয়াসংসারপথেচলিয়াযাও । তোমারগায়েএকটাআঁচরপর্য্যন্তলাগিবেনা ।সংসারযাঁতাঘুড়িতেথাকুকতুমিখুঁটিআশ্রয়করিয়াপরমানন্দলাভকর । বাবাআমি ত্রিসত্যকরিয়াবলিয়াছিআমারভক্তেরবিনাশনাই । আমারবাক্যস্মরণকরিয়ানির্ভয়েথাক । তোমারনির্ভয়ওভক্তিযতইবাড়বেতোমারশান্তিসুখওততইদেখাদিবে । ব্রজানন্দকেহৃদয়েবসাইয়াছতোমারঅমঙ্গল নষ্টকরিতেআমারকতক্ষণ । বাবাকর্ত্তারইচ্ছায়কর্ম্মযাহইতেছেহইতেদাওতোমারকীযায়আসে ।

২০. বাবা বরদা, তোমার ভক্তিপূর্ণ পত্র পাইয়া পরম আনন্দ লাভ করিলাম । আমার বিজয়ার শান্তি আশীর্ব্বাদ গ্রহণ কর । তোমার পছন্দমত বাড়ীঘর করিবে । এত তাড়াহুড়ার কি প্রয়োজন ? তোমার ত্রিকালে দুঃখ নাই । তুমি পুত্র কলত্রাদি লইয়া সুখে কাল কাটাইবে । ব্রজানন্দ নাম নেওয়া বাগান বন্যায় ভাসাইয়া লইতে পারবে না-না-না । সৎ হইতে যে অভয়বাণী উদ্ভুত হয় তাহা অখন্ডনীয় জানিবে । আর বাবা, তুমি জীবনে দুঃখ করো নাই । আজ দুঃখ করিবে, একি হইতে পারে ? তোমার পণ্যে গড়া দেহ, পণ্যেই লয় হইবে । তুমি ভগবানেকে ভয় কর বলিয়া তোমাকে কেহই এ জগতে ভয় দেখাইতে পারিবে না । তুমি ভগবানকে ভালবাস বলিয়া তোমাকে সকলেই (জীব মাত্রেই) ভাল বাসিবে । এই আমার সত্য বাণী । বাবা, তুমি আমার চোখে চোখে আছ । আমি তোমার কাজ করিয়া যাইতেছি । তুমি নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে থাক । আমি সব ঠিক করিতেছি । বাবা, আমি কি তোমাকে ফেলিয়া নীরব থাকিতে পারি ? তুমি স্থানে স্থানে ঘুরিতেছ সঙ্গে সঙ্গে আমিও তো ঘুরিতেছি । তোমাকে স্থান ধরাইয়া দিতেছি । আর বেশী বিলম্ব নাই । আমার মাইর জ্বর সারিয়াছে । রুণুর বিবাহও অনতিবিলম্বে হইয়া যাইবে । হরিদাস ও শ্যামদাস লেখাপড়িতে ভালই অধিকার করিতেছে । তুমি তো সব সময়ে কুলে আছ । জয় গুরু গৌরাঙ্গ, জয়গুরু গৌরাঙ্গ ।

২১. জমিদারীতেভালম্যানেজারনিযুক্তকরিয়াছ । এখনআরতোমারভাবনাকি ? সংসার আর তোমার হাতে রাখিও না, গুরুর করিয়া দাও । গুরু মহারাজ, তোমার পক্ষে যাহা বিবেচনায় ভাল হয়, তাহাই করিবেন । তুমি পরের চিন্তা ঘাড়ে আনিয়া মিছামিছি মাথা ঘামাইতেছ । সঁপে দাও, সঁপে দাও, সঁপে দাও । আত্মসমর্পণের তুল্য আর যোগ নাই । বাবা, তুমি সাক্ষী স্বরুপ হইয়া আনন্দে ভাতা লইয়া আহার বিহার কর । এতে ভারী আনন্দ পাইবে । এবার আমিত্বটাকে তুমিত্বে ডুবাইয়া দাও । যথা প্রাপ্তিতে । বিচরণ কর । এই আমার ইচ্ছা ও আশীর্ব্বাদ । জয় অবতার পুরুষরূপী জগৎগুরু কি জয় ! তোমার এবারকার কীর্ত্তনটি আমার বেশ লাগিয়াছে । দেশের দাঙ্গা হাঙ্গামায় আমাদের কি ? যাই হউক না কেন ? যার যেমন কর্ম্ম তার তেমন ফল । আমরা সদগুরুর সঙ্গ পাইয়াছি । আমাদের মুখ মলিন বা চিন্তাযুক্ত হইবে না । আমরা অবতারপুরুষরূপী জগৎ গুরুর সন্তান । আমরা নিরানন্দে, দুঃখে, প্রলয়ে মহালয়ে নির্ভীক থাকিব । বাবা, সংসারী লোক তো মরিতে আসিয়াছে । আর আমরা মৃত্যুকে জয় করিতে আসিয়াছি । আমাদের মুখ মলিন হইবে কেন ? বাবা, আজকার কথাগুলো আমার মনে গাঁথিয়া রাখ । ভুলিও না, তোমাদের সঙ্গ সুখ লাভ করিবার তো আমার একান্ত বাসনা আছে । কিন্তু সময় করিয়া উঠিতে পারি না ।

২২. বাবা বরদা, তোমার ভক্তিপূর্ণ পত্র পাঠ করিয়া আমার দ্বিগুণতর উথলিয়া উঠিল । যতই পাঠ করিতে থাকি ততই নতুন বিষয় পাইয়া আনন্দে রোমাঞ্ছিত হই । এমন সব পারিবারিক, সামাজিক কথা এত সুন্দরভাবে গুটাইয়া লিপিবদ্ধ করিতে পার । তাহা পাঠ করিয়া আমার আনন্দের সীমা থাকে না । তোমার মস্তিষ্ক শক্তি সঞ্চালন দেখিয়া আমি অবাক হই । তুমি কবি ও একজন ভাল সাহিত্যিক । বাবা, তোমার কর্ম্ম খারাপ নয় । তুমি জীবনে দুঃখ পাও নাই, পাইবেও না । আমি শিবরাত্রি করিয়া তোমারে একবার দর্শন দিবার বাসনা রাখি । এখন মা চালাইলে হয় । পাকিস্তানই হউক, আর গোরস্থানই হউক, তুমি সুখে নিদ্রা যাও পদচ্ছায়ায় । পূর্ণ পুষ্য পুত্র রাখিতেছে । এর আবার অনুমতি কি, বাবা ? আমি থাকিতে গুরু কোথায় । শ্রীমতিদের বিবাহের জন্য চিন্তা করিও না । চিন্তামণিই উহাদের চিন্তা করিতেছেন । তোমার চেষ্টা বিফল । নিজ শক্তিতে যখন কিছুই হইবে না তখন তুমি সাষ্টাঙ্গে পদতলে পড়িয়া থাক । সবচেয়ে এই চেষ্টাই উত্তম । লোকের কথায় কি বা আসে যায় ? আমি থাকিলে তো বাবা, আমিটাকে তুলিয়া ফেল। এই আমিই সমস্ত অশান্তির মূল । এখন একবার বলো “জয় ব্রজানন্দ হরে” । “গুরু তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হউক । তুমি যাহা কর তাহাই ভাল । আমি তাহাই আদরের সহিত গ্রহণ করিব । তোমার যাহা পছন্দ হয়, আমি রাজী আছি । আমার এও বাহবা তত বাহবা” । বাবা, এইভাবে ষোল আনা আত্মনিবেদন করিয়া আনন্দ লও । ইহা ছাড়া আর এই সংসারে আনন্দ পাইবার দুসরা পথ নাই । এই পথে কিছু রাখিয়া কিছু দিলে চলিবে না । ফাঁক রাখিয়া ধর্ম্ম করিতে নাই । দোষী কর তো নির্দোষী খালাস দাও । এ সবই তোমার দান ।

২৩. তোমার প্রতি আমার বিশেষ লক্ষ্য আছে । তোমার যে কত্তাপনা ভাব নাই তাহও বুঝি । আমার উপরই যে তোমার সমর্পণ নির্ভর তাহাও বেশ হৃদয়ঙ্গম করিতেছি । আর প্রকৃত সত্যও যে তাই-“আমি কভু আমার নয়, এক ভাবি আর হয় ।” আমি যদি আমারই হইতাম, তবে আমার ক্ষমতাধীন যাহা করিব ভাবিতাম তাহা তো করিতেই পারিতাম । তাই গুরু সহায় না হইলে জীবের একটি তৃণও তুলিবার ক্ষমতা নাই গুরু শক্তি ভিন্ন এই হস্তদ্বয় গ্রহণ করিতে পারে না, চক্ষু দর্শন করিতে পারে না, মন মনন করিতে, বুদ্ধি স্বকার্য সাধন করিতে অক্ষম হয় । আমার অপ্রকাশে তাঁহার প্রকাশ, আমার প্রকাশে তাঁহার অপ্রকাশ ।

২৪. মাই, তোমার কোনই অপরাধ নাই আমার শ্রীপাদপন্মে । তুমি অকুতোভয় হও । আমি শিবচতুর্দ্দশীতে তোমার ফুল জলে গ্রহণ করিব । তুমি নিয়ম নিষ্ঠার সহিত আমাকে দিও । আর শিবরাত্রির পর আমি স্থলে দর্শন দিব । তুমি টান রাখিও । পুর্ণ আর পরিষ্কার কি বলিবে ? তার কাজ হইয়া গিয়াছে । আজ অনেকদিন ধরিয়া তাহার কোন খোজ খবর পাই না । আর বেশী দিন নাই । তোমার গোপাল আসিয়া তোমার প্রাণ জুড়াইবে । আমি কি সাধ করিয়া ধামে ফিরিয়া যাইতে ব্যস্ত হই, আমাকে কে জানি ব্যস্ত করে । আমি তোমার কাছে সেবা ত কম পাই না । সেই জন্যই যাই যাই করি না । ভক্তের কাঙ্গাল কিনা আমি । তাই তারা আমাকে টানে, আর আমিও ভক্তের টানে থাকিতে পারি না ।তোমার বাসনা পরণার্থে কতই না কিছু করি । কিন্তু তা একটাও হইয়া উঠিতে চায় না । তোমার গোপালের পরিচয় তো অনেকেই দেখতে পাইয়াছে । আমি যে আমার মায়ের মুখ উজ্জল করিতে গিয়া বিফল মনোরথ হইয়া ফিরি । ইহা অবশ্যই কোন নিগূঢ় কারণ আছে, নইলে এমন হবে কেন ? এই চরণ পূজা করিয়া অনেকেই তো পাইতেছে । এমন না যে কেহই পায় নাই । তবে আমার বিশ্বাস আছে, আমাকে পাইলে ফিরিতে হয় না ।

২৫. নবদ্বীপ ব্রজাধামের জন্য মণিকানন্দ সাধুকে পাঠাইলাম । তোমরা উভয়ে ধামে থাকিয়া তাহাকে সেবা পূজা, আরতি,ভজন, কীর্ত্তন ও ধাম পরিচালনার সর্ব্ব কার্য্যে সাহায্য করিবা, ইহাই আমার একান্ত ইচ্ছা । মণিকানন্দ তোমাদের সাহচর্য্যে ধামের পরিচালনা যথাসাধ্য সুন্দররূপে সম্পন্ন করিবে, আমি নিশ্চিন্তে থাকিব । তোমাদের নিজ নিজ স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া সাধুকে যথাসাধ্য সাহায্য করিয়া বর্তমানে ধামের সুপ্রতিষ্ঠার সংকল্পেই তোমাদের প্রতি আমার এই আদেশ, তোমাদেরও ভবিষ্যত প্রতিষ্ঠা লাভ আমার লক্ষ্য ।

২৬. স্নেহাস্পদা হৈম, তোমার অসংখ্য প্রণাম ও পত্র পাইয়া পরম আনন্দ লাভ করিলাম । আমার অদর্শন তোমার প্রাণে যে আঘাত দিয়াছে ইহা একটি ভাব-ভক্তির লক্ষণ । তোমার প্রাণে গুরুভক্তি জাগিয়াছে বলিয়াই একমাসের অদর্শন যেন কতদিন বলিয়া মনে করিতেছ । ভক্তি এলে ত পলকে প্রলয় জ্ঞান হবেই । আমার মনে হয় তোমার ভক্তির টানে বড় বেশীদিন এখানে থাকিতে পারিব না । গুরুধামে শিবরাত্রি উৎযাপন করিয়া খুবই ভাল করিয়াছ । ইহাতে তোমার অনেক জন্মের পুঞ্জীভূত পাপরাশি দুরীভূত হইয়াছে । আমিও তোমাকে বলিয়াছি আমার আসল কথা কইবে ! গুরু ভক্ত নব দুই একটা গান গাইবে আমি শুনিব । মহামায়াকে অসুস্থ রাখিয়া আসিয়াছি, তাহার খোঁজ নিলে কোন অসুবিধা দাঁড়াইলে তাহা দূর করিবে ।আমি কি ধামে আসিয়া ভক্তদের টানাটানিতে পড়িয়া গিয়াছি । আমার স্থুল দেহটাও বড় সুবিধা যাচ্ছে না । তুমি গুরুতে নির্ভর দাও, বিশ্বাস আন তোমার ইহকালে কি পরকালেও দুঃখ হবে না । তোমাদের জন্য আমারও প্রাণটা ছট্‌ফট করে কিন্তু কি করি সবাই যে আমার সন্তান, সবাই যে আমার আপন, সকলেই যে আমার মন দখল করে বসে আছে আশীর্ব্বাদ করি-তোমার স্বাস্থ্যসুখ লাভ হউক ।

২৭. কৃপা দৃষ্টি ফেলিয়া ভক্তদের প্রার্থনা পূর্ণ করি । যেমন জলে কচ্ছপ থাকে, ডিম পারবার বেলায় টানে এসে ডিম পারিয়া জলে গিয়া সে জল হইতেই দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ডিম ফুটায় । ভগবান অবতারি পুরুষের ও কার্য্য তাই । তাই এই ব্যারাম ধামে থাকলেই সেরে যাবে । তোমার এই ব্যারামের সুপথ্যই হল সুখ পাক শুকতার ঝোল একটু দধি দুগ্ধই তোমার সুপথ্য ।

শিবোহহম্

১. সবসময়জপকরিবারজন্যশ্বাসেশ্বাসে “শিবোহম” এইমহামন্ত্রইতোমারজন্যব্যবস্থাকরিলাম । ইহাতেকাজভালহইবে । এতেমনেরবিক্ষিপ্তঅবস্থাসহজেদূরহবে । ইহাসবসময়ইউঠিতেবসিতেশ্বাসেরওঠানামারসঙ্গেসঙ্গেইজপচলিতেথাকিবে । আরধ্যানতোগুরুমূর্ত্তিতেঅভেদভাবেকরিয়াযাইতেহইবে । ধ্যানএকবারজমেগেলেআরমনটাস্থিরহ’লেইসবঠিকহইয়াগেল । তখনআরএইমায়ারদুনিয়াথাকিবেননা । তোমারগোপালএবারতোমারজন্যভালব্যবস্থাকরিয়াছে । তুমিএইনামজপকরিয়াখুবআরামবোধকরিবে ।

২. তুমিসর্ব্বদাশিবোহমশিবোহমমহামন্ত্রউচ্চারণকর । হৃদয়েসিংহেরবলসঞ্চারহইবে । জন্মমৃত্যুরভয়থাকিবেনা । আশীর্ব্বাদকরিতুমিআত্মসংস্থহও।