বাণী কনিকা

শীক্ষার্থী উপদেশ

১. তুমি শ্রীগুরুকে স্মরণ ও ভক্তি করিয়া যে বিষয় লইয়া দাঁড়াও তাতেই আমি তোমার মনোনিবেশ করিয়া দিব এবং তুমি ভালভাবে উত্তীর্ণ হতে পারিবে । তুমি গুরু বাক্যে বিশ্বাস করিয়া তোমার মনে যে বিষয় (Subject) ভাললাগে নিঃসন্দেহ চিত্তে সেই বই পাঠ করে যাও গুরুর কৃপায় অতীব সহজ বোধ হবে ।

২.আমার নাম ও মূর্তি স্মরণ করিয়া যেন প্রশ্ন পত্র পাঠ করে এবং খাতায় লিখিবার সময়ও যেন (জয় ব্রজানন্দ) বলিয়া লিখিতে আরম্ভ করে ।

৩. তুমি “জয় ব্রজানন্দ” নির্ভয়ে বলে মন্দিরে যাবে পরীক্ষা দেবে । আমি তোমার কন্ঠে থাকবো । সামান্য দারগো বাড়ীর চাকরকে দেখে লোকে কেমন ভয় পায়, তোমার তো ভগবান আত্মীয়, তোমায় ফেল কয় কে ? এমন শক্তি কার আছে ? তুমি পড়ে যাও ।

নিরাময়

১. তোমার পেটের অসুখের জন্য কাঁচা বেল পোড়া খাবার ব্যবস্থা করলাম । ছটাকখানি বেলপোড়া সামান্য ইক্ষুগুড় সঙ্গে সকালে অন্ততঃ সপ্তাহ খানেক খালি পেটে খাবে । তোমার পেটের অসুখ থাকবে না । মাথা ঠান্ডা ও স্মৃতিশক্তির বৃদ্ধির জন্য আর একটি বস্তু আদিষ্ট হয়েছি । তুমি এককাঁচ্চাইসবগুলেরভূষিওরসঙ্গেএককাঁচ্চাচিনিমিশাইয়াসকালেশনিমঙ্গলবারখাবে ।(বেনেদোকানেপাওয়াযায়) তুমিবিশ্বাসকরেখেলেহাতেহাতেফলপাবে ।তোমারমাথারচুলওঠাবন্ধকরারজন্যআরএকটিবস্তুআদিষ্টহইয়াছি-“আমলাহেয়ারঅয়েল” বাজারেতৈলেরদোকানেপাওয়াযাবে । এইতৈলমাথায়দিয়েস্নানেরসময়স্নানকরো । বুড়াশিবেরআদেশপ্রাপ্তহ’য়েলিখলাম । আমারবাবামাইরসেবাভক্তিআমারহৃদয়েগাঁথাআছে । তাদেরযমেছোঁবেনা, অসুখবিসুখকিকরতেপারে ?

২. পূরবীমায়েরদেহেরএলার্জিরএবংজ্বালাপোড়াসম্বন্ধেশিবেরআদেশেএইবস্তুটিপাইয়াছি-অশোকারিষ্টও সারিবাদিরিষ্ট একচামচএকচামচ (চাচামচ) দুইটাএকত্রেমিশাইয়ামধ্যাহ্নেভোজনেরপরসেবনকরবে । আশাতীতফলপাবে । শক্তিবাসাধনাঔষধালয়েপাওয়াযাবে ।

৩. মানিকেরঅসুখেরজন্যশিবসকাশেআদেশপাওয়াগেছে-গোয়ালেপাতারশিকড়েররসআধাতোলাআরকাঁচাদুগ্ধআধাপোয়াসকালেবৈকালেসেবনকরিবে । এতেইতারসবরোগসেরেযাবে ।

৪. মাঝে মাঝে ডাইলে সেফালিকা পাতার সফং খাইবে ও ঐ পাতার বরা খাইবে । ইহাতে তোমার দেহে কোন রাগই থাকিবেনা এবং দেহ সবল এবং পুষ্ট হইবে ।

৫. তোমার পেট ব্যথা দূর হইয়া যাইবে, তুমি একটু করিয়া সকাল বৈকাল গোপাল ব্রজানন্দ বলিয়া কাল লবণ খাও । আমার বাবাকে একটু পুরান তেঁতুল ভিজান জল খাইতে দাও সেবার পরে । আর মতিহারি দোক্তা পাতা একটু মুখে রাখিতে দাও । সব আপদ বালাই দূর হইবে ! গোপালের ঔষধ অব্যর্থ ।

বুড়াশিববাড়ী বর্ণনা

১. বুড়াশিববাড়ীতেদূর্গামন্দিরআছে ।চারদিনদূর্গাপূজাহয়। এখানেআমারগুরুপিতারসমাধিমন্দিরআছে ।তাতেদৈনিকপূজাহয় । আমারচারিটিশিষ্যেরসমাধিমন্দিরআছে । শিবেরগোশালায়গাভীআছে । দুধেরকষ্টনাই ।শিবেরফুলেরবাগানআছে ।শাকশব্জিরবাগানআছে । ফল, ফুলশাকশব্জীযথেষ্টপাওয়াযায় ।এখানে “বানেশ্বর” শিবেরমন্দিরআছে । “মহাবীরের”মন্দিরআছে । শিবেরধূনিঘরআছে ।

-0-

শিষ্য

১. আমার সুশীতল শান্তিময় কোলে স্থান দিয়াছি । স্থানছাড়া করিব না ইহাই আমার সত্যবাণী ।
২. শ্রীচরণই যখন তোমার একমাত্র সম্বল তবে তো তোমার তরী ভবসাগর হতে সব চেয়ে আগে ফল পাইয়াছে । আর চিন্তা কি ? নির্ভয় ও নিশ্চিন্ত থাক, পারের তরীতো পেয়েছ ।
৩. নববর্ষের মঙ্গলময় শান্তি আশীর্ব্বাদ গ্রহণ করিয়া অতীতের সকল প্রকার হিংসা দ্বেষ,অশান্তি ভুলিয়া সকল গুরুভাই বোন মিলিয়া শ্রীশ্রীব্রজানন্দের অমৃতময় শান্তির আবহাওয়া সৃষ্টি করিয়া সকলেই জীবনকে সাফল্য ও ধন্য কর।

৫. দেশে শান্তি নাই । “উল্টা বিচার করলি রাম” । কোথায় স্বাধীনতা ? এ যে পরাধীনতার একশেষ । মালিককে ভুলিয়া গিয়াছে তাই লোকের এত দুর্গতি আশীর্ব্বাদ করি তোমার শান্তি ফিরিয়া আসুক । তুমি তো পথ হারা হওনি । তোমার অশান্তি ক্ষণিকের । তুমি সাধন ভজন না জানিলে গোপাল পাইলে কি করিয়া ? তোমার গোপাল এইটি ঠিক থাকিলে তোমার সবই হইয়া গেল । আর কোন কিছুরই দরকার নাই তোমার । মাই পুতনার শিক্ষা লাভের কথা মনে কর । যার অপার করুণায় বিষের পরিবর্ত্তে অমৃত পাইল । পুতনা রাক্ষসের জন্ম ঘুচিয়া গেল । গোবিন্দের আনন্দময় শরীর পাইয়া তাঁহার নিজ ধামে স্থান লাভ হইল । আর তুমিতো আমাকে ভালবাসিয়া স্নেহ করিয়া গোপাল ভাব লইয়া ভাল ভাল জিনিষ যখনকার যা সেবা দিয়াছ । তোমার ভাগ্যের তো সীমাই আমি পাইনা, কোন পরমশান্তির লোকে । তুমি ভগবানের কাছে অবধি যাইবে ।

৬. আশ্চর্য্যহইলামযেআমারঘরেঘরেকার্ত্তিকআরমহামায়ায়ভর্ত্তি। তাহানাহইলেতোমারমুখদিয়াআরএকথাবাহিরহইতনা । গুরুদেবআদেশকরেছেনতাতেআবারবিচারকেন ? ভালমন্দসবইতোতাঁর, তোমারকিকিছুকরারশক্তিআছে ? যদিতাইহয়তবেএকথাবললেকেনযেব্রজধামেরঘরবিক্রীআমাদ্বারাহবেনা।গুরুরআদেশ-জগৎজাহান্নামেযাউকনা, তোমারতাতেকি ? তুমিশ্রীগুরুরসেবক।গুরুযাহাআদেশকরেনঅম্লানবদনেতাহামেনেনেওয়াউচিত।একলব্যেরকথাস্মরণকর, গুরুআদেশকরিলেনগুরুদক্ষিণাস্বরূপতোমারদক্ষিণহস্তেরবৃদ্ধাঙ্গুলিআমাকেপ্রদানকর, একলব্যদ্বিধানাকরিয়াতৎক্ষণাৎহস্তস্থিতছুরিকাদ্বারাআপনহস্তেরবৃদ্ধাঙ্গুলিকেটেগুরুদেবকেদিলেন।কৈসেআদর্শ ? তোমরাসাধুতোমাদেরদেখেসংসারীলোকশিখবে।এতেকিশিক্ষাপ্রচারহবে ? অন্যলোকেমানাকরেতাতেতোমারকি ? তাদেরজানাতেহয়তারাজানাবে।তুমিতোমারকাজকরেযাও।এইসেনাকাজ ! তোমাদেরমোহকবেকাটিবে, সর্ব্বধর্ম্মবিসর্জনকরিয়াএকমাত্রআমারস্মরণলও, আমিতোমারসর্ব্বপাপদূরকরিব । মোহকরিওনা । স্বজনত্যাজিলামহারাজবিভীষণ, উপেক্ষিলাবন্ধুবর্গভাইযেরাবণ । পিতাত্যাগকৈলাভাগবতশ্রীপ্রহ্লাদ, যেহেতুভক্তিপথেকরিলবিবাদ । পতিপুত্রআদিত্যাগকৈলবহুজন, গুরুভক্তিঅনুকূলসেইবন্ধুজন ।পুঃকার্ত্তিকসাজিওনা ।

৭. যজ্ঞাহুতি করিবার সময় প্রথমে আচমন অঙ্গন্যাস করিয়া নিজের অভিলষিত বর প্রার্থনা করিবে মনে মনে করজোড় করিয়া । যেমন হে আন্তর্যামী, জ্যোতিঃস্বরূপ গুরু আপনি অমৃত স্বরূপ মঙ্গল ও শান্তিময়, আমরা বিষয় ভোগে আসক্ত হইয়া আপনাকে ভুলিয়া থাকি কিন্তু আপনি নিজগুণে আমাদিগকে ভুলিবেন না এবং আমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করিয়া শান্তি বিধান পূর্ব্বক পরমানন্দে আনন্দ রাখুন, স্থুল শরীর বা মনে কোনও প্রকার দুঃখ কষ্ট না হউক । হে মঙ্গলময় মঙ্গল করুন । আপনাকে পূর্ণরূপে বারংবার প্রণাম করি । এই ভাবে সরল ও নিজ ভাষায় প্রার্থনা করিবে । তারপর শৈবাগ্নি মঙ্গলকারী আগ্নি এই নামাকরণ পূর্ব্ব পত্র লিখিত মন্ত্রে ৩টী বা ৫টী আহুতি দিয়া নির্ব্বাণ করিতে শান্তিঃ ভব শান্তিঃ ভব, শান্তিঃ ভব, শান্তিঃ ভব, বলিয়া জল ছিটাইয়া দিও । ইহাতে কোন ভয় বা সংশয় নাই । আরও সব রকমে মঙ্গলই আছে।অগর তগর কাষ্ঠ বিশেষ বেনে দোকানে পাওনা যাইবে।

৮. তোমরা সবাই গুরুরূপী ভগবানের পাদপদ্মে অর্চ্চনা করিয়াছ তোমরা অকৃতকার্য্য হইবে না । তোমার দীক্ষাটা সেই বারেই হইয়া যাইত । কিন্তু কথা বার্ত্তাতেই দিন অতীত হইয়া গেল, কাজের কাজ কিছুই হইল না । ভক্তি রাখ,আকর্ষণ রাখ, এঁটে সেঁটে ধর তবে ঘোড়া চড় । তাহা না হইলে কি কাজ হয় । সদ্‌গুরু লাভ না হ’লে সংসার সাঁগর পার হওয়া যায়না ।

৯. তোমার ও তোমার পরিবারস্থ সকলেই ভগবানের ভক্তি বিশ্বাস এবং একান্ত শরণাগতী লাভ করিয়া জীবনের সার্থকতা লাভ কর ও সুখে স্বচ্ছন্দে দিন অতিবাহিত কর । বাবা, তোমরাই যে আমার কৃপার পাত্র এই সব পাত্রেই যে আমি করিয়া কৃপা থাকি ।

১০. মনে কোন অশান্তি আনিওনা । তোমার সচ্চিদানন্দ শ্রীকৃষ্ণ প্রেম ভক্তি জন্মাইবার জন্যই যে আমি গোপাল হয়ে মা যশোদা বলে তোমায় ডাক দিতে আসিয়াছি । প্রেম ভক্তি সেবা যত্ন পাইতে সর্ব্বদা লালায়িত হইয়াছি । এস সব ভাবস্রোত ছুটিতেছে যে – দূর করিয়া লও । সত্য বলিয়া ধারণ কর । তবেই আপনা হইতে প্রাণ ভক্তিতে ভরিয়া যাইবে । প্রেম সংসারে ডুব দিতে কতক্ষণ ? মাই, তোমার প্রেম সাগরে ডুব দিতে বাকী আছে ? তুমি ডুব দিয়াই আছ, তা না হইলে কি আমার মাই হইতে পারিতে ? তোমার সুখ ঐশ্বর্য্যের দিকে মন থাকিলে বা বাসনা থাকিলে সচ্চিদানন্দময় গুরু না হতে দুর্লভ হইত । আশীর্ব্বাদ করি তুমি সচ্চিদানন্দময় হও ।

১১. আমি যাইব কোথায় ? তোমাদের অভীষ্ট পূর্ণ না করিয়া আমার দেহে রোগ পীড়া এতো ভক্ত পরীক্ষার জন্য মাত্র । ভক্ত তৈয়ার না করিলে ভক্ত উদ্ধার কি প্রকারে করিব ?

১২. বাবার প্রতি আমার খুব তীব্র দৃষ্টি আছে । তুমি বাবার সম্পর্কে সম্পূর্ণ নির্ভয় থাক । বাবার জীবন আমার হাতের মুঠে, যমের ভয় নাই । ব্যাধিশাকির জন্য আমি কিছু কাজ করিতেছি, অতি শীঘ্রই ব্যারাম চাপা পড়িবে । আমার বাবার দেহ এখন বহুকাল এ জগতে থাকিবে । আমার ‘অমর’ আশীর্ব্বাদ জানাও । মা, তুমি নির্ভয়ও নিশ্চিন্ত থাকো ।শৈলেনকে আমি দাঁড় করাইতেছি । আমার অনেক আশীর্ব্বাদ বাক্য তার উপর পড়িয়াছে । সে সব বাক্য কভু মিথ্যা হইবে না । মা, আমি তোমার গোপাল ব্রজানন্দ নামের বলে সব দুঃখ দারিদ্র সঙ্কট হইতে উদ্ধার পাইবে । মা, চিন্তা কি তোমার ? শিবোহহম জপটি তোমার এখন জপ করিতে হয় । সে সময় তোমার এখন আসিয়াছে । তুমি সকল সময়ই নামে থাক, এ সব দুঃশ্চিন্তা ছাড়িয়া দাও । এ নামের আগে সব বিপদ কাটিয়া যায় । শৈলেনের গায়ে একটি আঁচর কাটে এমন লোক জগতে আসে নাই । সুরবালা মাই ও রাণীমাই দুজনের নিকট আমি অনেক দিন হয় দুইটি পত্র দিয়েছি । তার কোন উত্তর পাই নাই । বিবাহের খবর বা প্রণামী আমাকে পাঠায় নাই । বাণীর সাথে মিলন হইয়া থাকিলে, বিচ্ছেদ হইতেও দেরী নাই । দম্ভ ও অহংকারের মাত্রা না বাড়াইলে আমি বধিব কেমনে, কৃতঘ্ন কপাটীর বিনাশ অবশ্যই হইবে । তুমি ভক্ত ও কল্যাণময়ী, তোমার দুর্গতি নাই । তুমি আনন্দ কর । তোমার অনিষ্ট কেহই করিতে পারিবে না ।

১৩. তোমরা সকলে মিলিয়া মিশিয়া যাক যেমন নানাবর্ণের ফুল দিয়া মালা গাঁথিয়া গলায় পরিলে কি সুন্দর দেখায় সেইরূপ তোমরা সব ভক্ত মিলিয়া আমার গলার মালার স্বরূপ হইয়া থাক । ইহাই আমার একমাত্র বাঞ্ছনীয় এবং তোমাদের কল্যাণ কর

১৪. তোমাদের জন্য গুরুপাট রহিয়াছে । আমি সেখানে সব সময়ই বিদ্যমান আছি । সেখানে থেকেও তোমাদের আশা আকাঙ্ক্ষা মিটাইতে পার ।

১৫. তোমাদের সব দিকেই আমার মঙ্গলময় দৃষ্টি ফেলিয়াছি, পাখী যেমন আপন ডানা বিস্তার করিয়া তার শাবকদিগকে আবরিয়া রাখে, আমিও তেমনই তোমাদের আবরিয়া রাখিয়াছি । গুরু নামের মহিমা কেহ দিতে নারে সীমা । কোটি লক্ষ্য সৈন্য তোমাকে আক্রমণ করিতে আসিলেও তোমার গায়ের একটি লোম নষ্ট করিতে পারিবেনা । নির্ভয় হও, নিঃশংক চিত্তে বসিয়া থাক ।
১৬. তোমরা সুখী নও আর আমি সুখী হব কি করে ? তোমাতে যে সহ্য গুণের অভাব, ক্ষমাই মহত্বের লক্ষণ । যে হৃদয়ে ক্ষমা নাই, দয়া নাই সে হৃদয়ে ভক্তি ও জ্ঞানের বীজ অংকুরিত হইতে পারে না । অহিংসা পরম ধর্ম্ম, অহিংসা জীবে দয়া এইসব কর্ম্মই অন্ধকার হইতে আলোর পথে লইয়া যায় । যেখানে হিংসা, দ্বেষ, অপ্রেম সেখানে আলোর প্রকাশ হইতে পারেনা । জ্ঞান ভক্তি পাইতে হইলে সদয় অন্তঃকরণ বিশিষ্ট হইতে হইবে । নির্দয়ের হৃদয় অতিশয় কঠিন ও পাষানবৎ হয় । সেই হেতু সৎসঙ্গধারী হাজার সিঞ্চন করিলেও ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত হইতে পারেনা । অপ্রীতিকর বাক্য যেরূপ নিজের নিকট কণ্টকবৎ মনে হয় সেইরূপ আত্মবৎ জ্ঞান মনে মনে জপিলে তবে তাঁর আর আপন পর এই ভেদ জ্ঞান থাকেনা, সে সকলকেই সমদৃষ্টিতে দেখিতে সমর্থ হয় । বিনয়ী, নম্র, দয়ালুহৃদয়বিশিষ্ট হইলে তবে সে শিষ্য পদের অধিকারী হয় । গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুও বলিয়া গিয়াছেন-আপনাকে তৃণবৎ জ্ঞান, বৃক্ষের ন্যায় সহাগুণ বিশিষ্ট, মানের অযোগ্যকেও মান দেওয়া হরিভক্তিপরায়ণ ব্যক্তির এই লক্ষণ । মাই তুমি দয়া ধৈর্য্য ও ক্ষমার আধার হও । তবেইতো বুঝব তুমি আমার মেয়ে, দ্বৈত ভাব ত্যাগ কর, সর্ব্বভূত প্রাণীতে দয়াশীলা হও । তুমি আমার শান্তি আশীর্ব্বাদ গ্রহণ কর আর সবাইকে দাও । বাবার হাতে তোমার প্রণামী পেয়েছি জানিবে ।
“ছোট যদি উচ্চ-ভাষে সুবুদ্ধি উড়ায় হেলে,
তুমি তবে স্নেহভরে আদর করিও তারে ।”

১৭. আমি কলিকাতা হতে আসিয়াও ২/৩ দিন ব্যাথায় ভুগিয়াছি । এখন ৮/১০ দিন যাবৎ বেশ ভালই আছি । বাবা সাধুর তো কোন ব্যাধি নাই; তবে ভগবানের লীলার অনুরোধে এই সব লীলা করিয়া লোক উদ্ধারের পথ বাহির করা বইত আর কিছুই নয় ।

১৮. তুমি এই চরণে বিশ্বাস ফেলিয়া নির্ভয় ও নিশ্চিত হইয়া দিন কাটাও । তোমার অশান্তি নাই । স্বয়ং শান্তিময় যাহার সহায় তার আবার ভাবনা কি ? তোমার শারীরিক ও মানসিক সর্ব্বাধিক শান্তি আমি করিব । এবার আমার অবতীর্ণ হইবার একমাত্র উদ্দেশ্য জীবজগতের কল্যাণ-জীব উদ্ধার । তাই আমি জীবের সর্ব্বাধিক অশান্তি নিজে গ্রহণ করিয়া শান্তিধারা বিতরণ করি । বাবা তুমি নিশ্চয়ই আরোগ্য লাভ করিবেই করিবে ।
“লহরে শরণ কলুষহরণ
ঐ ব্রজ-সুন্দর পায় ।
কি ভাবনা আর এসেছে এবার
দাতা শিরোমণি করুণা আধার;
পাপি তাপি যত পামর পতিত
সবাই তরিয়া যায় ।”

১৯. তোমাদের গুরুদেবই ঈষ্ঠ দেবতা । গুরু ইষ্ঠে আলাদা নয় গুরুতেই শ্রী কৃষ্ণ বোধে পূজা অর্চনা ধ্যান জপ ভোগ আরতী ক্ষমাপ্রার্থনা সবকিছুই করে যাবে । কালে গুরুমুর্ত্তিতেই কৃষ্ণ ফুটে উঠবে । আমি তোমাদের দিব্যচক্ষুদান সেই শুভদিনে করিয়া দিয়াছি । গুরুমুর্ত্তিতেই সব কিছু-ধ্যান-জপ করিয়া যাও । তোমরা যে একদিন সেই সোহহং ব্রজানন্দই তো ছিলে ! আজকে মায়ার ফাঁদে পড়িয়া সেই রূপ হারায়ে ফেলিয়াছ । তাইতেই তো রোগ শোকের অধীন জন্ম মৃত্যুর অধীন হইয়াছে । এক্ষণে ব্রজানন্দ জপ করে ব্রজানন্দ হয়ে যাও । তাহা হইলে রোগ শোকে বা জন্ম মৃত্যুর অধীন হইতে হইবে না ।ইবারই তোমাদের পূণঃ পূণঃ আশা যাওয়া ঘুঁচে যাক, ব্রজানন্দ লাভ হউক । নানা যোনি ভ্রমণ করে আর দুঃখ ভোগ করোনা মাই তোমাদের কাছে এই একমাত্র ভিক্ষা প্রার্থনা করি । জঠর যন্ত্রণা কি ভাল ? নির্ব্বান মুক্তিই একমাত্র কাম্য । মনুষ্য জন্ম লাভ ও সেই জন্যই । এই জন্যই তো মনুষ্য জন্ম দুর্লভ । তোমাদের মনুষ্য জন্ম লাভ সার্থক হউক, এই আমার ঐকান্তিক বাসনা ।

২০. আশীর্ব্বাদ করি তোমাদের সকল দুঃখ বিঘ্ন, অভাব অসুবিধা সমস্যা ও অশান্তি দূর হউক । আমার পূর্ণ কৃপা লাভ করিয়া আদর্শ গৃহী ভক্ত হও । মধুময় হউক জীবন । ‘ভক্তের বোঝা আমি বহন করিয়া থাকি । তাই, মুক্তির বিবাহকার্য্য সুষ্ঠভাবে হইয়াছে । ভক্তের হৃদয় বৃন্দাবনে আমার নিবাস, আমার ভক্ত চির অজেয় । তবে চাই শ্রদ্ধাভক্তি ভেজাল নয়’

২১.তোমরা আমার আপনজন । তোমাদের কোনও ভয় নাই-বিপদ নাই । তোমরা যখন আমাগত, তখন তোমাদের আবার ভয় কিসের ? শিশু মায়ের কোলে থাকিলে তাহার ভয় ব্যথা কিছুই থাকে না । যে ব্যক্তি ভগবানে অনুরূপভাবে নির্ভর করিতে পারে সে অজেয় অপ্রমেয় । তোমাদের সকলের প্রতিই আমার কৃপাদৃষ্টি আছে ।

২২.তোমরা প্রেমসে নিত্যসেবা চালাইয়া যাও ।

২৩. আমি তোমাদের খুবই নিকটে আছি । জপ আর ধ্যানটি একটু করিবে । তাহা হইলে দূর বলিয়া মনে হইবে না । তোমার অহংকে ব্রজানন্দ লয় করিয়া সোহহম হইয়া যাও । তবেই দূর বলিয়া মনে হইবে না, আমাতে মিলিয়া যাইবে । এর পরে আর সাধন নাই ।

২৪. তোমাদের ছেড়ে এসে আমিও বড় সুখে নাই । তোমাদের সেই তারকব্রহ্ম নামের সুমধুর সুর আজও আমার কানে বাঁজে । নামটা একটু নিভৃত বসে মনে মনে করো; একটু হালকা হয়ে থেকো; সম্পূর্ণ আমার উপর ভর দিয়ে থেকোনা ।
২৫. তোমরা আমার আপন জন । আমার বুকের একফুটা রক্ত । গুরু শিষ্য কি দুইই ? অভিন্ন করে বর, অভিন্ন হৃদয় জানবে । গুরু সব চেয়েও আপন । আমার গুণ স্মরণ কর ও রূপ ধ্যান কর । সর্ব্বদাই আমার দর্শন পাইবে ! তোমাদের দুইদিকেই আমি চরণে স্থান দিয়েছি । গুরুকে বিশ্বাস কর দেহ মন সমর্পন কর । এই খানেই তোমাদের সাধন শেষ । এরপরে আর কোনই সাধন ভজন নাই । “যাবৎ বিকাইতে না পারে তবে তাই সাধন ভজন এর পরে আর সাধন ভজন নাই ।” তুমি নিত্য তুমি শুদ্ধ, বুদ্ধ, মুক্ত ।

২৬গুরুতে অকপট শ্রদ্ধা ভক্তি রেখ ইহা পরলোক আনন্দ যা হইয়া যাইবার, গুরু বাক্যে কখনও অবিশ্বাস ও সন্দেহ রাখিও না । গুরু বাক্য সাক্ষাৎ ভগবৎ বাক্য বলিয়া জানিও । গুরু বাক্য সর্ব্বান্ত করণে পালন করিবে । গুরুর সামনে হিতাকাঙ্খী তোমার ত্রিভুবনে নাই । গুরু দত্ত অন্তত একবার অবশ্যই স্মরন করিবে । গুরুদত্ত নামেই আমার সর্বশক্তি নিহীত আছে । আমাকে দিয়া যেই কাজ হইবে, আমার দিক্ষা মন্ত্রে ও সেই কাজ হইবে মাই একা আছো তাই ভালো । একত্তেই মনে শান্তি পাওয়া যায় । বহুত্বেই যত অশান্তির মূল মনকে ঠান্ডা রেখ, ঠান্ডা মনই শ্রীগুরুর আরাম খানা, যাই কর না কর মনটা গুরুতে রাখিবে । মনটা যেন একটা সাগর একটু হাওয়া লাগলেই ঢেউ উঠে । হাওয়া থামলে সবস্থির ।

২৭. আমাকে তোমার সব কিছুরই মালিক করে দাও । আমি ষোল আনা চাই, রতীখানা কম হইলে লই না । তবেই ত তুমি তোমার সব চিন্তা হতে রক্ষা পেতে পার । তোমার লাভ লোকসান পাবেনা । জয় গুরু জয় গুরু করতে থাক তোমায় সরায় কে ।

২৮. মঞ্জুর সম্বন্ধে তুমি আদৌ কোন চিন্তা করিবা না । মঞ্জু আমার হাতের মুঠে রহিয়াছে । আমার হাতের মুঠ ও খুলবে না, তাহার প্রাণ হানিও হবে না ।আরামের মাথায় আমি পাথর চাপা দিয়াছি । আরাম আর বড় বেশী বাড়াবাড়ি করতে পারবে না । এখন আস্তে ধীরে ব্যারামকে চালাইতে হইবে । তুমি নির্ভয় ও নিশ্চিত হও ।

২৯. তুমি গুরু চিন্তা কর নামটা দিনান্তে একবার লইও । একটু হালকা হয়ে থাকিও । যাতে আমি সহজেই তোমাকে পাড়ে করতে পারি । গুরু নারায়ণ এই বিশ্বাসটা তুমি ঠিক ঠিক পেয়ে গেলে তুমি জন্ম মৃত্যুর ইতি হইতে নিষ্কৃতি পাইতে পারো । গুরু নারায়ণ তুমি সব সময় ভাববে । ভাবতে ভাবতে তুমি এক সময় নারায়ণ হয়ে যাবে, লক্ষ্মী হয়ে যাবে । তোমার আসল সরূপ বেরিয়ে পড়বো ।

৩০. তুমিগুরুনামজপকরিয়াযাওতাহাতেইগুরুতেভালোবাসাআসিবে । তোমারমনওএকনিষ্টহইবে ।
৩১. তোমারগুরুতেঈশ্বরবুদ্ধিহউক ।

৩২. মঙ্গল আরতি, নগর কীর্ত্তন, ভোগরাগ আমার নামে দিলে আমিই পাইয়া থাকি । আমাকে সময়ে পূজা বা ভক্তি আমার নামে আসনে বা ফটোতে দাও । উহা আমি গ্রহণ করে থাকি । আমি সর্বভূতে বিদ্যমান । আমাকে বলে যেখানে যা অর্পণ করবে তাহা আমাতেই যাবে ।

৩৩. আমার দত্ত গুরু মন্ত্রে সব কিছুই আছে । আমি তোমাদের পূর্ণ বস্তুই দিয়েছি, অপূর্ণ কিছুই রাখি নাই যে অন্য দ্বারস্থ হইতে হবে । আমি এবার রাধা গোবিন্দের ভাবকান্তি লইয়া পূর্ণ রূপেই আসিয়াছি এবং তোমাদিগকে পূর্ণই দান করিয়াছি ।
৩৪. মূলকথা আমাতে মন রাখা চাই ।

৩৫. জীবের ইচ্ছায় কিছুই হয় না, গুরুর ইচ্ছায় সবই হয় । যা হউক, ইহাও তোমাদের মঙ্গলের জন্যই; তোমাদের ভক্তি আর একটু বাড়াইয়া দেওয়াই আমার ইচ্ছা । প্রবল আকাঙ্ক্ষা না জাগিলে দর্শনে ভাল ক্রিয়া করে না । যেমন আহারান্তে পুনরায় আহারের নিমিত্ত কিয়ংকাল বিশ্রামের প্রয়োজন হয় কারণ তাহা না করিলে পুনরায় ক্ষুধারও উদ্রেক হয় না আর আহারও করিয়া তেমন আস্বাদন পাওয়া যায় না । আর দর্শনের জন্য অত ব্যাকুল হইবার কি আছে ? আমি তো তোমাদের সেই অভেদ উপাসনাই দিয়াছি “সোহহম্‌” আমি সেই, এই ভাবনা নিয়া নাম, জপ, ধ্যান ইত্যাদি করিবে, তাহা হইলে আমাকে তোমাতেই পাইবে । ব্রজানন্দ অভিন্নরুপে তোমাতেই বিরাজ করিতেছেন । সেই তো চিরমিলন, সেখানে বিচ্ছেদ নাই । দেহের দর্শন, মিলন এ তো মিথ্যা, আজ আছে কাল নাই । তখন কি আবার আর এক গুরু করবে ? বাবা ক্ষণিকের উপাসনা দূর কর, সে তো দুঃখের কারণ । সে ভাবে আমার উপাসনা করিবে না । আমি তোমাদেই আছি এই বোধে আমার উপাসনা কর । ত্রিকালেও ব্রজানন্দের অভাব বা বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ভোগ করিতে হইবে না । জয় গুরু, জয় গুরু, জয় গুরু ।

৩৬. আমি সেবাপূজা ও পত্রাদি প্রায়ই পাইয়া থাকি । কিন্তু কি একটা মহামায়ার মায়া যে এবার আমি আমার শত চেষ্টা সত্বেও তোমাদের দর্শন দিতে পারলাম না । শেষে একটা কথা মনে পড়িয়া আমার হৃদয় আনন্দে পুলকিত হইয়া উঠিল, “ব্রজানন্দের পা বেতালে পড়ে না” তাঁর লীলা খেলা চলন, বলন সবই যে ভক্তের মঙ্গলের তরে । দর্শন না পাওয়া তোমাদের লাভ ছাড়া লোকসান হয় নাই । আমার অদর্শনে তোমাদের প্রাণের পিপাসা আরও একটু বর্দ্ধিত হউক । যেমন আহারান্তে পুনরায় আহার নিমিত্ত কিছুকাল উপবাস প্রয়োজন হয় । আর এক কথা, আমি তোমাদের নিজ জন । তোমাদের হৃদয়েই আছি সেখানেই তো আমাকে পাইতে পার । তোমাদের দীক্ষা মন্ত্রেও তাই বলে । দেহের দৃষ্টিতে আমি তোমার দাস এবং আত্মার দৃষ্টিতে আমি তুমি অভেদ, এইরূপ ধারণা নিয়া জপ্‌ ধ্যান ইত্যাদি করিবে । তখন তুমি-আমি হয়ে যাবে । আমাতে মিশিয়া একাত্বই হয়ে যাবে । শিবোভুত্বা শিবম্‌ যজেৎ, বাবা শিব ভজে শিব হয়ে যাওয়া চাই । এইরূপ সাধনা করিয়াই আমি শিবত্ব লাভ করিয়া সর্ব্ব বিপত্তির হাত এড়াইয়া মুক্ত হইয়া জন্ম মৃত্যুর পরপাড়ে দাঁড়াইয়াছি । তোমাদেরও সেই সাধনা দিয়াছি । এক্ষণে তোমরাও দুঃখের হাত এড়াইয়া মুক্ত হইয়া ভবনদী পার হও । ইহাই আমার একমাত্র ইচ্ছা ও আশীর্ব্বাদ ।

৩৭. ভক্তি রাখ, ফল ফলবেই । গুরুতে একান্ত নির্ভরই সংসার সর্পের দংশন হইতে মুক্তি পাইবার একমাত্র উপায় ।

৩৮. গুরুধাম, গুরুনাম এই তোমার জীবন উপায় । “গুরু ধ্যান, গুরু জ্ঞান, গুরু চিন্তামণি, গুরু বিনে অন্য কিছু না জানিও তুমি । ”

৩৯. আমারবরাভয়লাভেতোমারজীবনসর্ব্বতোভাবেসুখশান্তিপূর্ণহউক । গুরুকৃপায়সকলঅভীষ্টইপূর্ণহয়, তবেশিষ্যেরওতদরূপঅধীকারীহওয়াচাই । গুরুতেঈশ্বরবুদ্ধি, ভক্তিমুক্তিলাভেরজন্যতীব্রব্যাকুলতা, বিষয়েবিতৃষ্ণা, অদম্যউৎসাহইত্যাদিচাই । আমারআগমনতোমাদেরআকর্ষণেরউপরনির্ভরকরে । টানদিলেকিআমিথাকতেপারি ?

৪০. আমারকৃপালাভেরযোগ্যহও । শ্রদ্ধাভক্তিওবিশ্বাসেরঅধিকারিণীহও । কোনইভয়নাইতোমার । আমারভক্তেরবিনাশনাই । তবেসাধনায়চাইধৈর্য্য ।
৪১. তুমি গুরু গুরু বলিয়া কর্ম চালাইয়া যাও

৪২. আমার মঙ্গলাশীষে তোমার অকাল দূর হইবে । তবে কিছু সময় দরকার । তুমি আমার নাম জপ কর । আর মাঝে মাঝে “জয় গুরু”-“জয় গুরু” বলতে থাক । সব ঠিক হয়ে যাইবে । আপাততঃ কিছু কাল ঐভাবেই যাক । তোমার ব্যবস্থা যথাসময়ে আমিই সব ব্যবস্থা করিয়া দিব । আমার ভক্তের বিনাশনাই-পরাজয় ও নাই ।

৪৩. আশীর্ব্বাদ করি এ বছর যেন তোমার সুখ স্বচ্ছন্দে কাটিয়া যায় । আর যেন তোমায় কোন প্রকার অভাবে না পায় । শ্রীগুরুই যেন তোমার ভাবের বিষয় হয় । আর বিষয় জগতের ভাবে ভরিয়া অভাবগ্রস্ত না হও । বাবা, প্রেম ভক্তি রাখ আর খুব সাবধান থাক । যেমন তামসিক দিন আসিয়াছে এ অবস্থায় গুরুকৃপা, প্রসাদ, পদধূলি আর আশ্রয় ভিন্ন গতি নাই । এগুলিতে ভাবটাকে সজীব করিয়া রাখে ।

৪৪. আয়ুষ্মতে সুবাসিনীমাই, তোমার ভক্তিপূর্ণ নববর্ষের প্রণাম পাইয়া পরম আনন্দ লাভ করিলাম । আশীর্ব্বাদ করি এ বছর তোমার সুখের হউক, অমঙ্গল দূর হউক, তোমার সকলে বাঁচিয়া থাকুক আর সাংসারিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি হউক । এমন সৎসঙ্গ যে লাভ করে, তার তো সাত পুরুষ উদ্ধার হইয়া যায় । তুমি দেখ না, এমন ভাবে কোন ঘরে গুরুর চরণে পুষ্পাঞ্জলি ভোগ, আরতি সেবা যত্ন লালন পালন হইয়া থাকে ! আজকাল ভোগী গৃহস্থেরই চারিদিকে ছড়াছড়ি । যোগ আর ভোগ দুই সমান রাখিয়া কয়জন গৃহস্থালী করে । গৃহস্থগুরুভক্তিপরায়ণ, গুরুগতপ্রাণহইবেন । কর্মেরফলগুরুতেসমর্পণকরিবে । কর্ম্মফলেআশারাখিবেনা । উহাপতনেরকারণ । গৃহস্থনিষ্কামীহইবে, ফলেরপ্রতিলক্ষ্যদিবেনা, কেবলকর্ম্মেব্যস্তথাকিবে । সমস্তকর্ম্মকরিয়াবলিবে, “এতদ্রকর্ম্মফলগুরুনারায়ণেসমর্পিতমস্ত” । আমারএইশিক্ষামতসংসারকরিয়াযাও । সংসারআনন্দভবনহইবে । সংসারদিয়াকাজনাই-এইকিবল ? সংসারচাই, নতুবাআমরাকিদিয়ামহানঅর্জ্জনকরিব ? গৃহস্থেরমিথ্যাকথাবলা, সর্বদা করা মহাপাপ। গৃহস্থ দিব্যভাবযুক্ত সাধু ও অতিথি সেবায় রত থাকিবে । পুত্র কন্যাগণকে বসন, ভূষণ, প্রেম ও মধুর কথায় সন্তুষ্ট রাখিবে । এবং বিদ্যা শিক্ষা দিবে ও লালন করিবে । মাই, তুমি আর দুঃখিনী বলিয়া আমার হৃদয়ে ব্যথা দিও না । তোমার গোপাল ব্যথা পায় ।

৪৫. নামে ব্যায়াম পীড়া অভাব দূর হয় কি না তা’ তুমি জানিতে পার, অন্যে জানিবে কি ? যে সমস্ত বিপদের মধ্যে দিয়া তোমাদের লইয়া যাইতেছি তা বিশ্বাসী ভক্ত ছাড়া অন্যে কি বুঝিবে ? লোকের কথায় কান দিও না । নিজের অন্তর দেখিয়া চলিও । শ্যামদাস, তুমি পরের কথায় মনে কষ্ট আনিও না । নিজের মন বিচার করিয়া দেখ

৪৬. চারিদিকে মহামায়ার সংহার লীলা চলিতেছে । তাড়াতাড়ি পত্র লিখিলাম । বাবা, চিন্তা করিও না । আমি দুই হাতে বিপদাপদ ঠেলিয়া রাখিয়াছি । বেহুলার মত স্বামীর হাড় কয়খানা বগল তলায় করিয়া মৃত পতিকে বাঁচাইবার জন্য বাহির হইয়াছিল-সেই বিশ্বাস রাখ । আমি তোমার আপদ বালাই দূর করিতেছি । বাবা,আমার ক্ষমতার কথা কি ভুলিয়া গিয়াছ?এ যাবৎ তোমার জীবনযাত্রা খুব সুখেই কাটিয়াছে । নতুবা তুমি যে সব বিপদের সম্মুখীন হইয়া আসিতেছ অন্যের শক্তি নাই তোমাকে রক্ষা করে । এ কেবল তোমার ঐকান্তিক বিশ্বাস ভক্তির ফল ।

৪৭. মাই, তোমাকে আবার কি শিখাইব । এক মা যশোদার ভাবটি ঠিক ঠিক রক্ষা করিতে পারিলেই তো তোমার ইহ পারমাথির্ক কাজ হইয়া যাইবে । আমার লীলার মধ্যে কোন গুপ্ত সাধন ভজন নাই । তুমি ঐ যে লিখিয়াছ গোপালের সর্ব্বময়রূপ সব সময়ে পিছে পিছে রাখিতে চাই, ঐ খাঁটি কথা । ঐটী হলেই সব হইয়া যায় । সেইদিকে খুব ধ্যান রাখ । আর অন্যদিকে মন দিও না । সংসারের কাজকর্ম্ম যা পার আমার কর্ম্ম বলিয়া করিয়া যাও । তা হলেই আর কোন গোল বাধিবে না । আমার সখিদের খুব খাটাইয়া লও । তারা হাতে পায়ে খুব আছে, আর দুদিন পরেত পালাবে । তারা কথা না শুনইলে তুমি তাদের বলো এটী কি ব্রজানন্দের সংসার নয় ? তবেই তারা মন দিয়া করিবে দেখিও ।

৪৮. তোমার গোপাল ভিন্ন এ সংসারে আর কেহ নাই, তা ঠিকই । গোপাল যশোদার জীবন সর্ব্বস্ব । গোপাল ছাড়া যশোমতীর আর প্রিয় কে আছে ? যশোমতী গোপালের জন্য সর্ব্বস্ব ত্যাগ করিয়াছে । এমন কি দেহের মায়া পর্য্যন্ত করে নাই । সেই তো তুমি । গোপালের মায়ায় আর সব মায়া দূর হইয়া যাইবে । গোপালের মায়ার এই তো শেষ পরিণতি । ভগবানে বাৎসল্য প্রেম আসিলে দুঃখ দৈন্য থাকে না । মনে তার দুঃখ বলিয়া কিছু থাকে না । মাই, আমি তোমাকে মায়ামুক্ত করিতে গোপালরূপে তোমার কাছে প্রত্যক্ষ হইয়াছি । আশীর্ব্বাদ করি তোমার বাৎসল্য প্রেমের ফল তোমার লাভ হউক । তোমার আমিত্ব নাশ হউক, সংসার আসক্তি দূর হউক । খাওন নিধনের জন্য কাঁদিও না । তোমার গোপাল লাভ হয় নাই সেই জন্য কাঁদ । এ দুদিনের ভোগ সুখ দিয়া কি করিবে ? ভোগে কি সুখ আছে ? সুখ যোগে । সুখ গুরু পাদ পদ্মে । সে সুখ কোনকালে ফুরায় না । সংসার সুখে কেবলি দুঃখ আর জ্বালা । কেবল ঘোরাঘুরি, আসা যাওয়া । মুক্তি নাই । দেখ, গোপী প্রেমে আত্মসুখ ছিল না । কায়মনোবাক্যে শ্রীকৃষ্ণ সুখের সেবাই তাহাদের স্বভাব । জয় ব্রজানন্দ হরে, জয় ব্রজানন্দ হরে । তুমি গোপালকে ভালবাস । সেই ভালবাসায় এ জগৎ ভুল হয়ে যাবে । তোমার আমিত্ব যাবে । তখন গালিগালাজ বকাবকি ফুল চন্দন তুল্য লাগিবে । জয় শংকর !

৪৯. তুমিআনন্দেসংসারকর । মায়ারসংসারেপড়িয়াতোমারলাঞ্ছনাভোগকিরকম ? সংসারতোমারনয় । তুমিবৃথামায়াকরিয়াহৃদয়েঅশান্তিভোগকরকেন ? তুমিমনশুদ্ধকরিয়াএকবারবলএসংসারেআমারনয়, এসংসারভগবানের । তাহলেইতোসবঅশান্তিতোমারমিটেযায় । এসংসার “আমার” বর্ত্তাইতেগেলেইঅশান্তিভোগকরিতেইহইবে । সংসারেরলাভলোকসানসবইঘাড়েবইতেহইবে । আরসংসারে “আমিআমারভাব” বর্ত্তাইতেযদিনাযাও, তবেকোনভোগেইতোমারেপাইবেনা । তুমিসদানন্দেকালকাটাইয়াআপনঘরেফিরিয়াআসিতেপারিবে । তোমারে কোন আপেলেপে পাইবে না । যেমন বড়লোকের বাড়ীর কি চাকরাণী খায় দায়, বাসার সমস্ত অন্য কাজ করে, কিন্তু কিছুই বুকে লাগায় না । একবার তুমি করেই দেখ না কেন ? যদি হাতে হাতে ফল নাইই পাও, তবে না হয় আমার উপদেশ অমান্য করিও । জয় গুরু, জয় গুরু, জয় গুরু । অবতার পুরুষব্যাপী জগৎ গুরুর জয় ।

৫০. ভয় কি ? মাই, গোপালরূপে যখন আমাকে পাইয়াছ তখন আর চিন্তা কি ! আমি “গোপালের মা” এইটি তুমি নিশ্চয় করিয়া মনে ঠিক দাও । তবেই তো তোমার সব হইয়া যায় । ষড় রিপুতে তোমার কি করিতে পারে ? ষড় রিপু কি দমন করিতে পারে বিনা গুরুর ইচ্ছায় ।

৫১. তুমি আচার বিচার লইয়া শুধাশুধি লড়াই করিও না । আচার বিচার কেবল মানুষের আত্মজ্ঞান লাভের উপায় মাত্র । আচার বিচার মানিয়া চলার উদ্দেশ্য আত্মজ্ঞান লাভ । তাহা যদি না হইল, তবে জানিবে আচার বিচার মানা বৃথা । তুমি হাজার বছর গঙ্গাস্নান কর বা নিরামিষ খাও তাতে যদি তোমার আত্মবোধ না জন্মে, গুরু চিনতে না পার, তবে তোমার আচার বিচার সবই মিছা । আর আচার বর্জ্জিত হইয়া কেহ যদি আত্মজ্ঞান লাভ করিতে পারে, তবে জানিবে সেই অনাচারই শ্রেষ্ঠ আচার । শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধ পালন করার উদ্দেশ্য হইয়াছে বিষয়ে বৈরাগ্য আনিবার জন্য । সেই ত্যাগ বৈরাগ্য যদি না আসে, তবে বিধি নিষেধ পালন করিয়া কি হইল ! তুমি বিধিনিষেধের জালে পড়িয়া জীবন নষ্ট করিও না । তুমি উদ্দেশ্য হারাইয়া খালি উপায় নিয়া ঝগড়া করিয়া আত্মচিন্তা হইতে বিমুখ হইও না । আজকাল লোকেরা কেহ সংযম নিয়ম পালন করে বটে, কিন্তু সেই সব নিয়ম নিষ্ঠা কিসের জন্য করিতে হয়, তা জানে না । লৌকিক গুরুরাও সেইসব শিক্ষা দেয় না । আমার এইসব বাক্য খুব বুঝিয়া বুঝিয়া পড়িবে ।

৫২. তুমি চিন্তা করিও না । ইচ্ছাময়ের ইচ্ছায় ইচ্ছা মিলাইয়া দাও । তাঁহার যাহা ইচ্ছা তাহাই ভাল, তাহাই আদরের সহিত গ্রহণ কর । ভগবান যতই কেন কষ্ট দিন না ভক্ত তাঁহার দিক ভিন্ন অন্য দিকে তাকান না । চাতক মেঘকে ছাড়িয়া কখনও আর কাহারও দিকে দৃষ্টিপাত করে না । বাবা ভক্ত জগতের সকলকে তৃণবৎ মহান করেন । রামপ্রসাদ বলিয়াছিল ‘এ সংসারে ডরাই কারে রাজা যার মামহেশ্বরী ।আনন্দে আনন্দ ময়ীর খাসতালুকে বসত করি । বাবা, এবার সমর্পণ, অকতোভয় হও । ভক্তি এবার অবশ্যই লাভ করিতে হইবে । ভক্তির মত এমন শক্তিধর বস্তু আমার চোখে পড়ে না । তাই, বাবা, ভক্তির কাঙ্গাল সাজিয়েছি । ভক্তির জয় ।

৫৩. তুমি আমার ভক্ত । আমার ভক্তের নাই বিনাশ । তুমি নির্ভয় ও নিশ্চিন্তে থাক । অবিরাম নাম চালাইয়া যাও । শ্বাসে শ্বাসে । নামের আগে যম ভাগে । শয়নে, ভোজনে, উঠিতে বসিতে চলাফেরা করিতে, সব সময়ই, ক্ষণমাত্র কাল বিরাম দিবে না । তোমার আসা যাওয়া ঘুঁচে যাবে । মুক্ত হইবে । ভব বন্ধন থাকবে না । ছিন্ন হয়ে যাবে । এই ত সহজ উপায় মুক্তির ।

৫৪. ভগবানের মহিমা অপার তাঁর কৃপায় কিনা হয় মৃত ব্যক্তি জীবন পায়, শিলা জলেভাসে, কাঠবিড়ালী সাগর বাঁধে ডুবে অতল জলে, করেন ঘোড়া গাধা পিটায়ে তার লীলা কে বুঝে, বাবা, তুমি আনন্দকরে খুব করিয়া নাম চালাইয়া যাও । মনের আধার সব দূর হয়ে যাউক । তাঁর প্রতি-প্রীতি-ভক্তি স্থাপন করিয়া বসিয়া থাক । সর্ব্বসিদ্ধি তোমার করতলগত ।

৫৫. তুমি বিপদের মাথায় পা ফেলিয়া সংসার পথে চলিয়া যাও । তোমার গায়ে একটা আঁচর পর্য্যন্ত লাগিবেনা । সংসার যাঁতা ঘুড়িতে থাকুক তুমি খুঁটি আশ্রয় করিয়া পরমানন্দলাভ কর । বাবা আমি ত্রিসত্য করিয়া বলিয়াছি আমার ভক্তের বিনাশ নাই । আমার বাক্য স্মরণ করিয়া নির্ভয়ে থাক । তোমার নির্ভয় ও ভক্তি যতই বাড়িবে তোমার শান্তি সুখও ততই দেখা দিবে । ব্রজানন্দকে হৃদয়ে বসাইয়াছ তোমার মঙ্গল সৃষ্ট করতে আমার কতক্ষণ । সব কর্ত্তার ইচ্ছায় কখন কী হইতেছে হইতে দাও তোমার কী যায় আসে ।

৫৬. আশীর্ব্বাদ করি, তুমি নির্ভয় ও নিশ্চিন্ত হও । দিন একরূপ চলিয়া যাইবেই । তুমি জয় ব্রজানন্দ হরে বলিয়া আনন্দে মজিয়া থাক । অন্নসহ স্থান সেই করিবে । কোন কিছুরই অভাব বোধ করিও না । আমি যোগাইতেছি । আমার সীমা আশাপূরণ । বাবা, তোমাকে কোনদিন অভাবে রাখি নাই আর রাখিবও না । শ্রীমান শ্যামদাস অচিরেই ভাল হইবে । সে আমার হাতের মুঠে । তাহারা অমরণ আমার সখা ।

৫৭. গুরুনাম দিনান্তে একবার স্মরণ করিবে । আমার সর্ব্ব শক্তি এই নামের মধ্যেই দিয়েছি । একটু নিষ্ঠা ভক্তি সহকারে নিলেই তোমাদের ইহলোকে সুখ ও পরলোকে পরামৃত লাভ হইবে, তোমাদের আর কোন সাধন ভজন নাই