বাণী কনিকা

আত্মার উন্নতির জন্য উপদেশ

১. আত্মার উন্নতির জন্য উপদেশ চতুষ্টয় লিখিলাম মনের সাথে গাঁথিয়া রাখ ।
১. তন মন ধন সবদিয়া গুরু সেবা ।
২. অভিমান পরিত্যাগ ।
৩. গুরুবাক্য সর্ব্বোপরি এই জ্ঞান,
৪. গুরু সেবা কালীন আত্মসুখ বিসর্জ্জন ।

২. তোমরাএইবোধেনামকর, ধ্যানকর, গুরু চিন্তাকর, দর্শন কর, জপ কর, সেবা কর, পূজা কর, উপাসনা কর । তোমাদেরঅভীষ্টলাভহবেই । অভাবরাক্ষসীরতাড়নাসহ্যকরিতেহইবেনা । কামনাবাসনাপূর্ণহইবে । বিপদআপদ, রোগশোক, দুঃখকষ্টদূরেযাবে । সাপেবাঘেখাইবেনা । দৈন্যথাকিবেনা । এইকটাতোহবেইআধ্যাত্মিকজীবনওমঙ্গলময়হইবে ।

৩. তোমাদের কর্নে যে মন্ত্র দিয়াছি উহা ভব সাগর পারি দিবার নৌক মনে করিবে । গুরুদত্ত নাম ও গুরু এক করিয়া জানিবে । নামদাতা অভেদ । জপ ও ধ্যান গুরুমূর্ত্তি লক্ষ্য করিয়া করিবে । সন্ধ্যা আহ্নিকের সময় এই বলিয়, প্রার্থনা করিবে । ঠাকুর আমি তোমারই সরূপ, তুমি আমি এক, অভেদ, মায়া মোহে আবদ্ধ হইয়া আজ তোমা হইতে পৃথক হইয়া আছি । এক্ষণে তুমি আমাদের তোমার করিয়া লও । তোমার নিত্যসত্যসরূপ আমায় দাও ।

৪. তোমাদেরআত্মারউন্নতিকল্পেউপদেশমূলকবাক্যচারটিলিখিলামঃ-

(১) দেহধনমনদ্বারাশ্রীগুরুরঅর্চ্চনা
(২) আত্ম-সেবাবিস্মৃতহইয়াগুরুসেবা
(৩) অভিমানপরিত্যাগ ও
(৪) গুরুবাক্যসর্ব্বোপরিএইজ্ঞান ।

ভক্তি

১. একান্ত ভক্তি নিয়ে এসে থাকলে তোমায় ভক্তি অটুটই থাকবে । যারা জাত চাষা তারা ফসল হউক আর নাই বা হউক প্রতি বৎসর জমি চাষ করেই যাবে । আর যারা ফসলের আশায় চাষা সাজে তারা এক বৎসর ফসল না পেলেই হাল গরু সব বিক্রি করে হাত গুটাইয়া বসে ।

২. পারিতো এখনই তোমাদের দুঃখ কষ্ট দূর করিয়া দেই, কিন্তু কি করিব বিশ্বাস ভক্তির অভাব যে কিছুই করিতে পারিতেছিনা । ষোল আনা বিশ্বাস ভক্তি লইয়া কেহই আমার কাছে আসেনা আর আমিও কিছু করিতে পারিনা । বাবা, একবার জোরকরে দাঁড়াও জয় ব্রজানন্দ বল

৩. ভগবানের কি কোন অসুখ আছে ? এ সব লীলা এবং ভক্তের ভক্তি পরীক্ষা নানারুপ ধারণ বই আর কিছুই

৪. তোমরানিঃসন্দেহেসাধনকরেযাও । ফললাভধ্রুবসত্য । তোমরাযতখানিমনদেবেততখানিইকাজপাইবে । ঠিকঠিকভক্তিচাইনইলেহবেনা । গুরুতেবিশ্বাস, গুরুতেভক্তি, গুরুতেএকনিষ্ঠহও । তোমরাআমারনামধর ।আমারদেহটাকেধরিওনা । দেহএকদিনযাবেই । এঅনিত্যদেহতাইতোমাদেরনামদিয়েছি । নামধরপারহবে। সংসারজ্বালারহাতএড়াবে ।

৫. ভক্তির কাঙ্গাল আমি এতদিন ভক্ত না পাইয়া দুঃখিত ও লজ্জিত বলিয়াই পত্র দিতে পারি নাই । মা তোমার গোপাল থাকিতে আবার তোমার অশান্তি কোথায় ? তুমি মনে দৃঢ় বিশ্বাস আন আমার গোপাল শান্তি দাতা শ্রীভগবান তাহলেই তোমার কোন অশান্তিই থাকিতে পারে না । তুমি ইচ্ছা মত সব কিছু পাইবে । তোমার ত্রিকালে সর্ব্বানাশ নাই ।তোমার সব প্রকারে মঙ্গল করিতে আমি আসিয়াছি । দেখ, এতদিনে কোন অমঙ্গল হইয়াছে কি ? একমাত্র শৈলেনের দেনা আছে । তাহা পরিশোধ করিয়া আমি দিব । সেই চেষ্টায় আমি আছি । শৈলেনের ভক্তি থাকিলে আমি নিশ্চয়ই দেনা পরিশোধ করিব । আমার বাক্য সব সত্য হইবে, বিশ্বাস করিয়া লইলে । বাবার অসুখের জন্য কোন ভয় করিও না । আমি বাক্য করিয়াছি বাবার দেহ রক্ষা করিয়া আমি রাখব একটু আধটু, যা আছে আমি সরাইয়া লইতেছি ।

৬. আমার উপর অচল অটল বিশ্বাস থাকিলে অসম্ভব সম্ভব হইতে কতক্ষন ? ভক্তি বিশ্বাস নিয়া নিশ্চিন্তে বসে থাক, কোন ঝামেলায় পাইবে না ।

৭. ইহ পরকালে তোমরা সুখী হও । হাত দেখানো অভ্যাসের কি প্রয়োজন আছে ? কর্মফল খন্ডানো হয় না । তবে ইহা ধ্রুব সত্য যে আমার ভক্তের বিনাশ নাই । ভক্তি মার্গ থেকে বিচ্যুত না হইলে তোমাদের সকল বাসনাই পূর্ণ হইবে । গুরু দাতা, গুরুভ্রাতা, গুরুই পরমাশ্রয় ! সময় খারাপ, গ্রহের কোপ ইত্যাদিতে মন দিও না । নামে থাক । মাভৈঃমাভৈঃ আমি যে রয়েছি !

৮. সবই গুরুর ইচ্ছা, অহংকারের নাই বড়াই, যা করছেন সব আলেক সাঁই । ভক্তি মহাধন ভক্তি মার্গেই থাক । ভক্তি বলেই সব সম্ভবপর অহংকার করিও না । গুরু বল গুরু নামই সম্বল । গুরু ভ্রাতা, গুরু দাতা, গুরু মেহেরবান ত চেলা পাহলবান্‌। জয় গুরু, জয় গুরু, জয় গুরু ।

ঈশ্বর

১. তিনি ত অসীম অনন্ত তাঁর ধারনা করার শক্তি তো জীবের নাই ।

২. ঈশ্বর তো অসীম অনন্ত, সেই ধারনা করিবার শক্তি কি মানুষের আছে ? তাই গুরুতে ঈশ্বর জ্ঞান হইলেই তাহার আর পাওয়া থোওয়ার কিছুই বাকী থাকে না । মানুষের এই হ’ল সাধন ভজনের শেষ সীমা ।

-0-

বাৎসল্য প্রেম

১. আশীর্ব্বাদকরি, আমারসাথেতোমারমৈত্রীসখ্যদাস্যচিরকালকারহইয়াথাকুক । বাৎসল্যরসেরপূর্ণপ্রতিমাআমারযশোদামাইঅচিরেইসর্ব্বব্যাধিহইতেআরোগ্যলাভকরিবে । যেঘরেগোপালেরআগমনহয়, সেঘরেকিঅমঙ্গলথাকিতেপারে ?

প্রেম ভক্তি

১. যে দিকে ফিরাই আঁখি, সে দিকেই তোমায় দেখি” । প্রেম ভক্তি সাধনার ক্ষেত্রে এই অবস্থার দাম খুব বেশি । যোগী, জ্ঞানী দেখে আত্মময় জগৎ আর ভক্তে দেখে সর্ব্বময় শ্যামসুন্দরের মূর্ত্তি ।

নারায়ণ বৈদ্য যার গৃহে গোপাল রূপে আর্বিভূত হইয়াছে, সেই গৃহের অমঙ্গল কোথায় ? শুধু গর্ভে জন্ম নিলেই যে পুত্র হয়, জন্ম লওয়ার প্রধান কথা হইল-বাৎসল্য প্রেম ।

ধামদর্শন

১. গুরুধামে গিয়াও প্রার্থনা জানাইলে তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর হইবে এবং দুঃখ কষ্টের হাত এড়াইবে । আমি ধাম ছাড়া কোথাও যাইনা । তুমি আশ্বস্ত হও । জয় গুরু বলে মার হুঙ্কার সব অন্ধকার দূর হইয়া যাইবে ।

২. তোমাদেরকল্যাণেরজন্যইতোগুরুধামতৈয়ারকরিয়াছি । আমিনাইতাইকি, আমারআসন, আমারফটোসবকিছুইতোআছে, যখনযাহাহয়, ভক্তিসহকারেআসনেপ্রার্থনাজানাইলেইআমিপাবএবংপ্রার্থনানুযায়ীফলওদিব ।

৩. গুরুধামটি আমার সৃষ্টি উহার প্রত্যেক অণুপরমাণুতেও আমি বিদ্যামান রহিয়াছি । ধাম, ধামেশ্বর দুই নয়, ধাম দর্শনে আমার দর্শন জানিবে । তুমি তোমার অবসর মত ধাম পরস করিয়া আসিবে ।