বাণী কনিকা

আকাশ বাণী

দীক্ষা

১. তোমার দীক্ষা মন্ত্রটী দিনান্তে অন্ততঃ একবার লইও নামই তোমাদের আত্ম উন্নতি ও মুক্তির পথে অগ্রসর করাইবে ।

অবতার

১. এবার আমার অবতীর্ণ হ’বার একমাত্র উদ্দেশ্য ভক্তের উদ্ধার । তোমাদের উদ্ধার না করা পর্য্যন্ত আমারও চিন্তা দূর হ’বে না ।
২. ভক্তেরটানশক্তটান, সেটানকিআমিএড়াইতেপারি ? ভক্তআমারবড়প্রিয় । ভক্তেরজন্যইআমারএবারকারআগমন ।
৩. ভক্তের প্রাণের পিপাসা মিটানোর জন্যই আমার এ অবতার ।
৪. এবার আমার অবতীর্ণ হইবার একমাত্র উদ্দেশ্য জীবজগতের কল্যাণ-জীব উদ্ধার । তাই আমি জীবের সর্ব্বাধিক অশান্তি নিজে গ্রহণ করিয়া শান্তিধারা বিতরণ করি ।
৫. ভক্তের প্রাণের পিপাসা মিটানোর জন্যই আমার এ অবতার । তোমরা সরল বিশ্বাস নিয়া দিনান্তে একবার “জয় ব্রজানন্দ” বলে আমাকে স্মরণ করবে । আমার আসনে প্রার্থনা জানাবে । আমাকে পূজা বা ভক্তি আমার ফটোতে বা আমার আসনে দিবে । আমি গ্রহণকরিব । বাবা তোমরা নিঃসন্দেহে সাধন করে যাও । ফল লাভ ধ্রুব সত্য । তোমরা যতখানি মন দিবে ততখানিই কাজ পাবে । ঠিক ঠিক ভক্তি চাই নইলে হবে না । গুরুতে বিশ্বাসগুরুতে ভক্তি, গুরুতে একনিষ্ঠ হও ।
নাম

১. তোমার ধানাই পানাই ছেড়ে দিয়ে আমার নামে পরে থাক । তোমাকে আর কোন আপদ বালাইতে পাবে না ।

২. তোমাদের নামের মধ্যেই আমার পূর্ণশক্তি রহিয়াছে । সময় মত নাম কর । নামের কাছে যে যা চাইবে সে তাই পাবে ।

৩. হনুমান যেমন রামনামের জোরে এক লাফেই সাগর পার হইয়া গেল আবার গন্ধমাদন পর্বতটাও হাতে করে নিয়ে এল, আমার ইচ্ছা তোমারও আমার নামে সেইরূপ বিশ্বাস হউক । এবার একটা লীলা তোমাকে দিয়ে করে যাই, জগতে একটা দাগ রেখে যাই । আগেও যেমন নামের গুণে এই সব লীলা হয়েছে তবে এখন কেন হইবে না

৪.

৫. নাম কর । “আমিই সেই ব্রজানন্দরূপ কৃষ্ণ । আমি বড় বাপের বেটা । আমার আবার ভয় কোথায়” ? জোর করে বল । প্রাণ দিলে কি কর্ম্মে ছাড়বে বাবা ? তবে তোমার ভাগ্য ভাল ।সদগুরুর শিষ্য মহাভাগ্যবান ।

৬. তোমার আর কোন ভয় নাই । সদ্ গুরুর শিষ্য মহাভাগ্যবান, তুমি দিনান্তে গুরু নামটা একবার স্মরণ করিও । এই নামই তোমার জীবনের থাম । ঘরে থাম লাগাইলে যেমন ঘর ভাঙ্গবার ভয় থাকে না সেই রুপ ইহা তোমার দেহঘরের থাম, দেহঘর আর ভাঙ্গবার ভয় নাই ।

৭. তুমি নির্ভয় নিশ্চিন্তে থাক তোমার দুঃখ নাই । সদ্ গুরুর শিষ্য মহাভাগ্যবান । দিনান্তে গুরুদত্ত নামটি একবার লইও । নামকে অক্ষর মনে করিওনা, গুরুকে মানুষ মনে করিওনা, প্রতিমাকে শীলা মনে করিওনা । তবেই তোমার উর্দ্ধগতি, অধঃগতি নাই । আমি ও আমার নাম অভেদ । নামের কাছে খোঁজ আমাকে পাইতে হইলে । আমাকে দিয়া তোমার যে কাজ হইত আমার নাম দিয়াও তোমার সে কাজ হইবে ।

৮. তোমরাআমারনামধর । আমি ওআমারনামএকইবস্তু । আমাকেদেয়পূজাবাভক্তিআমারনামেআসনের ফটোতেদিলেআমিইপাবো । সেখানহইতেইতোমাদেরঅভিষ্টপূর্ণহবে । নামেরভেতরদিয়েইতোমাদেরঅভীষ্টপূর্ণহবে ।আমিতোমাদেরকোনকিছুইঅপূর্ণরাখিনাই, সবকিছুইপূর্ণকরেদিয়েছি । অন্যকোথাওযেতেহ’বেনা ।

৯. নামের বলে সব দুঃখ দারিদ্র সঙ্কট হইতে উদ্ধার পাইবে ।

১০. নামতরোয়ালহাতেলইয়াবসিয়াথাক । তোমারকোনভয়নাই ।

১১. তুমি একান্তমনে আমার নাম করে যাও; নামেই আমি আছি লীলার অভাব হবে না ।

১২. তোমরা সরল বিশ্বাস নিয়া অন্ততঃ দিনান্তে একবার “জয় ব্রজানন্দ” বলে আমাকে স্মরণ করবে । আমার আসনে প্রার্থনা জানাবে । আমাকে দেয় পূজা বা ভক্তি আমার ফটোতে বা আসনে দিবে । আমি গ্রহণ করিব । মাই তোমরা নিঃসন্দেহে সাধন করে যাও । ফল লাভ ধ্রুব সত্য । তোমরা যতখানি মন দিবে ততখানিই কাছে পাবে । ঠিক ঠিক ভক্তি চাই নইলে হবে না । গুরুতে বিশ্বাস, গুরুতে ভক্তি গুরুতে একনিষ্ট হও । তোমরা আমার নাম ধর । আমার দেহটাকে ধরিও না, দেহ একদিন যাবেই । এ অনিত্য দেহ কাজেই তোমাদের নাম দিয়েছি । নাম ধর, পার হবে, সংসার জ্বালার হাত এড়াবে ।
১৩. এ নশ্বর দেহ আর কত কাল সাকার থাকিবে । বাবা তুমি নির্ভয় থাক । আমাকে দিয়া যে কাজ হইবে, আমার নাম দিয়াও সেই কাজ হইবে । আমার নামই সত্য সেই নামই তোমার কাছে রহিল ।

১৪. যে নাম করিয়া আমি উদ্ধার পাইয়াছি সেই নামই তোমাদের দিয়াছি । আমাকে তোমাদের মধ্যে বিতরণ করিয়া দিয়াছি । শ্রদ্ধা বিশ্বাসের সহিত নাম জপ কর, তোমার অহংকে ব্রজানন্দ লয় লয় সোহম্ হইয়া যাও ।

১৫. নামই সত্য চিরনিত্য, নামের অপার মহিমা, যখন যা কিছু অভাব বোধ কর নামের কাছে সরল শিশুর মত চাও, হাত পাত, পাইবে । তোমার কোন কিছুরই অভাব থাকিবে না ।

১৬. নাম সত্য আর সব মিথ্যা । মন মুখ এক করিয়া নামটি চালাও । নামে অবিশ্বাস বা অশ্রদ্ধা আনিওনা । যে নাম করিয়া আমি উদ্ধার পাইয়াছি, সেই নামই আমি তোমাকে দিয়াছি । আমাকে দিয়া তোমার যে কাজ হইবে আমার নাম দিয়া তোমার সেই কাজ হইবে ।

১৭. তোমার যখন যা কিছুর দরকার পড়ে আমার নামের কাছে প্রাণ খুলিয়া চাইবে । শিশু যেমন মাকে ডাকে কাছে, তেমনি তুমি আমাকে ডাকবে । তোমার আশা আকাঙ্ক্ষা আমি মেটাবো । তোমার সব কাজে আমাকে সাথে করিয়া লও, গুরুধাম চালাও । ইহাতেই তোমার গতি মুক্তি অনিবার্য্য ।

১৮. আমারনামেরমধ্যেইসবকিছুআছে । আমাকেদিয়াযেকাজহ’বেআমারনামদিয়াওসেইকাজহ’বে ।“নামবিনেযেকেহনাপায়মুক্তিকোনকালে”।

১৯. অসুখ বিসুখ তোমার কি করিতে পারে ? গোপাল যে তোমার আঁচল ধরিয়া বসিয়া আছে । তোমার দেহ ঘরের খুঁটি শক্ত আছে, ঝড় তুফানে ফেলিতে পারিবেনা । মা, নাম তরোয়াল হাতে রাখ । “কি দিব তুলনা বলনা তাঁহারি ব্রজানন্দ মোর ব্রজের কানাই” । আমার বাবার অবস্থা খারাপ হইতে পারেনা । আমি কি শুধুই এখানে বসিয়া আছি ? আমার চারিদিকেই নজর আছে । আমার বাবার অসুখ নাই । আমার সাধুবাবা আমার স্বরূপ, আমার ভাবকান্তি এ যাত্রাতে রক্ষা পাইবেই । আমার যে আনন্দ করিবার আরও ইচ্ছা আছে । সুরধণীরমা ও কাকার রোগ উপশম কামনা রাখিলাম

২০. দিনান্তে গুরু নামটি একবার স্মরণ করিও । যে নামে আমি সিদ্ধি লাভ করিয়াছি সেই নামই তোমাদের দিয়াছি । আমাকে দিয়া তোমাদের যে কাজ হইত, আমার নাম দিয়াও তোমাদের সে কাজ হইবে । তোমার যখন যাহা দরকার পড়ে নামের কাছে চাহিলেই পাইবে-আরও ।

২১. আমি তোমাদের পূর্ণশক্তি দিয়াছি, অপূর্ণ বলিয়া কিছুই রাখি নাই । গুরুনামই একমাত্র সার ও সত্য আর সব আলুনি । তোমাদের কোনই ভয় নাই । জয় ব্রজানন্দ বলিয়া হুঙ্কার দিয়া আনন্দে ভরপুর থাক ।

২২. গুরুর অধিক আর কেহ নাই । গুরু সর্ব্বেশ্বর সকলের নিয়ন্তা ও নির্ব্বাহ কর্ত্তা । তোমরা এই বোধে নাম কর, ধ্যান কর, গুরু চিন্তাকর, দর্শন কর, জপ কর, সেবা কর, পূজা কর, উপাসনা কর, তোমাদের অভীষ্ট লাভ হইবে । অভাব রাক্ষসীর তাড়না সহ্য করিতে হইবে না । কামনা বাসনা পূর্ণ হইবে বিপদ আপদ, রোগ শোক, দুঃখ কষ্ট দূরে যাইবে । সাপে বাঘে খাইবে না, দৈন্য থাকিবে না । এই কয়টা ত হবেই আধ্যাত্মিক জীবনও মঙ্গলময় হইবে ।

২৩. তোমরা আমার নাম ধর । আমার দেহটাকে ধরিও না । দেহ একদিন যাবেই । এ অনিত্য দেহ তাই তোমাদের নাম দিয়াছি । নাম ধর পার হবে, সংসার জ্বালার হাত এড়াবে ।

২৪. নামটা করবে নামের মধ্যেই সব আছে । আমি তোমাদের কোন কিছুই অপূর্ণ রাখি নাই । নামের মধ্যেই আমার সব কিছু দিয়াছি ।

২৫. আমার নাম ধর । আমার দেহকে ধরিওনা । দেহ আজ আছে কাল নাই । তাই তোমাদের নাম দিয়েছি । নাম চিরদিনই থাকবে । নাম সত্য, নাম সত্য । যখন যা কিছু দরকার পরে নামের কাছে চাইবে । নামের কাছে সব পাওয়া যাবে ।

২৬. তুমি সব ছেড়ে নাম কর । সাধুর তো নামই একমাত্র সম্বল ও বল ভরসা । সাধুর বৈদ্য নারায়ণ আর নাম ঔষধ ।

২৭. আমি তো তোমাদের কাছেই আছি । নাম, নামী অভেদ, আমাকে দিয়ে তোমাদের যে কাম হইবে, আমার নাম দিয়াও তোমাদের সেই কাম হইবে । আমার কাছে পূজা দিয়া যে ফল পাইবে, আমার নামের কাছে পূজা দিয়াও সেই ফলই পাইবে । আমাকে পূজা দেওয়া আমার নামের কাছে পূজা দেওয়া একই কথা ।

২৮. তোমরা যে একদিন সেই সোহহং ব্রজানন্দই তো ছিলে ! আজকে মায়ার ফাঁদে পড়িয়া সেই রূপ হারায়ে ফেলিয়াছ । তাইতেই তো রোগ শোকের অধীন জন্ম মৃত্যুর অধীন হইয়াছে । এক্ষণে ব্রজানন্দ জপ করে ব্রজানন্দ হয়ে যাও । তাহা হইলে রোগ শোকে বা জন্ম মৃত্যুর অধীন হইতে হইবে না ।]

২৯. তোমরা দিনান্তে গুরুদত্ত নামটি একবার স্মরণ করো; তোমাদের কানে যে নাম দিয়েছি উহাশক্তির আধার গুরুদত্ত নাম ও গুরু অভেদমনে করিয়া সাধন করে যাও । নাম এবং নামী অভেদ । সরল বিশ্বাসও ভক্তি লইয়া থাক, তোমরা সমস্ত বিপত্তি হইতে পরিত্রাণ লাভ করিবে । নামটি জপ করিবার কালীন গুরুমূর্ত্তি লক্ষ্য করিয়া জপ ও ধ্যান করিবে । সন্ধ্যা আহ্নিক করিবার কালে প্রার্থনা করিবে ঠাকুর আমি তোমারই স্বরূপ তুমি ও আমি এক বস্তুই । মায়া মোহে আবদ্ধ হইয়া আজ আমরা তোমা হতে পৃথক হয়ে গেছি । এক্ষনে তুমি আমাদের তোমার করিয়া লও, তোমার নিত্য, সত্য স্বরূপ আমায় দাও । মাই তোমরা এইভাবে গুরুকে সাধন করিয়া যাও । তোমাদের উভয় লোকেই মঙ্গল ।

৩০. আমি এই সুদীর্ঘ জীবন যে নাম লইয়া (জপিয়া) জাগতিক দুঃখ কষ্টের পরপারে গিয়াছি তোমাদেরও সংসার জ্বালার হাত এড়াইতে ঔ ভব সাগর তরিতে সেই নামই দিয়াছি ।
গুরু

১. আশীর্বাদ করি তোমার অভীষ্ট পূর্ণ হউক । তোমার গুরুতে অনন্য ভক্তি হউক । তোমার মন গুরুতে সম্যক বিলীন হউক । সূর্য্য উদয় না হলে সংসারের অন্ধকার ঘোঁচেনা, তেমনই গুরু বিনে মানুষের মনের অন্ধকার দূর হয় না । শ্রী গুরুদেবের চরণ কৃপা হইতে মানুষ সংসার সাগর পার হইয়া থাকে । গুরু বিনে নিস্তার নাই ।

২. গুরুভক্তিতে জন্ম জন্মান্তরের পাপরাশি নষ্ট হয় । যেমন অগ্নিতে যাহা কিছুই পড়ে তাহা ভষ্ম হইয়া যায় । দেবতারা পর্য্যন্ত ইচ্ছা করিয়া থাকে ভারত ভূমিতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভক্তি লাভ করিতে ।

৩. শুদ্ধমনে ভাগব্ ত রূপে গুরুতে ভক্তি রাখিলে তাহার সমস্ত মনস্কামনাই সিদ্ধ হইয়া যায় । ভজন, পূজা , পাঠ, দান-আদিকর্ম্ম করিলে যে ফল হইয়া থাকে তাহা এক ভক্তিতেই লাভ হইয়া থাকে । গুরুভক্তি জাগাইবার জন্যই যে গুরুধামের প্রতিষ্ঠা হইল ।

৪. সদ্ গুরুর শিষ্য মহাভাগ্যবান । সদ্ গুরুর আশ্রয় পাইলে তাহার আর চিন্তা ভাবনার কিছুই থাকে না, কামজারীও থাকে না । সে হেলায় হউক, নিষ্ঠায় হউক দিনান্তে নামটি একবার লইলেই হয় । তবেই তোমার ইহ পরকালের কাজ হইয়া যায় । তোমাদের কোন সাধন ভজন নাই, এক বার জয়গুরু বলে ডাক দিবা মাত্র । দয়াল হরির আগমনে জীবের সাধন ভজন সরল হইয়া যায় ।

৫. সদগুরুরশিষ্যমহাভাগ্যবান, তোমরাআমারআশীর্ব্বাদশিরেধারণকরিয়ানির্ভয়ওনিশ্চিতহও ।
“সদগুরুর আশ্রয় বিনে যত দেখ ধর্ম্ম,
সকলই অনর্থ মাত্র শ্রুতিগণের মর্ম্ম ।
যে ধর্ম্ম সংসার পুনঃ পুনঃ উপজায়,
সে ধর্ম্ম অধর্ম্ম মানিয়া শ্রুতি গায় ।
বহু ভাগ্যে যদি হয় সাধুর সঙ্গতি,
বুঝায় যথার্থ তবে ঘুঁচায় দূর্মতি ।’’

৬. গুরু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বস্তু জগতে আর কিছুই নাই । যে শিষ্য সর্ব্বদা গুরু মূর্ত্তি ধ্যান করে সে কাশীবাসের ফল লাভ করে । গুরু তারকব্রহ্ম স্বরূপ, নররূপী ভগবান । গ এই বর্ণটি উচ্চারণ করলে মহাপাতক নাশ হয়, উ উচ্চারণে ইহজন্মের পাপ নষ্ট হয় । তুমি একটু আমায় স্মরণ রাখিবে । তবেই আমি তোমাদের দুটি প্রাণীর মুখ উজ্জল ও শান্তি সুখ দান করিতে পারিব ।

৭. গুরু কাঁচ পোকা তুল্য ও শিষ্য তেলাপোকা স্বরূপ । কাঁচ পোকা তেলা পোকাকে ধরলে তেলা পোকা কাঁচ পোকাকে অবিশ্রান্ত চিন্তা করতে করতে আপনার স্বরূপ হারাইয়া কাঁচ পোকার স্বরূপ ধারণ করে, সেই প্রকার তোমরাও আমার সচ্চিদানন্দ স্বরূপের চিন্তা করিয়া সচ্চিদানন্দ হইয়া যাও ।

৮. আশীর্বাদ করি শ্রীগুরুতে তোমার অচলা ভক্তি ও অটল বিশ্বাস হউক । গুরু যে সেই পরমবস্তু, পরমাত্মা, পরমেশ্বর ইহা তোমার বুঝিবার শক্তি লাভ হউক । আমার এই আশীর্ব্বাদেই তোমার ষোল আনা বিশ্বাস হইলেই যে তুমি ত্বরিয়া যাও । তোমার সমস্ত দুঃখের নিবৃত্তি হইয়া যায় । সেই দর্শন পাইলেই যে আনন্দ লাভ করিতে পার, পরম শান্তি পাইতে পার । জীবে ঠিক ঠিক দর্শন পায়না বলিয়াই এত হায় হায় রব ও দুঃখ কষ্ট ।

৯. তোমাদের গুরু করণী অনেক কিছুই করা হয় নাই । বসন, ভূষণ আসন প্রদান ইত্যাদি কর্ম্মদ্বারা সাত্বিকতাময় জীবন লাভ কর । বৈধ কর্ম্ম চিত্তের মলিনতা দূর করে । চিত্ত স্থির হলেই অশ্রান্ত জ্বালা, তীব্র মনস্তাপ পেতে হ’বে না ।

১০. আশীর্ব্বাদ করি গুরুতে তোমার ঈশ্বরজ্ঞান লাভ হউক, তবেই তোমার গুরু করণীয় সার্থক ।

১১. তুমি আমার দিকে চাহিয়া থাক । তোমার সংসার আপনিই চলিবে । তুমি চিন্তা করিয়া কি এক হাত বাড়াইতে পারিবে ? গুরুর ইচ্ছায় যা হইবার হইবেই । আমার সখা সখিদের কোন ভয় নাই । তাহারা যেন আমাকে মানুষ জ্ঞান না করে । গুরুব্রহ্মা, গুরুবিষ্ণু মানে আর কিছুই না গুরুতে সব মেনে নেওয়া । ঈশ্বর তো অসীম অনন্ত, সেই ধারনা করিবার শক্তি কি মানুষের আছে ? তাই গুরুতে ঈশ্বর জ্ঞান হইলেই তাহার আর পাওয়া থোওয়ার কিছুই বাকী থাকে না । মানুষের এই হ’ল সাধন ভজনের শেষ সীমা ।

১২. গুরুর অধিক আর কেহ নাই । গুরু সবচেয়ে আপন । গুরু সর্ব্বেশ্বর জগৎ কর্ত্তা ও নিয়ন্তা, তোমরা এই বোধে নাম কর, ধ্যান কর, চিন্তা কর, দর্শন কর, জপ কর, সেবা কর, পূজা কর, উপাসনা কর; তোমাদের অভীষ্টলাভ অতি শীঘ্রই ও সুনিশ্চিত । অভাব রাক্ষসীর তাড়না সইতে হবেনা, কামনা বাসনা পূরণ হবে, বিপদ আপদ দুঃখ কষ্ট দূরে যাবে । কোন ভৌতিক ভয় থাকবে না । এই কয়টা তো হবেই, আধ্যাত্মিক জীবনও মঙ্গলময় হবে । তোমায় আমায় ভেদ থাকবেনা । অবিনশ্বর শান্তি ও আনন্দের উপলব্ধি হবে । এই নামে যোগ ভোগ দুই আছে । সংসার ও সরল বিশ্বাস নিয়া দিনান্তে অন্তত একবার জয় ব্রজানন্দ বলে আমাকে স্মরণ করবে । আমার আসনে প্রার্থনা জানাবে । আমাকে দেয় পূজা বা ভক্তি আমার ফটোতে বা আমার আসনে দেবে আমি গ্রহণ করবো । তোমরা নিঃসন্দেহে সাধন করে যাও, জন্ম সফল হবে । তোমরা যতখানি মন দেবে ততখানিই কাজ হবে । গুরুতে বিশ্বাস, গুরুতে ভক্তি গুরুতে একনিষ্ট ভাব রাখো ।

১৩. গুরুধর, সংসারে ভয় পাবে না, এতো সুখের জায়গা নয়, একটা হলো, একটা গেল, সে অভাব লেগেই আছে ? তবে গুরুতে মন রেখে কর্ম্ম করে যাও । খুটা ধরবে, তবে আছাড় খাবে না, চূর্ণ হবে না । দেখ না জাত্তার মাঝে যে খুটা রয়েছে, সেই খুটোর তলায় মটরাদি শয্য সকল নিষ্পেষিত হয় না । তেমনি গুরু স্মরণাগত শিষ্যকে গুরুই সহায় হয়ে রক্ষা করেন । কিছু সময় স্থিরভাবে গুরুমূর্ত্তির চিন্তা করবে, তা হইলেই সব পাইবে, সংসার সুখের হবে । ঐহিক পারত্রিক উভয়ই মঙ্গল হবে

১৪. গুরুরচেয়েআপনআরকেআছে ? পিতাকেভক্তিকরলেস্বর্গলাভহয় । মাতাকেভক্তিকরলেসংসারসুখলাভহয়। স্ত্রীকেভালোবাসলেলক্ষ্মীসুপ্রসন্নাহন । আরগুরুকেভালবাসলেভক্তি করলেএইকয়টাতোহয়ইউপরন্তকৈবল্যলাভহয় । তাইগুরুভক্তিলাভেরজন্যবদ্ধপরিকরহও । গুরুনামকরতাকেডাক, ডাকতেডাকতেমনেরময়লাযাবে, তবেগুরুতেঈশ্বরবুদ্ধিহবে, গুরুতেবিশ্বাসআসবে, ভালবাসতেপ্রাণেচাইবে । ঠিকঠিকভালবাসাসহজনয়সাধনচাই ।

১৫. তাই গুরুতে ঈশ্বর বুদ্ধি ফেলে গুরুতে মন রেখে নির্ভয় নিশ্চিন্তে বসে থাক শান্তি আপনেই আসবে ।গুরুগীতাই তার সাক্ষ্য।

দর্শন

১. পুনঃ পুনঃ দর্শন না পাইলে এ দুর্জ্জেয় কর্ম্মভোগ কাটিবে কি করে ? না কাটিলে কর্ম্ম পাশ সকলি যে অশিব । কামনা নাহিক আর লভিতে জনম , কর্ম্মফল শেষ কর নমো নারায়ণ । এই সব অবস্থা লাভ কি করে করবে ?

২. ভগবানের জন্য অনুরাগ, তাঁকে দেখার ইচ্ছা, তাঁর সান্নিধ্য অভিলাষ সে তো পরম এবং চরম কথা, এর উপর আর কিছুই নাই । তাহা হ’লে ত আর কোন কিছুর অভাব থাকে না ।

আবির

১. আমার মাই নামে বিশ্বাস, নামে নির্ভর দিয়া আছে তো ? এই সঙ্গে শ্রীচরণ স্পর্শিত আবির পাঠাইলাম । তোমরা সকলেই মাথায় ছোঁয়াইয়া ভক্তি করিও । থাকবেনা তোমাদের দুঃখ কষ্ট, আপদ বালাই । গুরুব্রহ্মা, গুরুবিষ্ণু, গুরুদেব মহেশ্বর ।

সংসার

১. তুমি আমাতে মন রেখে নির্লিপ্ত সংসারী হও । নির্লিপ্ত সংসার কিরূপ তাহা বলিতেছি । শ্রীগুরুতে মন লিপ্ত করে, ইন্দ্রিয়াদি দ্বারা সংসার উপভোগ করে যাবে । এই সংসার করতে তোমার কোন দোষ নাই । ইহাকেই নির্লিপ্ত ভাবে সংসার করা বলে ।

২. তোমার গুরুতে আসক্তি এলেই সংসার আসক্তি থাকবে না । গুরুতে আসক্তি না জন্মিলে নিরাসক্ত ভাবে বিষয় ভোগ করা চলে না । গুরুতে সম্পূর্ণ নির্ভর করতে না পারিলে আত্ম সমর্পণ না দিলে বিষয় ভাবনা দূর হয় না । আরো পরিষ্কার করে বুঝে লও –গুরুতে মন রেখে স্ত্রী পুত্র লয়ে কিরূপ থাকবে-যেমন বড়লোকের বাড়ীতে চাকরাণী । বাড়ীর সমস্ত কাজ করে, ছেলেপিলেদের লালন পালন করে ঐ ছেলেপিলে মারা গেলে রোদনও করে কিন্তু সে জানে, তাহারা তাহার কেহই নয় । এই ভাবে ঠিক ঠিক সংসার করবে বাবা । তাহলে আর অশান্তি তোমায় পায় কি করে ? তুমি আমার কথিত মত সংসার কর । তুমি সরে যাবে কোথায় ? আমার আদেশ, তুমি কামনা বাসনা হতে সর । তবেই তোমার শান্তি, সুখ, উদ্ধার, মুক্তি ।

৪. সংসার দূর্গে থেকে যুদ্ধ করাই যে ভাল এবং শ্রেয় ।

৫. তুমি খুব সাবধান হয়ে গৃহস্থালী করবে । প্রেম প্রতিষ্ঠার জন্যই গৃহাশ্রম । তুমি ব্রহ্মনিষ্ট গৃহস্থ হও । কর্ম্মের ফল আমাতে অর্পণ কর । কর্ম্মফলে আসক্তি-পতনের কারণ । তুমি নিষ্কাম সাধক হও । কামনার তাড়নায় অধীর হয়োনা । কর্ম্মে ব্যস্ত থাক ।

৬. তোমরানির্লিপ্তসংসারীহও । সংসারকর, বিষয়াসক্তহও,সংসারেডুবিয়াযাওতাতেকোনক্ষতিনাই, কিন্তুহুসিয়ারহওযেনসংসারতোমারউপরেসোয়ারনাহয় । বাবাএইবিষয়েখুবইসতর্কথাকিবে । বাহ্যিক সংসারী সাজ, সাংসারিক কর্ত্তব্য কর্ম কর কিন্তু অন্তরে ত্যাগ বৈরাগ্যের ভাব নিস্ক্রিয় নির্লিপ্ত ভাব জাগাইয়া রাখ ইহাই আমার একমাত্র ভিক্ষা তোমাদের কাছে