বাণী কনিকা

ভূমিকা

১ জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন ।
২ স্বপ্রয়োজন অপেক্ষা মুক্তি প্রয়োজনই শ্রেষ্ঠ ।
৩ নির্ব্বান মুক্তিই একমাত্র কাম্য । মনুষ্য জন্ম লাভ ও সেই জন্যই ।
৪ তুমি আত্মজয়ী হইয়া জন্মমৃত্যুর হাত হইতে মুক্ত হও । তোমার জন্ম সফল হউক ।
৫ সংসারী লোক তো মরিতে আসিয়াছে । আর আমরা মৃত্যুকে জয় করিতে আসিয়াছি ।
৬ ত্যাগেই সুখ, ভোগে সুখ নাই । তন্‌ মন্‌ ধন্‌ সব কিছুই ধর্ম্মার্থে লাগাইয়া দাও । জীবনের উদ্দেশ্যও তাই বটে ।
৭ খাওন নিধনের জন্য কাঁদিও না । তোমার গোপাল লাভ হয় নাই সেই জন্য কাঁদ । এ দুদিনের ভোগ সুখ দিয়া কি করিবে ? ভোগে কি সুখ আছে ? সুখ যোগে । সুখ গুরু পাদ পদ্মে । সে সুখ কোনকালে ফুরায় না । সংসার সুখে কেবলি দুঃখ আর জ্বালা । কেবল ঘোরাঘুরি, আসা যাওয়া । মুক্তি নাই ।
৮ এই পথে কিছু রাখিয়া কিছু দিলে চলিবে না । ফাঁক রাখিয়া ধর্ম্ম করিতে নাই ।
৯ তুমি উদ্দেশ্য হারাইয়া খালি উপায় নিয়া ঝগড়া করিয়া আত্মচিন্তা হইতে বিমুখ হইও না ।
১০ ইচ্ছাময়ের ইচ্ছায় ইচ্ছা মিলাইয়া দাও । তাঁহার যাহা ইচ্ছা তাহাই ভাল, তাহাই আদরের সহিত গ্রহণ কর । ভগবান যতই কেন কষ্ট দিন না ভক্ত তাঁহার দিক ভিন্ন অন্য দিকে তাকান না ।
১১ ভক্তির মত এমন শক্তিধর বস্তু আমার চোখে পড়ে না ।
১২ভগবানের ভক্তি বিশ্বাস এবং একান্ত শরণাগতী লাভ করিয়া জীবনের সার্থকতা লাভ কর ও সুখে স্বচ্ছন্দে দিন অতিবাহিত কর ।
১৩তোমাদেরঐহিকওপারত্রিককল্যাণেরপথমুক্তকরিয়াদেওয়াইআমারএকমাত্রকর্তব্য ।
১৪তোমাদের ইহ -পারলৌকিক মঙ্গল কামনাই আমার একমাত্র জীবন ব্রত ।
১৫তুমি সকল বাধন ছিন্ন করিয়া দেহমন সমর্পিয়া শ্রীচরণের দাসী হও ।
১৬ আত্মসমর্পণের তুল্য আর যোগ নাই ।
১৭ তোমাদের গুরুদেবই ঈষ্ঠ দেবতা ।
১৮ গুরু দাতা, গুরুভ্রাতা, গুরুই পরমাশ্রয় ।
১৯ গুরুরঅধিকআরকেহনাই, গুরুসর্ব্বেশ্বর, সকলেরনিয়ন্তাওনির্ব্বাহকর্ত্তা।
২০ গুরু বাক্যং সদা সত্যং’ জানিয়া আঁচলে গিট দাও ।
২১ সর্ব্বধর্ম্মবিসর্জনকরিয়াএকমাত্রআমারস্মরণলও, আমিতোমারসর্ব্বপাপদূরকরিব ।
২২ আমার ইচ্ছার সাথে তোমার ইচ্ছা মিলাও; ফল আশু হবে ।
২৩ আমার ভক্তের বিনাশ নাই ।
২৪ বিনয়ী, নম্র, দয়ালুহৃদয়বিশিষ্ট হইলে তবে সে শিষ্য পদের অধিকারী হয় ।
২৫ গুরুসেবা পরায়ন শিষ্যই আমার সেবার অধিকারী ।
২৬ আমারকৃপালাভেরযোগ্যহও ।
২৭ শ্রীগুরুই যেন তোমার ভাবের বিষয় হয় ।
২৮ গুরু ধ্যান, গুরু জ্ঞান, গুরু চিন্তামণি, গুরু বিনে অন্য কিছু না জানিও তুমি ।
২৯ যার জগৎ তাতে যত বেশী মন দেবে তত শান্তি পাবে ।
৩০ তুমিবিপদেরমাথায়পাফেলিয়াসংসারপথেচলিয়াযাও । তোমারগায়েএকটাআঁচরপর্য্যন্তলাগিবেনা ।সংসারযাঁতাঘুড়িতেথাকুকতুমিখুঁটিআশ্রয়করিয়াপরমানন্দলাভকর ।
৩১ সদর্থে তোমার কায়িক পরিশ্রম ব্যয় করিলে তোমার প্রাণ ভক্তিপূর্ণ ও পবিত্র হইবে ।
৩২. পাওয়ার মত পাইতে হইলে দেওয়ার মত দিতে হয় । তবে তো আমার কৃপালাভে ধন্য হইবে ।
৩৩. ইহকালে সুখী ও পরকালে পরমৃত লাভ করিবে ইহাই আমার একমাত্র আশীর্বাদ ও ইচ্ছা । এ ইচ্ছার গতিরোধ করে এমন কেহ নাই । তুমি নির্ভয় ও নিশ্চিন্তে থাক আর দিনান্তে আমাকে একটু স্মরণ করিবে তবেই আমি তোমাদের ভার বোঝা বহিতে পারিব ।
৩৪. বৈষ্ণবেরআশীর্ব্বাদশিবেরভূষণ, ঘুঁচায়সংসারদৃঢবন্ধন ।
৩৫. সদ্য ফলের বৈদ্য ব্রজানন্দ হাতে হাতে ফল দেয় বাবা মন খুলিয়া একটু বিশ্বাস ভক্তি ফেল ।
৩৬. তোমরা নির্ভয়ে থাক; ব্রজানন্দের শিষ্যেরা মহাভাগ্যবান । জল তাহাকে ক্লিষ্ট করিতে পারিবেনা বায়ু তাহাদিগকে শোষণ করিতে পারিবেনা, এবং অগ্নি তাহাদিগকে দগ্ধ করতে পারিবেনা ।
৩৭. ভালমন্দসবইতোতাঁর, তোমারকিকিছুকরারশক্তিআছে ?
৩৮ শ্রীভগবানের চরণ সেবায় তোমার জীবন অতিবাহিত হউক । সাধু গুরুর কৃপায় তোমার সংসার সাগরে ডুবন্ত মন ভাসিয়া নির্লিপ্ত হইয়া উঠুক । তাঁহাদের সেবা পরিচর্য্যায়দেহপ্রাণঢালিয়াদাওতবেইএইনশ্বরদেহসার্থকনতুবাএহাড়মাংসময়দেহেরমূল্যকি ?
৩৯. বৈষ্ণবেরপদধূলিপরেগৃহেযায়সপ্তকোটীকূলতারহয়তোউদ্ধার”। বৈষ্ণবযেআপনজনবলিয়াতোমারপ্রাণেসাড়াদিলশুনিয়াতোমাকেআপনকরিয়াউদ্ধারকরিতেবাসনারহিল ।
৪০. সাধুযাহাবলেনতাহাইহয় ।
৪১. আমার বাক্য সব সত্য হইবে, বিশ্বাস করিয়া লইলে ।
৪২. বুড়াশিবের শিবরাত্রিতে সব লোক হইতে দেবতারা আগমন করিয়া থাকেন । তাহাদের চক্ষু গোচর হইলে দেহের সব রকম পাপের শান্তি হয়।
৪৩. বুড়াশিবেরশিবরাত্রিদর্শনকর । বুড়াশিবেরশিবরাত্রিদর্শন খুবই ফলপ্রদ যদিও তুমি বর্ত্তমানে কিছুই দেখিতে পাওনা কিন্তু পূণ্য সঞ্চয় হইলে একসময় দৃষ্টি গোচর হইবে ।
৪৪. কৃতঘ্ন কপাটীর বিনাশ অবশ্যই হইবে ।
৪৫. যে হৃদয়ে ক্ষমা নাই, দয়া নাই সে হৃদয়ে ভক্তি ও জ্ঞানের বীজ অংকুরিত হইতে পারে না ।
৪৬ দ্বৈত ভাব ত্যাগ কর, সর্ব্বভূত প্রাণীতে দয়াশীলা হও ।
৪৭ অহিংসা পরম ধর্ম্ম, অহিংসা জীবে দয়া এইসব কর্ম্মই অন্ধকার হইতে আলোর পথে লইয়া যায় । যেখানে হিংসা, দ্বেষ, অপ্রেম সেখানে আলোর প্রকাশ হইতে পারেনা ।
৪৮. নির্দয়ের হৃদয় অতিশয় কঠিন ও পাষানবৎ হয় । সেই হেতু সৎসঙ্গধারী হাজার সিঞ্চন করিলেও ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত হইতে পারেনা ।
৪৯. গুরুমুখের অমৃত বাক্য মনেতে করিয়া ঐক্য আর না করিও আশা ।
৫০. দম্ভ ও অহংকারের মাত্রা না বাড়াইলে আমি বধিব কেমনে ।
৫১. যে হৃদয়ে বিরহ নাই সেই হৃদয় শ্মশান সমান । ভগবানেরে পাইতে হইতে কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করতে হয় । হাসিয়া খেলিয়া কি কেউ কোনদিন ভগবানকে পেয়েছে ?
৫২. দ্বৈতভাবেপ্রেমনাই । অদ্বৈতেইপ্রেম ।
৫৩. দুঃখ, তাপ জ্বালা নামে ও প্রেমে থাকিলে অবসান হইবেই ।
৫৪. জীবের ইচ্ছায় কিছুই হয় না, গুরুর ইচ্ছায় সবই হয় ।
৫৫. “ব্রজানন্দের পা বেতালে পড়ে না” তাঁর লীলা খেলা চলন, বলন সবই যে ভক্তের মঙ্গলের তরে ।
৫৬. দুর্লভ বস্তু লাভ করিতে গেলে বাধা বিঘ্ন বহুৎ উপস্থিত হয়, ইহা যুগ যুগান্তর হইতেই চলে আসছে ।
৫৭. আমারভক্তেরবিনাশনাই । তবেসাধনায়চাইধৈর্য্য ।
৫৮. সবআমারউপরছেড়েদাও । আসক্তিশূন্যহও । নামেপ্রেমেথাক ।
৫৯. তোমরানির্ভয়ওনিশ্চিতথাক; আমারমঙ্গলময়দৃষ্টিসর্ব্বদাইতোমাদেরউপরআছে ।
৬০.কর্ত্তারইচ্ছায়কর্ম্মযাহইতেছেহইতেদাওতোমারকীযায়আসে ।
৬১. তোমারনির্ভয়ওভক্তিযতইবাড়বেতোমারশান্তিসুখওততইদেখাদিবে
৬২. ব্রজানন্দ নাম নেওয়া বাগান বন্যায় ভাসাইয়া লইতে পারবে না-না-না ।
৬৩. ভক্ত আমার হৃদয়ের বস্তু । ভক্তকে ভুলিয়া আর কাহাকে লইয়া থাকিব । ভক্তি মহারাণী । ইহাকে কোন কোন ভাগ্যবান পাইয়া থাকে । জাত চাষা না হইলে ইহাকে ধরা বড়ই মুস্কিল । প্রেম ভক্তি মুখে সবাই বলে । কিন্তু বালির বাঁধের মত চিরদিন উহা সমান থাকে না । প্রকৃত প্রেমভক্তি দুষ্প্রাপ্য । তবে সাধুজনের ভক্তি বিশ্বাস কোন অবস্থাতেই টলে না । যেমন চকমকি পাথর হাজার বছরও যদি মাটির নীচে থাকে তবুও তাহার আগুন কোন প্রকারে দূর হয় না ।
৬৪. পুত্র কন্যাগণকে বসন, ভূষণ, প্রেম ও মধুর কথায় সন্তুষ্ট রাখিবে এবং বিদ্যা শিক্ষা দিবে ও লালন করিবে ।
৬৫. সমস্তকর্ম্মকরিয়াবলিবে, “এতদ্রকর্ম্মফলগুরুনারায়ণেসমর্পিতমস্ত” ।
৬৬. বেহুলার মত স্বামীর হাড় কয়খানা বগল তলায় করিয়া মৃত পতিকে বাঁচাইবার জন্য বাহির হইয়াছিল-সেই বিশ্বাস রাখ ।
৬৭. সংসার সুখ দুঃখময় । পানা পুকুরের মত । ঠেলিয়া দিলে কি হইবে ? আবার আসিয়া ঘিরিয়া ফেলে । তুমি নামে থাক তবেই সংসারের তাপটা কিছু কম লাগিবে । নাম ছাড়িয়ে দিলে মোটেই রক্ষা নাই ।
৬৮. গুরু সহায় না হইলে জীবের একটি তৃণও তুলিবার ক্ষমতা নাই গুরু শক্তি ভিন্ন এই হস্তদ্বয় গ্রহণ করিতে পারে না, চক্ষু দর্শন করিতে পারে না, মন মনন করিতে, বুদ্ধি স্বকার্য সাধন করিতে অক্ষম হয় । আমার অপ্রকাশে তাঁহার প্রকাশ, আমার প্রকাশে তাঁহার অপ্রকাশ ।
৬৯. গুরুতে করিতে পারে ভবসিন্ধু পার ।
৭০. গুরুতে নির্ভর দাও, বিশ্বাস আন তোমার ইহকালে কি পরকালেও দুঃখ হবে না ।
৭১. নির্ভয় নিশ্চিন্ত থাক । নাম সত্য । নামে থাক, নাম হয়েছে নৌকা । নৌকায় থাকিলে যেরূপ হাঙ্গর কুমীরের ভয় থাকে না সেরূপ নামে থাকিলে সংসার বাঘে তাহাকে পায় না ।
৭২. বাবা যেখানে ব্রজানন্দের মহিমাকথা বলবে, সেখানে তার ও তোমার মাঝে আমি হাজির থাকবো বাবা ।
৭৩. বাবা, সব কর । এ ধারে একটু মন দাও । তোমার মঙ্গল হবে ।
৭৪ অন্তর্দৃষ্টিহীন অবিদ্যাগ্রস্ত জীব স্বীয় আত্মাকে ভুলিয়া বহির্দৃষ্টিতে বাহ্যেশ্বর আরাধনা ও ইন্দ্রিয়ক্রিয়ায় লিপ্ত হইয়া অশেষ
দুঃখের ভাগী হয় ।
৭৫ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে মায়ের নাড়ীর সঙ্গে যোগ থাকে । নাড়ী কাটা হলে তারা আলাদা হয় । কিন্তু আমাদের সাথে ব্রহ্মের যে-যোগ, তা কোন দিন আলাদা হবার নয় ।
৭৬ আমি তো বাইরে নই । তোমার অন্তরে ।
৭৭ সদ্‌গুরু শহরে হাটে গঞ্জে মিলে না । বহু জন্মের সুকৃতির ফলে সদ্‌গুরু লাভ হয় । সদ্‌গুরু ত্যাগী গুরু ।
৭৮ বিধাতার কলম রদ করতে পারে একমাত্র গুরু । একমাত্র গুরুই পারে ।গুরু, ত্যাগী গুরু । সদ্‌গুরু । তাইতো বলি তোমাদের, আসার চিন্তা ছেড়ে দিয়ে গুরু চিন্তা করো । পরিত্রাণ পাবে । বিপদের মাথায় পা দিয়ে চলবে ।গুরুই বস্তু । আর সব অবস্তু ।গুরুই সার আর সব আলুনি ।
৭৯ ভক্তিতেই মুক্তি ।
৮০ এ চরণ শিবের চরণ । এ-চরণ ভজে কেউ বিমুখ হয়নি ।
৮১ যে আমার একান্ত শরণ নেয় সে বিপদের মাথায় পা দিয়ে চলে । আমার ভক্তের বিনাশ নাই ।
৮২ বিধাতার কলম একমাত্র গুরুই রদ্‌ করতে পারে ।