“আত্মজ্ঞানের ভুবনে স্বাগতম”

আপন আত্মা পরমাত্মার স্বরুপ, এই অভেদ উপাসনা । এই উপাসনায় জীব সকল সিদ্ধি লাভ করিতে পারিলেই পরস্পরে বিবাদ বিসম্বাদ, হিংসা দ্বেষ থাকিবে না । জীব সকল শান্তি লাভ করিবে, অশান্তি ভোগ করিতে হইবে না । এই সত্য জ্ঞানের অভাব হেতুই জীব সকল অশান্তি ভোগ করিতেছে । আমি এই জ্ঞান জীবের অন্তরে প্রকাশ করিয়া সর্ব অমঙ্গল দূর করিয়া মঙ্গল স্থাপন করিব ।

সংসারী লোক তো মরিতে আসিয়াছে । আর আমরা মৃত্যুকে জয় করিতে আসিয়াছি ।

নিজেকে জানুন, বিকশিত করুন নিজের অসীম সম্ভাবনাকে ।

জগৎগুরাচার্য্য স্বামী ব্রজানন্দ  সত্য, প্রেম, পবিত্রতা, ভক্তি, বিশ্বাস, প্রজ্ঞা, ন্যায়-নীতি, ধর্ম-কর্ম, দয়া, ক্ষমা, করুণা, ঐশ্বর্য(প্রভুত্ব, সার্বভৌমত্ব, সমৃদ্ধি), বীর্য(শক্তি), যশ(খ্যাতি), শ্রী(সৌন্দর্য ও মহীমা), জ্ঞান(প্রজ্ঞা), তীব্র বৈরাগ্য(আসক্তিহীনতা), অনুগ্রহের, চির সত্যের, চির কল্যাণের, পরমানন্দময় সত্ত্বার জীবন্ত বিগ্রহ । তিনি সর্ব্বশক্তি ও গুণের আধার এবং মহাবিশ্বে বিদ্যমান চূড়ান্ত, অখণ্ড সত্যের বাস্তব ধারণা ও সৃষ্টির বস্তুগত, গুণগত, প্রামাণ্য ও অন্তিম কারণ ।

তিনি সর্ব্বভূতে বিদ্যমান । অনাদি, অনন্ত, শান্ত অপরিবর্তনীয় হয়েও সকল পরিবর্তনের কারণ ।

“পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম্মাবলম্বী চিরস্মরণীয় সাধক ও মহাপুরুষগণের মধ্যে ঠাকুর ব্রজানন্দের স্থান একটু স্বতন্ত্র কারণ তিনি সাধক নহেন স্বয়ং স্বাধ্য উপাসক নহেন উপাস্য এবং কোন ঠাকুর-দেবতার আরাধনা করেন না। ভগবান ব্রজানন্দ সকল ঐশ্বর্য্যে বিশ্ববিধায়ক” মানে পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী-মতপথ- দর্শনের চিরস্মরণীয় সাধক ও মহাপুরুষগণের মধ্যে তিনি অদ্বিতীয়, একটি স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমী নাম বা সত্ত্বা, সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন এক উচ্চতা বা মাত্রা ।

কেন তিনি অদ্বিতীয়, স্বতন্ত্র, কেন তিনি ব্যতিক্রম তা বুঝতে হলে তাঁকে যাচাই করতে হবে তাঁর বাণী দিয়ে, তাঁর কর্মজীবন পর্যালোচনা করে, তাঁর রহস্যপূর্ণ আচরণ দিয়ে বা তাঁর প্রতি মানুষের ভাবনার প্রতিচ্ছবি তা সে ছবি হতে পারে, কোন রচিত রচনা হতে পারে বা তাঁকে ভালোবেসে তাঁর প্রেমে পড়ে যে কেহর জীবনে যে ত্যাগ স্বীকার তা দিয়ে । তাঁর শিষ্য সমাজের বিশ্বাস এই অনন্ত কোটি বিশ্ব ব্রহ্মান্ড তিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি এর লালন-পালন করেন এবং অবশেষে তাঁতেই লয় হবে, এমনকি তাঁর আধুনিক ভক্ত সমাজেও তিনি নিরাকার পরম সত্যের অবতার রূপে পূজিত হন ।

“স্বামী ব্রজানন্দ” !!! এক রহস্যময় পুরুষ । অনন্ত রহস্যে ঘেরা তিনি । সদা রহস্যাবৃত । রহস্যের জাল বুনে থাকতেই পছন্দ করেন । এই রহস্যের খেলাই তিনি খেলছেন যুগে-যগে, কালে-কালে, দেশে-দেশে সময়ের প্রতিটি মুহুর্তে ।

মুক্ত মন নিয়ে সমস্ত জ্ঞানের কষ্ঠিপাথরে যাচাই করলে যে কারো কাছে সত্যের এমন এক দ্বার খুলে যা “যে মানব জাতি”র প্রত্যাশায় পৃথিবী তারি স্বার্থক ও অকল্পনীয় পবিত্র শক্তির প্রকাশ তাঁর মধ্য দিয়ে তিনি করেছেন এবং মানুষের সম্ভাবনা নিয়ে বলেছেন- অস্তিত্ত্বের এমন এক মাত্রায় প্রত্যেকের পৌঁছানোর সক্ষমতা রয়েছে যার স্বার্থক রূপকার তিনি ।

আবার তিনি ও তার সৃষ্টি সহ সকল অস্তিত্ত্ব সকল সত্ত্বা এক ও অদ্বিতীয় মানে বুড়াশিব থেকে যা উৎপন্ন তা শিবাদি বা ব্রজানন্দ থেকে যা উৎপন্ন তা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরাদি যাঁরা নিরবধি তাঁরি ধ্যানে মগ্ন অথবা পরব্রহ্ম থেকে এই দৃশ্যমান ও অদৃশ্য জগৎ যাই বলি না কেন সকল কিছুতে তিনি বিরাজিত ও সকল কিছুকে ধারণ করে আছেন । তবুও বহু কিছুর মধ্য দিয়ে তিনি ও সকল কিছু এক ভিন্ন দুই না ।

তা তিনি যাই হোন্না কেন তাঁর জীবনের এমন অনেক বিষয় বা দিক, আচরণ, গুণ বা তাঁর বিশ্বাস, উপলব্দ সত্য কিংবা জীবনকে উদযাপনের কলা সহ নানা বিষয়াদি উপকরণ নিয়ে আমরাও করে তুলতে পারি আমাদের জীবনকে সুন্দর, বর্ণিল, আনন্দময়, জীবনকে দান করতে পারি সর্ব্বোচ্চ মহিমা (ঐশ্বর্য্য, বীর্য, জশ, শ্রী, জ্ঞান, বৈরাগ্য পূর্ণ জীবন) আরো বেশি উপভোগ্য অথবা প্রতিটা দিনকে উদযাপনের কলায় পরিণত করতে পারি ।

স্বামী ব্রজানন্দের “জীবন বিজ্ঞান-ভাব-আদর্শ-ধারণা” বিশেষ কোন ধর্ম-মত-পথ,-দর্শন দিয়ে প্রভাবিত নয় বরং এই জীবন বিজ্ঞানের মধুর ভাব “আমি তোমার তুমি আমার, তুমি আমি এক ও অভিন্ন” । তাঁর সর্ব্ব ধর্ম-মত-পথ এর সনাতন সত্যের সরল সমন্বয় জীবনের সকল জটিলতার শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে জীবনকে সরল করে, আত্মরূপান্তরের সরলপথ দেখায়, গভীর জীবন বোধকে জাগিয়ে তুলে । সর্ব্বধর্মের সমন্বয় পরিলক্ষিত হয় তাঁর জীবন বিজ্ঞান ভাব আদর্শে বিধায় তিনি সকল ধর্ম-মত-পথ-জাতি, নারী-পুরুষ, পতিত-পাপি, সুখী-দুখি-রোগী-ভোগী, যোগী পূর্ণাত্মা নির্বিশেষে তিনি সকলার ও সার্ব্বজনীন ।

তিনি সমগ্র সৃষ্টির উপাস্য । সৃষ্টির পূর্বে তিনি ও আমরা এক সাথে একসত্বা হয়ে ছিলাম । সেই এক শক্তিই যখন ব্রজানন্দ ইচ্ছা করলেন তখন তিনিই নানা রূপে প্রকাশ হয়ে চলছেন । তাই আমরা এখন খন্ড হয়ে পড়ে আছি বা ব্রহ্মজ্ঞানের অভাবে তিনি(ব্রজানন্দ) ও আমি(সাধক) দুই মনে হচ্ছে । এই খন্ড থেকে শুদ্ধ চৈতন্যের আলোকে চিত্তশুদ্ধির মাধ্যমে আমাদের উত্তরণ ঘটিয়ে অখন্ড সত্ত্বায় নিজেকে খুজে পাওয়ার জন্য তাঁকে অনুসরণ, অনুকরণ অথবা গাইড বা তাকে সংগী করতে পারি কিংবা তাঁর উপলব্দ জ্ঞানকে কিভাবে কাজে লাগাতে পারি সে পথ খুঁজতে পারি । সে আলোকে জীবন যাপন করতে পারি ।

তিনি(ব্রজানন্দ) সমগ্র সৃষ্টির থেকে অবিচ্ছেদ্য কেননা সমগ্র সৃষ্টিতে তিনিই পরমাত্মা রূপে বিরাজমান । তাঁর কাছে আমাদের যেতেই হবে এর কোন বিকল্প নেই । তাঁর সাথে নিজেকে লীন করে দিয়ে ব্রজানন্দে “নিজ”কে আবিস্কার করতে হবে অর্থাৎ অবিদ্যা আমিকে লয় করে বা নাশ করে নিজেকে বিদ্যা আমিতে রূপান্তর করতে হবে মানে “শিবত্ত্ব লাভ” বা “ব্রজানন্দত্ব লাভ” । তবেই আমাদের জীবনের প্রতিটি বাক্য, কাজ, আচরণ, চিন্তা-ভাবনা, গতি-বিধি কল্যাণময় হয়ে উঠবে অর্থাৎ সর্ব্বশুদ্ধি মানে শুদ্ধ চৈতন্য লাভ হবে । তবেই না জীবত্ব শিবত্ত্বে রূপান্তর হবে তবেই না চিরমুক্তি । বলেছেন মানব মুক্তির এই সরল কথা ।

তিনি ভগবান গিরি, গুরুগিরি বা সৃষ্টি উপর প্রভুত্ত্ব করতে আসেননি । এসেছেন তাঁর দূর্গত সৃষ্টিকে অন্ধকার থেকে উদ্ধার করতে, ত্রাণ করতে, জীবত্বকে শিবত্ত্বে রূপান্তরের সহজ সরলপথ দেখাতে এবং তিনি অঙ্গীকারাবদ্ধ তাঁর আনুগত্যকারীকে সদা সর্বদায় পাশে থাকবেন যদিও তিনি সমগ্র সৃষ্টির কল্যাণকারী । সকল সৃষ্টিকে নিজের দিকে আকর্ষন করছেন সদা সর্বদা ।

প্রভুত্ত্ব নয়, শাসন নয়, শাস্ত্রের বাধা-ধরা কড়া অনুশাসন নয় দিয়েছেন মধুর প্রেম, কোমল দৃষ্টি যা ছিল পবিত্র শক্তিতে পরিপূর্ণ ও চেয়েছেন মধুর প্রেম বন্ধনে আবদ্ধ হতে, সকলের জীবনের অংশ হয়ে থাকতে কেননা তিনি ভক্তের কাঙ্গাল ।

পার্থক্য শুধু নানা জন তাঁকে নানা ভাবে দর্শন করেন । কারো নিকট তিনি স্রেফ একজন ব্যক্তি, কারো কাছে তিনি তারি মত তবে একটু উচ্চমাত্রার ভক্ত । ভক্তের নিকট সংকট উত্তরণকারী পরিত্রাতা ভগবান । ব্রহ্মবাদীদের নিকট নিরুপাধি, অব্যক্ত, নিরাকার, নির্ব্বিকার, নির্গুণ, পরব্রহ্ম । নিরাকার দৈতবাদীদের নিকট তিনি স্বগুণ নিরাকার ঈশ্বর বা স্রষ্টা, যোগী-ধ্যানির নিকট পরমাত্মা ।

কর্মবাদী সাধকের অনুকরণীয় বা অনুসরণী রোল মডেল অভীষ্ঠ ফল প্রদানকারী পরমেশ্বর । আবার মূর্তিবাদী বা যন্ত্রবাদী তান্ত্রিকের নিকট ইষ্টদেবে, সকল মত পথের তিনি উপাস্যদেব । শুধু তাই নয় গুরুবাদীদের নিকট তিনি এই বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের অকল্পনীয় পরম সত্য, চূড়ান্ত বাস্তবতা, মনুষ্য দেহ ধারণ করে অবতীর্ণ হয়েছেন গুরু রূপে । তাই তিনি জগৎগুরাচার্য্য ।

নানা জন নানারূপ ভাবে দর্শন করলেও মূলত যার থেকে এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি, যিনি সৃষ্টি করেছেন( যা আমরা দেখছি বা যা আমরা দেখছি না ), যিনি একে ধারণ করে আছেন, লালন পালন করছেন এবং পরিশেষে যাঁহাতে লয় হয় তিনিই হচ্ছেন “ব্রজানন্দ” । ব্রজানন্দ বায়ু, ব্রজানন্দ আকাশ, ব্রজানন্দ বিরাট, ব্রজানন্দ ব্যাপক ও অনন্ত । ব্রজানন্দময় জগৎ অথবা জগৎময় ব্রজানন্দ ।

তিনিই স্রষ্টা, তিনিই সৃষ্টি, তিনিই স্থিতি আবার লয় প্রলয়ের মহাকারণ । তিনি ইচ্ছা, তিনি সময়-জীবন-মৃত্যু-মহাকাল-মহাকালী । তিনি জীব, তিনিই শিব, তিনি ধর্ম, তিনিই অধর্ম সৃষ্টি-প্রলয়-বিনাশ । তিনি একমাত্র নিত্য-সত্য-মুক্ত সত্ত্বা । সকল উপাধিই তাঁর অথচ কোন উপাধিই তাঁর না । তিনি অব্যক্ত, নিরাকার, নির্বিকার, নির্গুণব্রহ্ম বা নিরাকার স্বগুণ ঈশ্বর কিংবা সংকট উত্তরণকারী পরিত্রাতা ভগবান ।

এই সৃষ্টি জগতকে তিনি নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন, দু’হাত তুলে দিচ্ছেন অভয়, বলেছেন ভরসার কথা, অব্যাহত রেখেছেন সদা অভয়বাণী, দেখিয়েছেন সহজ সরল নির্ভেজাল একেশ্বর বিশ্বাসের পথ, করেছেন পরিত্রাণ, হতে চেয়েছেন ইহ-পরকালের সাথী, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রেখেছেন প্রতিটি ব্যক্তির হাতে, উদ্‌বুদ্ধ করেছেন কল্যাণের পথে শান্তির পথে । চাপিয়ে দেননি কোন কিছু । তবে যার যেদিন সময় হবে তাঁর(ব্রজানন্দের) কাছে আসতেই হবে ব্যক্ত করেছেন দৃঢ় বাস্তব সত্য । কেননা তাঁর বাণীতে আচরণে প্রতিটি কর্মে বুঝিয়েছন তিনি কে ? তিনি বলেছন-

“ব্রজানন্দ পরমেশ্বর স্বয়ং । আমি সেই । আমি সব । আমি কোন দেবতার আরাধনা করিনা । আমি সকলের উপাস্য । আমি স্বয়ং সাধ্য । সাধক নই । ব্রজানন্দ স্বয়ং ব্রহ্ম” ।

“আমি একা ছিলাম ।  বহু হইবার ইচ্ছা হইল । হুংকার দিলাম ।  এটাই আদি বাক্য ।  ওঁকার ।  আগে ব্রজানন্দ ।  তারপর ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর । তারপর তেত্রিশ কোটি দেবতা । তারপর তোমরা, বুঝলে বাবা” ।

“এই বৃক্ষাধি জীবকূল যা দেখছো, সব আমারই সৃষ্টি । আবার সব আমাতেই লয় হবে । তাই আমার এক নাম বিশ্বনাথ” ।

“বাবা যত যাবে সব ফাঁকা । সব ফাঁকা । ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশকেও “আমার” (মানে ব্রজানন্দের) আরাধনা(উপাসনা) করতে হয়েছে” ।

“যীশু কি বলে বাবা ? যীশু বলে, I & my sun are one. আর আমি কী বলি ? I am he”.

“হ্যাঁ বাবা স্বয়ং ব্রহ্ম তোমার সামনে বসা ” (যা একমে অদিতীয়াং) ।

“ব্রজানন্দ অযোনী সয়ম্ভু”

“ব্রজানন্দ কে ? নারায়ণ । নারায়ণকে ? শিব । কোন ভেদ নাই” ।

“ব্রজানন্দই দুর্গা, কালী, রাম, শিব, শ্রীকৃষ্ণ আবার ব্রজানন্দই সেই নির্বিশেষ শুদ্ধচৈতন্য” ।

“জগৎ উদ্ধারণ নাম ব্রজানন্দ” ।

“হরে ব্রজানন্দ হরে, হরে ব্রজানন্দ হরে, গৌর হরি বাসুদেব, রাম নারায়ণ হরে।”-এই ( মহাতারকব্রহ্মনাম) নাম আমি গোলক থেকে এনেছি । এই নামের মধ্যেই আমার পরিচয় । সত্যযুগে আমি নারায়ণরূপে,  ত্রেতাযুগে রামরূপে, দ্বাপরযুগে কৃষ্ণরূপে ও কলিযুগে গৌরহরিরূপে । এখন ঘোর কলিতে পাপী উদ্ধারী ব্রজানন্দ রূপে” ।

জগতে যখনি ধর্মের উপর আঘাত এসেছে, ভক্তদের উপর হয়েছে অকথ্য নির্য্যাতন তখনি জগতে আসতে হয়েছে । তাইতো কলিযুগের শেষে এলুম ব্রজানন্দ বুড়াশিব হয়ে । রাম, কৃষ্ণ, হরি এবং গৌরাঙ্গদেবের সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে জগৎ জীব উদ্ধার তরে । কারণ এই মহা কলিতে জীব উদ্ধার করতে অসীম ক্ষমতার দরকার হয় । একা রামের ক্ষমতায় হবে না, একা কৃষ্ণের ক্ষমতায়ও হবে না এমন কি একা গৌরাঙ্গের ক্ষমতায়ও হবে না । তাই সকলের ক্ষমতা একত্রিত করে ব্রজানন্দ হয়ে আসতে হলো ।

আমি স্বয়ং ভগবান । এবারের ঘোরকলিতে বুড়াশিব আমার মর্ত্যপরিচয় । আমি এবার এসেছি জীবের দুঃখ মোচন করতে । প্রেম ও শান্তির বাণী প্রচার করতে ।

“এবার আমি ভক্তের জন্য অবতীর্ণ হয়েছি । ভক্ত যদি আমার প্রাণ চায় আমি তাও দিবো । গৌরাঙ্গ অবতারের সময় যে ‘অনর্পিতং চরিৎ চিরাৎ’ প্রেম রস দিবো বলে প্রতিশ্রুত হয়েছিলাম সে রসতো তখন দিতে পারিনি, এবার তাই দিতে এসেছি” ।

“এই জগতে সর্ব্বত্রই একমাত্র গুরুদেবেরই লীলা খেলা । একমাত্র ব্রজানন্দই জগৎ ব্যাপিয়া আছেন । এই জগতে যা কিছু সবই ব্রজানন্দ”।

“আমি সর্বভূতে বিদ্যমান । আমাকে বলে যেখানে যা অর্পণ করবে তাহা আমাতেই যাবে” ।

“ঐ হিমালয়ে মহা মহা যোগী ঋষি যুগ যুগ ধরে আরাধনা করছে, এদের আরাধনা আমি পেয়ে থাকি” ।

“আমি অব্যক্ত, নিরাকার, নির্ব্বিকার হইয়াও জীবের দুঃখে কাতর হইয়া আজ আমি সাকারে মানুষরূপে অবতীর্ণ হইয়াছি । তুমি চিন আমাকে, তোমার ইহ-পরকাল ভাল হইয়া যাইবে” ।

“আমি নির্গুণ নিরাকাররূপে এবং সগুণ সাকার রূপে চরাচর বিস্তার আছি । আমা হইতে দ্বিতীয় কেহ নাই । এই সংসারে সব উপাধিই আমার অথচ কোন উপাধিই আমার নয়” ।

“এই বিশ্ব আমারই বিভূতি বা আমার প্রতিমা জ্ঞানে সকলের সেবা করিয়া যাও” ।

“যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং অধর্মের অভ্যুদয় ঘটে, তখনই আমি অবতীর্ণ হই – ধর্মরক্ষার জন্যে, পাপীদের বিনাশকল্পে এবং সত্য ও ধর্মের পুণঃ প্রতিষ্ঠার জন্যে আমি যুগে যুগে কায়া ধারণ করে পুণঃ পুণঃ আবির্ভূত হই ।  আমি স্বয়ং বুড়াশিব” ।

“জগতে যখনি ধর্মের উপর আঘাত এসেছে, ভক্তদের উপর হয়েছে অকথ্য নির্য্যাতন তখনি জগতে আসতে হয়েছে । তাইতো কলিযুগের শেষে এলুম ব্রজানন্দ বুড়াশিব হয়ে । রাম, কৃষ্ণ, হরি এবং গৌরাঙ্গদেবের সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে জগৎ জীব উদ্ধার তরে । কারণ এই মহাকলিতে জীব উদ্ধার করতে অসীম ক্ষমতার দরকার হয় । একা রামের ক্ষমতায় হবে না, একা কৃষ্ণের ক্ষমতায়ও হবে না এমন কি একা গৌরাঙ্গের ক্ষমতায়ও হবে না । তাই সকলের ক্ষমতা একত্রিত করে ব্রজানন্দ হয়ে আসতে হলো” ।

“আমি তোমার সেই ব্রজের গোপাল, আমাকে পাইলে ফিরিতে হয় না” ।

“দ্বাপরের সেই লীলা বহুযুগ আগে ছেড়ে এসেছি । এবার জীব তরাতে বৈকুন্ঠ থেকে ব্রজানন্দ মহানাম নিয়ে এসেছি । কলির শেষে পাপী উদ্ধারী ব্রজানন্দ । এবার ব্রজানন্দ মহানামের অক্ষয় বীজ বপন করেছি । এই নাম একদিন মহীরুহ হয়ে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়বে” ।

“এবার আমার অবতীর্ণ হইবার একমাত্র উদ্দেশ্য জীবজগতের কল্যাণ-জীব উদ্ধার ।  তাই আমি জীবের সর্ব্বাধিক অশান্তি(পাপ-তাপ, জৈবিকতার যন্ত্রণা) নিজে গ্রহণ করিয়া শান্তিধারা বিতরণ করি” ।

“সর্ব্বধর্ম্ম বিসর্জন করিয়া এক মাত্র আমার স্মরণ লও, আমি তোমার সর্ব্ব পাপ দূর করিব” ।

“আমাকে সর্বদা আসনেই পাবে । তোমাদের যার যা প্রার্থনা আমার আসনেই জানাবে । আমি সেখান থেকেই তোমাদের যা কিছু প্রার্থনা সব পূরণ করবো” ।

নব যুগের নব অবতার ব্রজানন্দ স্বামীজীর বাণী

নব যুগের নব অবতার ভগবান ব্রজানন্দ স্বামীজীর “বাণী” মাত্র একটি কথায় বলা যেতে পারে, যে বাণী তিনি দিবানিশি সদা সর্বদা উচ্চারণ করেছেন “শিবোহম্‌”।  এ বাণী ভারতের নিজস্ব অতি অন্তরের বাণী ।  এই বাণীই সংক্ষেপতঃ ভারতের উপনিষদ, ভারতের বেদান্ত, ভারতের দর্শন শাস্ত্র । ভারতবাসী আজ এই মহাকাব্য ভুলেছে বলেই না তার যত দুঃখ দৈন্য, দারিদ্র্য ও দুর্গতি, ব্রজানন্দ স্বামী তাই আজ এই আত্মবিস্মৃত জাতির দুয়ারে দুয়ারে করাঘাত করে জলদ গম্ভীর নিনাদে ঘোষণা করেছেন–

“ওগো ভারতবাসী, আত্মনম্‌ বিদ্ধি।”

ভাব একবার তুমি কে? দুঃখ দৈন্য দারিদ্র্য প্রপীড়িত মুঢ় জীব।  মিছাই তুমি যশ মান অর্থের কাঙ্গাল হয়ে ভিক্ষুকের মত দ্বারে দ্বারে ফিরছ, একবার ফিরে চেয়ে দেখ নিজ অন্তরের ঐ অন্দর মহলে – আত্মার মনি কোঠায়; চেয়ে দেখ কত অগণিত ধন ভান্ডার সঞ্চিত রয়েছে সেথায়। তবে কেন তোমার এ দীন কাঙ্গালের বেশ।  ধন, জন, মান, প্রতিপত্তি কামনা করছ কেন? কিসের জন্য? সুখের জন্যই তো? কিন্তু সুখ – শান্তি সেত বাইরে নয়।  শান্তি অন্তরে, শান্তি আত্মায়।  শান্তি আত্মারাম শ্রীভগবানে।  শ্রুতি বলে-

“প্রেয়ো বিত্তাৎ প্রেয় পুত্রাৎ প্রেয়োহন্যাস্মাৎ সর্বাস্মাৎ অন্তরতরং ষদয়ং আত্মা”

অর্থাৎ আত্মা ধন হ’তে প্রিয়, পুত্র হ’তে প্রিয়, অন্য সমস্ত প্রিয় হতেই প্রিয়তর এবং সর্বাপেক্ষা প্রিয়তম।  অতএব আত্মাতেই সমস্ত সুখ কেন্দ্রিভূত।  আগে জানো কি সেই আত্মা তোমার নিজস্ব রূপ, নিজ আত্মাকেই তুমি জানো না তাইত তোমার যত দুঃখ, যত দৈন্য যত তোমার হাহুতাশের এই যে সমস্যা – ইহা মানবজাতির চিরন্তন সমস্যা।  এই সমস্যা জর্জরিত হয়ে মানবজাতি চিরকাল মুক্তির প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছে।  এই প্রশ্নের সমাধানকল্পেই ভগবান বার বার মানবদেহ ধারণ ক’রে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন।  এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে রাজপুত্র বুদ্ধ জীর্ণ কন্থা পরিধান করে সংসার বিরাগী সন্ন্যাসী হয়েছেন।

বর্তমানে অধর্মের মধ্যে দিশেহারা আত্মবিস্মৃত মানব জাতির সত্যিকারের আত্মজিজ্ঞাসাও এই প্রশ্ন; এই জিজ্ঞাসার উত্তর নির্দেশ করবার জন্যই ভগবান ব্রজানন্দ স্বামী মানবের দ্বারে দীন সন্ন্যাসীর বেশে উপস্থিত হয়েছেন।  ঐ শোন মোহ – মুগ্ধ মানব তোমারি তরে নগ্ন সন্ন্যাসীর বেশে করুণাময় ভগবান ব্যগ্র ব্যাকুল কন্ঠে ডেকে তোমাকে বলছেন-

“ওগো পাশবন্ধ জীব আত্মবিস্মৃত বিমুঢ় হ’য়ে রয়েছ কেন – তুমি যে শিব; একবার আত্মচৈতন্য লাভ করে পাশ মুক্ত হও। “নির্গতোহসি জগজ্জ্বালা, পিঞ্জরাদিব কেশরী।” প্রবল পরাক্রম সিংহ তুমি, সামান্য বক্ষ পিঞ্জরে আবদ্ধ হ’য়ে ঘুমিয়ে রয়েছ।  অমতি তেজ সিংহ শাবক হয়ে তুমি ভেড়ার দলে মিশে ভেড়া বনে গেছ।  নিজের চেহারার দিকে একবার দৃকপাত করো! মায়ামোহের অধীনতা পাশে আবদ্ধ হ’য়ে আছ বলেই তুমি জীবনের দাসত্ব করছ, এই মায়ামোহের অধীনতা পাশ ছিন্ন করে মুক্ত’ হয়ে শিবত্ব লাভ করো।  সেইত তোমার সত্যিকারের স্বাধীনতা, প্রকৃত স্বরাজ।”

বস্তুতঃ অধীনতাই জীবত্ব আর স্বাধীনতাই শিবত্ব বা ঈশ্বরত্ব।  মায়া মোহের অধীন হয়ে পরিচালিত হওয়া জীবত্ব আর মায়ামোহ হতে মুক্ত অবস্থাই ঈশ্বরত্ব।  যখন মানব কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য ইত্যাদির অধীন হয়ে তাদের ইঙ্গিতে পরিচালিত হ’য়ে, ইন্দ্রিয়ের দাস হয়ে, ইন্দ্রিয় সেবাতে আত্মনিয়োগ করে, তখন সে জীব; আর যখন ইন্দ্রিয় ও তদীয় বৃত্তিগুলোকে বশীভূত করে মানব জিতেন্দ্রিয় হয় অর্থাৎ যখন ঐ সকল বৃত্তি তার(ব্যক্তির) অধীন ও আজ্ঞাধীন হ’য়ে পরিচালিত হয়, তখন সে ঈশ্বরতুল্য বা ঈশ্বর।  এক কথায় শক্তির বশীভূত থাকাই জীবত্ব, শক্তিকে স্ববশে আনা ও তদ্দ্বারা ইচ্ছামত কার্য্য ক’রে নেওয়াই ঈশ্বরত্ব।  শাস্ত্রকারও বলছেন—

“পাশবদ্ধো ভবেজ্জীব, পাশমুক্ত সদাশিবঃ।”

           অর্থাৎ পাশবদ্ধ হলেই জীব, আর পাশবিমুক্ত হলেই শিব।  ঘৃণা, শঙ্কা, ভয়, লজ্জা, জুগুপ্সা (নিন্দা) কুল, শীল ও মান – এই আটটি জীবের বন্ধনের কারণ, এজন্য শান্ত্রে এরা পাশ বা বন্ধন রজ্জুরূপে কীর্তিত হয়েছে।  যিনি এই অষ্ট পাশ হ’তে মুক্ত হয়েছেন তিনি সদাশিব বা ঈশ্বরতুল্য। পাশবন্ধ জীবের দুঃখে আক্ষেপ করে বিমুক্ত সাধক গেয়েছেন –

“চিদানন্দ স্বরূপে যার নিত্য শুদ্ধ নিরঞ্জন

বিন্দুনাদ কলাতীতং সাক্ষীভূত সনাতন।

সে কিনা আজ মায়ার ফেরে পাশবন্ধ কারাগারে

অনিত্য বাসনা লয়ে মায়ার খেলা খেলিছেরে।”

ভগবান ও জীব পরমাত্মা ও আত্মা, স্বরূপতঃ এক । জীবভাব পরিত্যাগ হলেই জীবাত্মা পরমাত্মার মিলন হয়।  জীব যত দিন তার এক সত্য স্বরূপে অবস্থান না করবে অর্থাৎ যতদিন তার সচ্চিদানন্দরূপ ঈশ্বর লাভ না হবে ততদিন পর্যন্ত কিছুতেই পূর্ণ শান্তি বা পূর্ণ আনন্দের অধিকারী সে হতে পারবে না।  জীব জগৎ রহস্য অবগত হ’য়ে “নেতি” “নেতি” সত্ত্বার “নেতি” বিচার দ্বারা জীব ভাব ত্যাগ করে চৈতন্যময় ব্রহ্ম সত্ত্বার সহিত সতত নিদিধ্যান করলেই ব্রহ্মত্ব লাভ সুনিশ্চিত; এবং তাতেই জীবের পরা শান্তি।  নইলে মোহমুগ্ধ অজ্ঞানান্ধকারাচ্ছন্ন জীব যতই নিজের ক্ষুদ্রতার মধ্যে ঘুরতে থাকবে ততই তার দুঃখ দুর্গতি।  জীবের দুঃখ ব্যাথাভারাতুর হৃদয়ে সাধক গেয়েছেন –

“প্রকৃতির দ্রষ্টা হ’য়েও ভুলে রইলে বিকারেতে

রূপ রসাদির ধাঁধায় পড়ে, হাস, কাঁন্দ সুখ দুঃখেতে।

সুপ্ত সিংহ তোমরা সবে, ভুলে কেন রয়েছরে,

অমৃতের সন্তান হ’য়ে, হেন দশা সাজে কিরে।”

বস্তুতঃ জীবের যদি একবার এই জ্ঞান আসে যে সে অমৃতের সন্তান, কাজেই অস্ত্র তাকে ছিন্ন করতে পারে না, অগ্নি তাকে দগ্ধ করতে পারে না, সে অজয় অমর তবে কি আর তার দুঃখ কষ্ট থাকতে পারে?”

শক্র যদি তাকে হত্যাও করে তবু সে জানে আমি ত আমার দেহ নই – দেহের বিনাশে ত “আমি” বিনষ্ট হই না।  আমি ত আমার অজয় অমর আত্মা।  এই আত্মার দর্শন যিনি পেয়েছেন তিনি জীবন্মুক্ত মহাপুরুষ – সাংসারিক দুঃখ – দৈন্য তাকে বিচলিত করতে পারে না।  ওগো ভারতবাসী ভারতের আর্য ঋষিগণ একদিন তোমাদিগকে প্রেমামৃত প্রদানে অমর করিবার জন্য সস্নেহে সাদর আহবানে মধুর কণ্ঠে বিজয় নিনাদে বলেছিলেন –

শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রাঃ।

      হে বিশ্ববাসী অমৃতের পুত্রগণ তোমরা শ্রবণ করো। যদি জ্ঞানামৃত পানে জরা মরণের হাতে অব্যাহতি পেয়ে অমর হ’তে চাও, তবে জ্ঞানময়, সর্ব্বগুণাকর; সর্ব্বশক্তিমান, সর্ব্বব্যাপী, সর্বত্র পরিপূর্ণ, অখন্ড চিন্ময় ভগবৎ সত্ত্বায় চিরতরে ডুবে যাও। ব্রহ্মানন্দ রস পান কর অমরত্ব লাভ কর। “নান্যপন্থাঃ বিদ্যতে আয়াময়।” হে জীব, এ ভিন্ন যে আর তোমার গতি মুক্তি নাই।  মনে পড়ে প্রাচীন ভারতের আর্য ঋষিগণের কথা।  তারাও একদিন জগতের দুঃখ – দৈন্য দারিদ্র্যের হাতে অব্যাহতি পাবার জন্য সকলে সমবেত হ’য়ে মুক্তির পথ খুঁজছিল।  এ দুর্গম সংসার অরণ্যের মাঝে মুক্তির পথ কৈ — এ প্রশ্নে দিশেহারা হয়ে তারা তখন স্তম্ভিত হ’য়ে বলেছিল তখন ষোড়শ বর্ষীয় ঋষি বালক দাঁড়ায়ে জলদ গম্ভীর নিনাদে দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিল – শোন বিশ্বজন

“শোন অমৃতের পুত্র যদ দেবগণ

দিব্যধাম বাসী আমি জেনেছি তাঁহারে

মহান্তপুরুষ যিনি আঁধারের পারে

জ্যোতির্ময়, তারে জেনে তার পানে চাহি

মৃত্যুরে লঙ্ঘিতে পারো অন্য পথ নাহি।”

আজ ভগবান ব্রজানন্দ স্বামীও ভারতের সেই ভুলে যাওয়া অন্তর্নিহিত মহাবাণীকেই জাগ্রত ক’রে তুলছেন।  ওগো মোহবদ্ধ জীব, ছুটে এসে আশ্রয় মাগ তার ঐ অতুল রাতুল চরণ তলে।  এই তো তোমার একমাত্র পথ।  এই আদর্শে যদি তুমি আজ আত্মোপলব্ধি করতে না পার তবে মিথ্যা তোমার রাজনৈতিক স্বরাজ সাধনা, মিথ্যা তোমার সন্বন্ধ সংস্কার প্রচেষ্টা, মিথ্যা তোমার বড় হবার নিষ্ফল আকাংখা।  আগে নিজের, নিজ জীবনের, নিজ আত্মার স্বরাজ লাভ করো, বিশ্বের স্বরাজ এসে হাজির হবে তোমারি দুয়ারে।  নইলে বৃথা তোমার আষ্ফালন।  কবি সত্যই তো বলেছেন-

“রে মৃত ভারত

শুধু এই এক আছে, নাহি অন্য পথ।”

     হে মায়ামুগ্ধ জীব, আবার বলছি যদি ব্রহ্মানন্দ রসপানে জরামরণের হাত হতে অব্যাহতি পেয়ে অমরত্ব লাভ করতে চাও, তবে ছুটে এস আশ্রয় মাগ এই যুগের নব অবতার ব্রজানন্দ স্বামীর শাশ্বত অভয় বাণী – “শিবোহম্‌” “শিবোহম্‌” ধ্বনির তলে।  যদি প্রেম চাও তবে ভক্ত রঞ্জণ, পতিত পাবন প্রেমময়, মদন মোহন ভগবান ব্রজানন্দ স্বামীর শ্রীচরণসরোজে সম্পূর্ণরূপে আত্মবলি দান করো।  যদি রূপের অভিলাষ করে থাকো তবে  সর্ব রূপাধার, করুণা পারাবার নতুন যুগের অবতার ব্রজানন্দ স্বামীর অনন্তরূপ মাধুর্য পরিপূর্ণ রূপ দর্শন করে আত্মহারা হও।  আর যদি রস বা আনন্দ পেতে চাও তবে সর্ব রসানন্দের আঁধার পূর্ণতম রস বিগ্রহ স্বামীজীর অনন্ত লীলা রস মাধুর্য আস্বাদন ক’রে প্রেমামৃত রসার্ণবে অনন্তকালের জন্য ডুবে অনন্ত মিলনে মিলিত হও – আর প্রেম কারুণ্য  কন্ঠে বলো—

“ত্বমেব মাতা চ পিতা ত্বমেব, ত্বমেব বন্ধুশ্চ সখা ত্বমেব”।

ত্বমেব বিদ্যা দ্রবিনং ত্বমেব, ত্বমেব সর্বং মম দেবদেব”।।

অর্থাৎ হে দেবাদিদেব তুমি আমার মাতা, তুমি আমার পিতা, তুমিই আমার বন্ধু, তুমিই আমার সখা, তুমিই আমার ধন, আর তুমিই আমার সর্বস্ব।

ভগবান ব্রজানন্দ বেদবাণী

এবার আমার অবতীর্ণ হ’বার একমাত্র উদ্দেশ্য ভক্তের উদ্ধার।

আমি স্বয়ং ভগবান। ঘোরকলিতে বুড়াশিব আমার মর্ত্যপরিচয়। আমি এবার এসেছি জীবের দুঃখ মোচন করতে। প্রেম ও শান্তির বাণী প্রচার করতে।

১. জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন।

২. স্ব (নিজ) প্রয়োজন অপেক্ষা মুক্তি প্রয়োজনই শ্রেষ্ঠ।

৩. নির্ব্বান মুক্তিই একমাত্র কাম্য। মনুষ্য জন্ম লাভও সেই জন্যই।

৪. তুমি আত্মজয়ী হইয়া জন্মমৃত্যুর হাত হইতে মুক্ত হও। তোমার জন্ম সফল হউক।

৫. ত্যাগেই সুখ, ভোগে সুখ নাই। তন্‌ মন্‌ ধন্‌ সব কিছুই ধর্ম্মার্থে লাগাইয়া দাও। জীবনের উদ্দেশ্যও তাই বটে।

৬. খাওন নিধনের জন্য কাঁদিও না। তোমার গোপাল লাভ হয় নাই সেই জন্য কাঁদ। এ দুদিনের ভোগ সুখ দিয়া কি করিবে? ভোগে কি সুখ আছে? সুখ যোগে। সুখ গুরু পাদ পদ্মে। সে সুখ কোন কালে ফুরায় না। সংসার সুখে কেবলি দুঃখ আর জ্বালা। কেবল ঘোরাঘুরি, আসা যাওয়া। মুক্তি নাই।

৭. আত্মসমর্পণের তুল্য আর যোগ নাই।

৮. যার জগৎ তাতে যত বেশী মন দেবে তত শান্তি পাবে।

৯. ইচ্ছাময়ের ইচ্ছায় ইচ্ছা মিলাইয়া দাও। তাঁহার যাহা ইচ্ছা তাহাই ভাল, তাহাই আদরের সহিত গ্রহণ কর। ভগবান যতই কেন কষ্ট দিন না ভক্ত তাঁহার দিক ভিন্ন অন্য দিকে তাকান না।

১০. যে হৃদয়ে ক্ষমা নাই, দয়া নাই সে হৃদয়ে ভক্তি ও জ্ঞানের বীজ অংকুরিত হইতে পারে না।

১১. অহিংসা পরম ধর্ম্ম, অহিংসা জীবে দয়া এইসব কর্ম্মই অন্ধকার হইতে আলোর পথে লইয়া যায়। যেখানে হিংসা, দ্বেষ, অপ্রেম সেখানে আলোর প্রকাশ হইতে পারেনা।

১২. নির্দয়ের হৃদয় অতিশয় কঠিন ও পাষানবৎ হয়। সেই হেতু সৎসঙ্গধারী হাজার সিঞ্চন করিলেও ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত হইতে পারেনা।

১৩. দ্বৈত ভাব ত্যাগ কর, সর্ব্বভূত প্রাণীতে দয়াশীলা হও।

১৪. অন্তর্দৃষ্টিহীন অবিদ্যাগ্রস্ত জীব স্বীয় আত্মাকে  ভুলিয়া বহির্দৃষ্টিতে বাহ্যেশ্বর আরাধনা ও ইন্দ্রিয়ক্রিয়ায় লিপ্ত হইয়া অশেষ দুঃখের ভাগী হয়।

১৫. গুরুর অধিক আরকেহ নাই, গুরু সর্ব্বেশ্বর, সকলের নিয়ন্তা ও নির্ব্বাহ কর্ত্তা।

১৬. বিনয়ী, নম্র, দয়ালুহৃদয়বিশিষ্ট হইলে তবে সে শিষ্য পদের অধিকারী হয়।

১৭. আমার কৃপা লাভের যোগ্য হও।

১৮. বাবা যেখানে ব্রজানন্দের মহিমাকথা বলবে, সেখানে তার ও তোমার মাঝে আমি হাজির থাকবো বাবা।

১৯. ভক্তিতেই মুক্তি।

২০. এ চরণ শিবের চরণ। এ-চরণ ভজে কেউ বিমুখ হয়নি।

২১. যে আমার একান্ত শরণ নেয় সে বিপদের মাথায় পা দিয়ে চলে। আমার ভক্তের বিনাশ নাই।

২২. বিধাতার কলম একমাত্র গুরুই রদ্‌ করতে পারে।

২৩. সংসারী লোক তো মরিতে আসিয়াছে। আর আমরা মৃত্যুকে জয় করিতে আসিয়াছি।

২৪. তোমাদের ঐহিক ও পারত্রিক কল্যাণের পথ মুক্ত করিয়া দেওয়াই আমার একমাত্র কর্তব্য।

২৫. তোমাদের ইহ -পারলৌকিক মঙ্গল কামনাই আমার একমাত্র জীবন ব্রত।

শ্রীশ্রী ব্রজানন্দ অষ্টোত্তরশতনাম

গীতমালা

অহং নামে আত্মদেব, তুমি ব্রজানন্দ ।        ১

অন্তরাত্মা রুপে আত্মা, সচ্চিদানন্দ ।          ২

অনাদি নামেতে দেব সত্য সনাতন ।          ৩

আদিদেব নামে তুমি পুরুষ প্রধান ।            ৪

অসীম যেহেতু বেদে, দিতে নারে সীমা ।    ৫

অনন্ত বলিয়া ভণে অন্ত না পাইয়া ।           ৬

অনিন্দ্য সুন্দর তুমি, প্রিয়দর্শন নাম ।          ৭

আনন্দ-মধুর নিত্য ভক্তিগুণ ধাম ।             ৮

 অভয় নামেতে তুমি বরাভয় দাতা ।           ৯

অজ্ঞান নাশন গুরু বভার্ণব ত্রাতা ।            ১০

ইন্দু তুমি হৃদাকাশে, মানস বিহারী ।            ১১

ঈশ রূপে প্রকাশিত বহুরূপী হরি ।              ১২

উত্তম নামেতে তুমি উপাস্য সবার ।            ১৩

ঊমাকন্ত নামে রাজ দেবের মাঝার ।           ১৪

ঊর্ধরূপী নিরাকার গুরু জ্ঞানামৃত ।              ১৫

ঋত সত্য পরব্রহ্ম ধ্যানারূপাচ্যূত ।               ১৬

একং নামে অদ্বিতীয় মঙ্গল বিতরি ।             ১৭

ঐ রূপে তুমি সে ব্রহ্ম, ব্রজানন্দ হরি ।           ১৮

ওঙ্কার প্রত্যক্ষ তুমি বেদ-অর্থ সার ।              ১৯

ওষধি ভিষজ স্বয়ং ভবের মাঝার ।                 ২০

কর্ত্তা রূপে তুমি দেব, পরমেশ বিভু ।              ২১

কর্ম্মকৃত নামে তুমি সর্ব্ব কর্ম্ম প্রভু ।              ২২

কৃষ্ণরুপে-জীব চিত্ত কর গো কর্ষণ ।             ২৩

কানাইরূপেতে সদায় কর আকর্ষণ ।             ২৪

কীর্তিমূর্তি লীলাদেহ তুমি ভব-মনু ।              ২৫

করুণার সিন্ধু তুমি ধৃত-নরতনু ।                  ২৬

খগাসন তুমি দেব, বিষ্ণু মুর্তি ধারী ।             ২৭

গণেশ নামেতে তুমি কার্য্য সিদ্ধিকারী ।        ২৮

গুণাতীত হও তুমি গো, ওহে গুণনিধি ।     ২৯

গুরু নামে সর্ব্ব লোকে সেবে নিরবধি ।      ৩০

ঘটেশ্বর রূপে, তুমি পরমাত্মা বিভু ।           ৩১

ঙ নীলকণ্ঠ নামে তুমি বিশ্বেশ্বর প্রভু ।       ৩২

চিদানন্দ রূপে বেত্ত্বা বেদ্য পরাৎপর ।      ৩৩

চিন্ময় স্বরূপে আছ, ব্যাপ্ত চরাচর ।            ৩৪

ছেদক নামটি ধর তুমি ছেদিয়া সংশয় ।     ৩৫

জ্যোতিরূপে মূর্ত হও ব্যাপিয়া হৃদয় ।        ৩৬

জলরূপে গঙ্গা সঙ্গ পবিত্রীকরণে ।            ৩৭

ঝরণা প্রেমের স্রোত পাপী উদ্ধরণে ।         ৩৮

ঞ রূপে রাগ বুদ্ধি প্রণবে জুড়িয়া ।             ৩৯

টঙ্কারের লক্ষ্যভেদ ব্রহ্মেতে ভেদিয়া ।         ৪০

ঠাকুর রূপে মন্দিরে, ইন্দ্রিয় গোচর ।            ৪১

ডঙ্কাধর শঙ্কা হর, ভক্ত সবাকার ।               ৪২

ঢুলুঢুলুনেত্র প্রভু করুণাবতার ।                   ৪৩

ণ- রূপেতে স্নেহময় বহাও জোয়ার ।            ৪৪

ত্রিসত্য নামেতে দেব তুমি অবশেষ ।           ৪৫

ত্রিদিবেশ নামে তুমি বরেণ্য বিশেষ ।            ৪৬

তত্ত্বসার নামে বস্তু একাদ্বয় জ্ঞান ।               ৪৭

ত্রিবিধ রূপেতে ব্রহ্ম আত্মা ভগবান ।            ৪৮

থানেশ্বর নামে তুমি স্বধামেতে ব্রজ ।             ৪৯

দয়াময় নামে তুমি কল্পতরু সাজ ।                ৫০

ধর্মপতি মহামতি, ধর্ম সংরক্ষণে ।                  ৫১

ধীমন্ত স্বধর্ম যোগে জ্ঞানে ও বিজ্ঞানে ।           ৫২

নিত্যানন্দময় তুমি নিত্যোৎসবে মাতি ।           ৫৩

নিরঞ্জন সুরঞ্জন ভক্তত্রাণেব্রতী ।                     ৫৪

পরম পুরুষ নামে সর্বত্র পূজিত ।                     ৫৫

পুরুষ প্রধান রূপে তুমি সুবিদিত ।                     ৫৬

পরমাত্মা রূপে তুমি যোগীশ্বর ।                         ৫৭

পুরুষোত্তম নামেতে জগত ঈশ্বর ।                    ৫৮

প্রেমঘন তুমি দেব প্রেমের মূরতি !                      ৫৯

প্রজ্ঞাঘন তুমি দেব জ্ঞানানন্দ ধৃতি ।                    ৬০

ফলহারী নাম তব কর্মফল হর ।                          ৬১

বংশীধারী শ্রীগোবিন্দ ফলদান কর ।                    ৬২

বিধিবেদ্য হরি হরি তারুণ্য কারুণ্য ।                    ৬৩

ব্রজানন্দ গুরুব্রহ্ম বরেণ্য শরণ্য ।                        ৬৪

ব্রহ্মণ্য দেব নামেতে ধর বেদ প্রকাশিয়া ।             ৬৫

বিষ্ণু নামে আছ তুমি সর্ব্বত্র ব্যাপিয়া ।                 ৬৬

ভগবান নাম ধর ভক্তের কারণ ।                          ৬৭

ভক্তপ্রাণ নাম ধর ভক্ত প্রাণধন ।                          ৬৮

ভব তুমি ভবপতি অভবতা হর ।                           ৬৯

ভবভয়হারী তুমি গুরুরূপ ধর ।                             ৭০

মাল্যধর নামে তুমি তত্ত্বমালা ধারী ।                        ৭১

মূলাধার রূপে মূলে অধিষ্ঠানকারী ।                         ৭২

মানসবিহারী নামে মানসে বিহর ।                           ৭৩

মহান পুরুষ তুমি জ্যোতির্ম্ময় পর ।                         ৭৪

যোগেশ্বর নামে তুমি যোগে জেগে রও ।                  ৭৫

রাধাশ্যাম রূপটি তব ভক্তেরে দেখাও ।                    ৭৬

রাম নামে আত্মারাম স্বরূপে ভোলায় ।                    ৭৭

রাজ রাজ রূপে সাজ হৃদয় দোলায় ।                       ৭৮

লক্ষ্মীকান্ত নারায়ণ কে বুঝিবে লীলা ?                     ৭৯

লীলাময় তুমি দেব রক্ষিয়ে এ ইলা ।।                        ৮০

    বরাভয় কর করুণা সাগর

            সদা মৃদু মৃদু হাস ।                                     ৮১

    শরণ্য-বরেণ্য একান্ত কারুণ্য

          দিব্যজ্ঞান পরকাশ ।                                   ৮২

 শুভদ সুখদ তুমি, সর্ব্ব দুঃখহারী ।                          ৮৩

শান্তিপ্রদ তুমি দেব ভক্তানন্দ কারী ।                        ৮৪

শান্তিই স্বরূপ তব দিব্য ধাম বাসী ।                          ৮৫

ষড়ভাবজিত তুমি হর তমোরাশি ।                           ৮৬

শঙ্খ চক্রধারী তুমি, জ্যোতির কারণ !                       ৮৭

শ্রীবিষ্ণু মূরতি তব ভক্ত আকিঞ্চন ।                         ৮৮

সত্যরূপে বিরাজিছ ভুবন মণ্ডল ।                           ৮৯

সচ্চিৎ – আনন্দ তুমি আনন্দ কেবল ।                      ৯০

সর্ব্ব দেবময় নাম সর্ব্ববেদাশ্রয় ।                            ৯১

সর্ব্বসিদ্ধিদাতা নাম পরম আশ্রয় ।                          ৯২

সর্ব্ব শ্রী নামে তুমি যে শ্রীকান্ত ।                             ৯৩

সর্ব্বধী নামে তুমি পুরুষ মহান্ত ।                           ৯৪

স্বয়ংসিদ্ধ  বাম তব শাশ্বত পুরাণ ।                         ৯৫

সর্ব্বজ্ঞ নামেতে তুমি সাক্ষী বিদ্যমান ।                ৯৬

সুমধুর হাস নাম ফুটাও কমল ।                            ৯৭

সুন্দর মধুর রূপ প্রকাশ কেবল ।                           ৯৮

স্বনামী আপন নামে আপনে মগন ।                      ৯৯

সোহং ও শিবোহং জীব শিক্ষার কারণ ।                 ১০০

হরিহর রূপে এক অদ্বৈত আনন্দ ।                       ১০১

হরিহরাত্মণ রূপে স্বয়ং ব্রজানন্দ ।                         ১০২

হংসবর হংসী সনে নিয়ত বিহর ।                          ১০৩

হংসরাজ পর হংস তুমি ব্রজানন্দ ।                        ১০৪

হৃষীকেশ নামে দেব হৃদয় ঈশ্বর ।

অনুরাগ ফল্গু লহ ভূবন সুন্দর ।                            ১০৫

হৃদয়রঞ্জন তুমি হৃদয় রতন ।                                ১০৬

হৃদয় দোলায় দোল হেরি অনুক্ষণ ।                       ১০৭

হৃদয়েশ্বর নামেতে রসামৃত কান্তি ।

মাভৈঃ আশীষ বরিষ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ।              ১০৮

গুরু ধামে বুড়াশিব রাজে ভগবান !

উভ বঙ্গে ব্রজানন্দ সর্বদা সমান ।

যুগাবতার শ্রীশ্রী ব্রজানন্দ স্মরণম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ ঈশ্বর ভজনম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ রামচরিত পঠনম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ কৃষ্ণরূপ ধ্যানম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ পূর্ণব্রহ্ম বরণম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌পরমাত্মা পূজনম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ওঁ মন্ত্র জপম্‌

হেলো!! আপনাকে বলছি, একটু শুনুন

একচির নূতন বিশ্বয় পুরুষ

জগৎগুরাচার্য্য স্বামী ব্রজানন্দ,

যিনি কিনা আদিপুরুষ, সনাতন পুরুষ

যাঁহা হইতে সর্ব্বভূতের আবির্ভাব

যিনি একে লালন পালন করছেন

এবং

পরিশেষে যাঁহাতে লয় হয়

সেই সত্য স্বরূপ পরব্রহ্ম

নিত্যজ্ঞানরূপী ব্রহ্মময়ী

যিনি সয়ম্ভু

সেই পরম পুরুষ, পুরাণ পুরুষ, সচ্চিদানন্দ

স্বামী ব্রজানন্দের

বর্তমান বিশ্বকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে, জীবের দুখে কাতর হয়ে

পথহারা জীবকে, জীবনের প্রকৃত মানে মনে করিয়ে দিতে দেহধারণ করে এসেছিলেন

তাঁর সম্পর্কে ধারণা করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব তবুও কিঞ্চিৎ ধারণা করার প্রচেষ্ঠা মাত্র ।

তিনি

শান্তির বিধান করতে এসেছিলেন রহস্যময় ভাবে

তিনি কখন এসেছেন বলতে আমরা উল্লেখ পাই

মাঘীপূর্ণিমা তিথিতে আবির্ভাব

কোথাও জন্ম সাল উল্লেখ নাই ।

কে তাঁকে দীক্ষা দিয়েছে

কে তাঁকে সন্ন্যাস দিয়েছেন

কিছুই জানা যায়নি

শুধু অতীত জীবন সম্পর্কে জানা যায়

জন্ম থেকেই “শিবোহ্‌হম” “শিবোহ্‌হম” মহাবাক্য জপ মুখে নিয়েই জন্মেছিলেন

একদম অতি ছোট্ট বয়স থেকেই গেরুয়া কাপড় পড়তেন

৩ বছর বয়স থেকেই কৃষ্ণের পূর্ণ ভাব কান্তি নিয়ে

ঝুলনে চড়তেন ।

কোন ঠাকুর দেবতা বা কোন আরাধ্যের আরাধনাও করেননি

বরং সকল দেবদেবী ও সকল মতের উপাস্যের পূজা গ্রহন করেছেন স্বীয় চরণে

এমন কি নারায়ণ, বিষ্ণু, দূর্গা, বুড়াশিব, মহাকালী, নবদূর্গার পূজা ও পরব্রহ্মের

শুধু তাই নয়

 আরু বিশ্বয় ওঁ, ব্রহ্ম, শিব, কৃষ্ণ, আদ্যাশক্তি সম্পর্কে বলেছেন

তিনিই সেই ।

“পৃথিবীর  বিভিন্ন ধর্ম্মাবলম্বী চিরস্মরণীয় সাধক ও মহাপুরুষগণের মধ্যে

“ঠাকুর ব্রজানন্দের স্থান” একটু স্বতন্ত্র ।

 কারণ তিনি নিজেই সকলের উপাস্য

এবং কোন দেবতার আরাধনা করেন না ।

সাধক নন্ । স্বয়ং সাধ্য ।

সকল ঐশ্বর্যে বিশ্ব-বিধায়ক ।”

“আমি কাহারও সাধনা করিনা ।

আমি সাধ্য, আমি ঈশ্বর কোটি(অর্থাৎ ঈশ্বরের সাকার রূপী ভগবান) ।

আমাকে মানুষ মনে করলে মহাভুল করবে ।

ভগবান মানুষ রূপে এসেছেন ।”

ব্রজানন্দ অযোনী স্বয়ম্ভু

নিজেই সকলের উপাস্য

এবং কোন ঠাকুর দেবতার আরাধানা করেন না ।

তিনি স্বয়ং সাধ্য ।

“আমি স্বয়ং ভগবান

এবারের ঘোরকলিতে বুড়াশিব আমার মর্ত্য পরিচয় ।

আমি এবার এসেছি জীবের দুঃখ মোচন করতে ।

প্রেম ও শান্তির বাণী প্রচার করতে ।”

“আমি একা ছিলাম ।

বহু হইবার ইচ্ছা হইল ।

হুংকার দিলাম ।

এটাই আদি বাক্য ।

ওঁকার ।

আগে ব্রজানন্দ ।

তারপর ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর ।

তারপর তেত্রিশ কোটি দেবতা ।

তারপর তোমরা ।”

“এই বৃক্ষাদি জীবকূল যা দেখছো, সব আমারই সৃষ্টি ।”

আবার সব আমাতেই লয় হইবে ।”

“আমিই তো শাখা প্রশাখায় ওদের মধ্যে ছড়িয়ে আছি

ওরা তো আমারই নাম করে

আমারই প্রচার করে ওরা ।”

বলতেন সমসাময়ীক সাধক সাধিকাদের নিয়ে ।

“যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং অধর্মের অভ্যুদয় ঘটে, তখনই আমি অবতীর্ণ হই –

ধর্মরক্ষার জন্যে, পাপীদের বিনাশকল্পে

এবং সত্য ও ধর্মের পুণঃ প্রতিষ্ঠার জন্যে

আমি যুগে যুগে কায়া ধারণ করে পুণঃ পুণঃ আবির্ভূত হই ।  

আমি স্বয়ং বুড়াশিব ।”

“জগতে যখনি ধর্মের উপর আঘাত এসেছে,

ভক্তদের উপর হয়েছে অকথ্য নির্য্যাতন

তখনি জগতে আসতে হয়েছে ।

তাইতো কলিযুগের শেষে এলুম ব্রজানন্দ বুড়াশিব হয়ে ।

রাম, কৃষ্ণ, হরি এবং গৌরাঙ্গদেবের সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে জগৎ জীব উদ্ধার তরে ।

কারণ এই মহা কলিতে জীব উদ্ধার করতে অসীম ক্ষমতার দরকার হয় ।”

এবার এসেছেন “ব্রজানন্দ” মহানাম নিয়ে

বলেছেন জগৎ উদ্ধরণ নাম “ব্রজানন্দ”

অর্থাৎ যে নামে জগৎ উদ্ধার পাবে । 

তিনি সব সময়ই রহস্যের জাল বুননে ব্যস্ত (লীলাময়রূপে)

রহস্যময় পুরুষরূপে তিনি থেকেছেন

বলেছেন রহস্যময় কথা

দিয়েছেন রহস্যময় বাণী

করেছেন নানা সময়ে নানা রহস্যময় আচরণ ।

তাঁর কাছে নানা শ্রেণী পেশা ধর্মের বর্ণের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ যেমন আসত

তেমনি এসেছেন গুরু-শিষ্য, পার্থিব-অপার্থিব কল্যাণকামী ও আত্মমুক্তি অন্বেষী

নর-নারী, পাপী-তাপী-পামর-পতিত,

যোগী-ভোগী-রোগী,

দ্বীন-হীন-সুখী-দুখী-অভাজন,

আশেক-প্রেমিক,

অনাথ,

সাধু-সন্ন্যাসী, পবিত্র-অবিত্র, ধনী-দরিদ্র সকলে ।

সেই পুরুষপ্রধান

এই বিশ্ব ভুবনের স্বামী

ব্রজানন্দ নাম পরিগ্রহ করে

জগৎকে যে শান্তির মহামন্ত্র বিতরণ করেছেন

মধুর প্রেম দিয়েছেন

ভক্তের হৃদয় কানায় কানায় ভরে দিয়েছেন

সেই সচ্চিদানন্দের

মর্ত্যলীলা কালীন কিঞ্চিত প্রতিচ্ছবি ।

তিনি হতে পারেন শান্তির সেই দূত

যিনি কারো ধর্ম বিশ্বাসকে ভাংতে চাননি হরণ করেছেন মাত্র

বলেছেন সর্বধর্মের সমন্বয়ে ব্রজানন্দ ধর্ম ।

ধর্মের সমন্বয় সাধনই ব্রজানন্দের আবির্ভাবের হেতু ।

তিনি শুধু চেয়েছেন সকলের পরিবারের অনন্ত প্রেমের ধারা হয়ে থাকতে,

অনন্ত দুঃখ ভোগী জীবের পরিত্রাতা হয়ে থাকতে,

তিনি যে বিশ্ব পিতা-মাতা

তিনি নিয়ে এসেছেন আত্ম-বিস্মৃত জীবের জীবনে সহজে কার্যকরী শ্বাস্বত জীবন বিধান নিয়ে ।

সর্ব্বশক্তিমান সর্ব্বগুণময় সর্ব্বগুণের আকর একমাত্র ব্রজানন্দই জগৎ ব্যাপিয়া আছেন ।

এই বিশ্ব-জগৎ-সংসার-অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ড, সৃষ্টি-স্থিতি-লয়-প্রলয়

সবই একমাত্র গুরুদেবরূপি ব্রজানন্দেরই লীলা খেলা ।

তিনি একবিরাট শিশু, খেলিছেন আনমনে ।

ব্রজানন্দময় জগৎ অথবা জগৎময় ব্রজানন্দ ।

তিনি সর্ব্বভূতে বিদ্যমান ।

“তিনি”    একমাত্র তিনিই রয়েছেন বিশ্ব-জগৎ ব্যাপিয়া ।

এই জগতে যা কিছু সবই ব্রজানন্দ ।

তিনিই সৃষ্টি তিনিই স্থিতি

আবার লয় প্রলয়ের কারণের মহাকারণ ।

তিনি ইচ্ছা,

সৃষ্টি মধ্যে তিনিই আদি মধ্য অন্ত ।

তিনি সময়-জীবন-মৃত্যু

তিনি জীব ।

তিনিই ভূতনাথ ।

তিনি ধর্ম তিনিই অধর্ম ।

তবুও তিনি একমাত্র নিত্য-সত্য-মুক্ত সত্ত্বা,

তিনিই শিবের মধ্যে বুড়াশিব ।

তিনি মহাকাল-মহাকালী ।

এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড তাঁর থেকে সৃষ্টি হয়েছে তাঁতেই স্থিতি আবার তাঁতেই লয় হবে

তাই তিনি বিশ্বনাথ ।

সকল উপাধিই তাঁর অথচ কোন উপাধিই তাঁর না ।

নিরাকারে নির্গুণ(নিরাকার ব্রহ্ম) সাকারে সগুণ(স্বগুণ ব্রহ্ম বা  ইশ্বর)

তাই তিনি অব্যক্ত, নিরাকার, নির্ব্বিকার, অনন্তশান্ত, গুনাতিত-

আবার তিনি সগুণ সাকার চিরকল্যাণী লীলাময়,

জীবের দুখে কাতর হয়ে ধরেন শান্ত সৌর্ম্য আনন্দঘন মূর্তি ।

ব্রজানন্দ আকাশ, ব্রজানন্দ বাতাস, সৃষ্টি-স্থিতি, ব্যাপক ও বিরাট ।

তিনি সত্য সুন্দর সনাতন পুরুষ ।

সকল সৃষ্টি তাঁর দাস ও বদ্ধ ।

তিনিই এই ব্রহ্মান্ডের একমাত্র ও অদ্বিতীয় উপাস্য ।  

আর সব ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর সহ সবাই উপাসক ।

এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সবাই তাঁরি আরাধনায় ব্যস্ত  নিরবধি ।

তিনিই আপনার জীবনের পরম গতি ।

কেননা

তিনি দয়া পরবশ হয়ে

আপনার জন্য কাতর হয়ে

আজ তিনি সাকারে মনুষ্য রুপে অবতীর্ণ হয়েছেন

তাঁকে চিনুন ।

আপনার ইহকাল পরকাল ভালো হয়ে যাবে ।

সবাইকে তিনি বলেছেন তিনি কে ????

তাঁর পরিচয় দিয়েছেন ।

বলেছেন-

“দিব্য নয়ন খুলে দেখ (আমি সেই) ব্রজের গোঁসাই ।

কাঙ্গাল সেজেছি এবার ভক্তের তরে

তাই আমি ঘুরে বেড়াই ভক্তের দ্বারে দ্বারে ।

ভক্ত মোর প্রিয় সখা, ভক্ত মোর প্রাণ

ভক্ত বিনা নাহি জানি রাখি ভক্তের মান ।”

তিনি বলেছেন-

“এই নাম আমি গোলক থেকে সঙ্গে এনেছি

“হরে ব্রজানন্দ হরে, হরে ব্রজানন্দ হরে ।

গৌরহরি বাসুদেব, রাম নারায়ণ হরে ।।”

 (মহাতারকব্রহ্মনাম)

“এই নামের মধ্যেই আমার পরিচয় ।

সত্যযুগে আমি নারায়ণরূপে, ত্রেতাযুগে রামরূপে, দ্বাপরযুগে কৃষ্ণরূপে

 ও কলিযুগে গৌরহরিরূপে ।

এখন ঘোর কলিতে পাপী উদ্ধারী ব্রজানন্দ রূপে ।”

“দ্বাপরের সেই লীলা বহুযুগ আগে ছেড়ে এসেছি ।

এবার জীব তরাতে বৈকুন্ঠ থেকে ব্রজানন্দ মহানাম নিয়ে এসেছি ।

কলির শেষে পাপী উদ্ধারী ব্রজানন্দ ।

এবার ব্রজানন্দ মহানামের অক্ষয় বীজ বপন করেছি ।

শৈশবেও তিনি ছিলেন এক বিরাট আশ্চর্য শিশু

শিশু জন্ম সুলভ ভাবেও বলেননি কোঁয়া টোয়া

বলেছেন “শিবোহ্‌হ্‌ম” “শিবোহ্‌হ্‌ম” । ।

“ব্রজানন্দ কে ? নারায়ণ ।

নারায়ণকে ? শিব ।

কোন ভেদ নাই ।

বলেছেন-

“এই চরণ শিবের চরণ

এইচরণ থেকেই চতুর্বর্গ ফল লাভ হয় ।

ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ সবই এই চরণে,

ব্রহ্মান্ডের আধার এই চরণ ।”

“গৌরাঙ্গরূপে আমিই নবদ্বীপে জন্ম পরিগ্রহ করেছিলাম ।”

“ব্রজানন্দ কৃষ্ণ । তাজা গোবিন্দ ।”

“আমিই তারকনাথ ।”

“ব্রজানন্দ পরমেশ্ব্বর ।”

“আমাকে পাইলে আর ফিরিতে হয় না ।”

“ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরকেও আমার আরাধনা করতে হয়েছে”

এই করেই ব্রহ্মা ব্রহ্মত্ব, বিষ্ণু বিষ্ণুত্ব, মহেশ্বর(শংকর/মহাদেব / ভোলানাথ) শিব শিবত্ব লাভ করে ।

শুধু তাই নয়

বলেছেন তিনি কেন এসেছেন

“এবার আমি শুধু ভক্তের জন্যই অবতীর্ণ  হয়েছি –

ভক্ত যদি আমার প্রাণ চায় আমি তাও দেব ।

 গৌরাঙ্গ অবতারে যে ‘অনর্পিতং চরিং চিরাৎ’। 

প্রেম রস দেব ব’লে প্রতিশ্রুত হয়েছিলাম –

 সে রস ত তখন তাহাদিগকে দিতে পারিনি,

এবার তাই দিতে এসেছি ।”

“এবার আমার অবতীর্ণ হ’বার একমাত্র উদ্দেশ্য ভক্তের উদ্ধার ।

তোমাদের উদ্ধার না করা পর্য্যন্ত আমারও চিন্তা দূর হ’বে না ।”

নিজ প্রয়োজনে আসেননি

এসেছেন পতিত পাবন হয়ে

আর্তজনের দুঃখ মোচন করতে ।

জীব মুক্তির আসন প্রতিষ্ঠা করতে

সর্ব্ব ধর্মের সমন্বয় সাধন করতে

প্রেম ও শান্তির বাণী দিয়ে অশান্ত পৃথিবীকে শান্ত করতে ।

জীব সকল যেন এক ব্রজানন্দের মধ্যে সর্ব্বশক্তি দর্শন করে ।  

এসে

তিনি সম অধিকার(আত্মার দৃষ্টিতে তিনি মানে ব্রজানন্দ ও আমি আমরা সকলে এক) দিয়েছেন

পাপী-তাপী, নারী-পুরুষ, শিশু-আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, পশু-যোগী- ব্রহ্মচারী সহ সকল সৃষ্টিকে ।

শুধু তাই নয়

তিনি বলেছেন

আমি সবাইকে ব্রহ্ম মন্ত্রে দিক্ষা দিয়েছি ।

আমার সকল শিষ্য ভক্ত ব্রাহ্মণ ।

তাই আমার (অনন্ত ব্রহ্ম ব্রজানন্দ) পূজা “তুমি কর” তোমার প্রাণের আকুতি দিয়ে ।

তিনি বুকে টেনে নিয়েছেন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ, আবাল বৃদ্ধবণিতা সহ নানা শ্রেনী-পেশার সকলকে ।

তিনি মহাকলির মহাপাপি কর্মব্যস্ত জীবের জীবনকে সরল করার জন্য খুব সহজ বিধান দিয়েছেন ।

তিনি বলেছেন –

“হরে ব্রজানন্দ হরে, হরে ব্রজানন্দ হরে ।

গৌরহরি বাসুদেব, রাম নারায়ণ হরে ।।”

এই পূণ্যনাম

“যে নিষ্ঠা ভক্তি সহকারে

জপ করিবে সকাল সন্ধ্যায়

সে সর্ব্ব পাপ হইতে বিমুক্ত হইবে ।”

“হেলায় হউক, নিষ্ঠায় হউক দিনান্তে নামটি একবার লইলেই হয় ।

তবেই তোমার ইহ পরকালের কাজ হইয়া যায় ।

তোমাদের কোন সাধন ভজন নাই, একবার “জয়গুরু” বলে ডাক দিবা মাত্র ।

দয়াল হরির আগমনে জীবের সাধন ভজন সরল হইয়া যায় । “

সকলার কল্যাণ করেছেন –

সকলার কল্যাণ করার কথা বলেছেন ।

তিনি বলেছেন আপনারো মুক্তির কথা

কি ছিলো সে কথা –

“ভয় নাহি বাবা তোমার আমি যাবো সঙ্গে

যতন করিয়া তোমায় রাখিব চরনাঙ্গে ।

তুমি আমার আপন জন বলিলাম যথার্থ

আমাতে মিশে যাও লভ পরমার্থ ।

তুমি আমি একাত্মা জানিবে নিশ্চয়

সর্ব্বঘটে বিরাজ করি আমি সর্ব্বময় ।

চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারায় আমি বিহার করি

সলিলে অনিলে আমি ব্রজানন্দ হরি ।

তোমার আগে পাছে আছি আমি না ভাবিও আর

তোমার হাত ধরে করিব এবার ভবসিন্ধু পার ।

মমমূর্তি ধ্যান করিও সদা করিও ভজন

নামামৃত করিও পান করিও নামের সাধন ।”

“সর্ব্বধর্ম্ম বিসর্জন করিয়া এক মাত্র আমার স্মরণ লও,

আমি তোমার সর্ব্ব পাপ দূর করিব ।”

“আমার নামে পরে থাক ।

তোমাকে আর কোন আপদ বালাইতে পাবে না । “

“আমি সর্বদাই তোমাদের অন্তরে বাহিরে সর্বত্রই আছি ।

যখনই ঐকান্তিক ভাবে ডাকিবে সাড়া পাইবে ।

তোমরা কখনই নিজেদের অসহায় ভাবিও না ।”

দিনান্তে কিঞ্চিত নাম নিলেই হলো

আর সব তিনিই করে নিবেন ।

তিনি যে আশুতোষ খুব খুব  অল্পে তুষ্ট ।

তিনি সবাইকে এত ছাড় দিয়েছেন !!

এই দিয়ে তিনি জীবের প্রতি মমতার প্রকাশ করলেন ।

তোমরা সব সময় ব্রজানন্দের নাম কর ।

তবে ঠিক্‌ ঠিক্‌ করতে হবে ।

তাতে যেন কোন ফাক না থাকে ।

ফাঁক্‌ থাকলেই ফাঁকে পড়তে হবে । 

তিনি এও বলেছেন

“ধর্ম্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ সবই এই চরণে আছে-

তোমার শক্তি থাকিলে লও।

আমি বিলাইতেই আসিয়াছি। “

“পাওয়ার মত পাইতে হইলে দেওয়ার মত দিতে হয়।

তবে তো আমার কৃপালাভে ধন্য হইবে। “

সরলাতি সরল তাঁর আরাধনা

“তুমি আমার আমি তোমার” এই ভাবের আরাধনা ।

এই সাধনায় চাই ব্রজগুপির ভাব ।

ব্রজানন্দের মহা ভাব

আপন নাম কীর্তন প্রেমে আপনি মগন্‌

কখনো বলছেন আয় সবে মিলে ব্রজানন্দ বলে দুবাহু তুলে নাচি গাই ।

চাই রাধা রানীর ভাব,

গৌরহরির ভাব,

ঠাকুর রামকৃষ্ণের, রাম প্রসাদের ভাব

এই শিক্ষায়, এই প্রেম, এই ভক্তিতে, এই ভাবে ভাবিত হওয়াই সকল সৃষ্টির মহাসাফল্য ।

আর এই সাধনায় বিফলতাই চূড়ান্ত ব্যর্থতা !!!!!

যার ফলে জীব আজ অসীম  দুঃখের ভাগি হয়ে প্রতিটি মানুষ অসীম নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে ।

অথচ মানুষ চাইলেই নিজের মধ্যে আত্ম জ্ঞানের উন্মেষ ঘটিয়ে পৃথিবীকে স্বর্গ রাজ্য বানাতে পারে ।

 কিভাবে সেটা ???????????

ব্রজানন্দের সাথে যোগে যুক্ত থাকা,

এ যেন পরশ পাথরের স্পর্শে লোহা সোনা হওয়া,

তিনি যে পরম স্পর্শ মনি ।

একদম চৌম্বকের(চৌম্বক পদার্থ যেমন চৌম্বকে লেগে থেকে চৌম্বকত্ব লাভ করে) মত লেগে থেকে

(মানসিক ভাবে) ব্রজানন্দের মত হয়ে যাওয়া সম্ভব

অর্থাৎ ব্রজানন্দের ব্রজানন্দত্ব লাভ

সেই সম্ভাবনার কথাও বলেছেন ।

তাঁর আরাধনা, ভজন, পূজন, মনন, চিন্তন, অহর নিশি অনুক্ষন

তাঁরি ধ্যানে নিমগ্নতাই ব্রজানন্দ লাভের বিহিত বিধান ।

এটাই শান্তির অদ্বিতীয় পথ ।

প্রত্যেককে আত্ম বিশ্বাস যোগিয়েছেন

আত্ম জ্ঞান দিয়ে

ব্রজানন্দে নিজেকে বিলিন করে ব্রজানন্দ হয়ে যাওয়াই জীবের জীবনের মূল লক্ষ্য ।

এ যেন নিজের প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটন করে ব্রহ্মানন্দ সুধা পান

তবেই জীবের নিস্তার ।

জীব যত দিন তার এক সত্য স্বরূপে অবস্থান না করবে

অর্থাৎ যতদিন তার সচ্চিদানন্দরূপ ঈশ্বর লাভ না হবে

ততদিন পর্যন্ত কিছুতেই পূর্ণ শান্তি

বা পূর্ণ আনন্দের অধিকারী সে হতে পারবে না । 

কারণ সকল সৃষ্টি তার স্বরূপ হারিয়েছে

মায়ায় ঢাকা পড়ে আছে জীবের জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, বিবেক, উপলব্ধি, সত্য ।

তুমি আছ আত্মা রূপে

কিন্তু যে তোমাকে তুমি বলছ সেই তুমি মায়ায় নির্মিত,

সেই তোমাকে তুমি ছেড়ে দাও তবেই পাবে ব্রজানন্দ,

তখন দেখবে তুমি আমি একই বস্তু,

তুমি থাকতে আমি নাই,

তোমার ও আমার মধ্যের যে জোদায়ি পর্দা তা তুমি উঠিয়ে ফেল,

ব্রজানন্দ জপে জপে ।

হুংকার ছাড়

আমিই সেই ব্রজানন্দ রূপ কৃষ্ণ/ শিব/ আদ্যাশক্তি,

চৈতন্য স্বরূপ আত্মা

সমস্ত জগতের নিয়ন্তা ও নির্বাহ কর্তা,

আমি বড় বাপের বেটা ।

এই বিশ্ব জগৎ সংসার তোমারি বিভুতি তুমিই আছ

কেননা

নিজের সাধনার বলে নানা কৃচ্ছ সাধনার মাধ্যমে তুমি নিজেকে আবিষ্কার কর 

যে তুমিই সেই ।

এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের পরম সত্য তুমিই ।

এই জগত ব্যাপিয়া তুমিই আছ তুমিই সেই অদ্বিতীয় পরম সত্য ।

 তুমি ছাড়া সব ফাকা ।

অর্থাৎ তুমিই ব্রহ্ম তোমার থেকেই এই বিশ্ব জগৎ সৃষ্টি হয়েছে এবং তা আবার তোমাতেই লয় হবে ।

সেই সুমহান তুমিই ।

এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের পরম সত্য তুমিই ।

এই জগত ব্যাপিয়া তুমিই আছ তুমিই সেই অদ্বিতীয় পরম সত্য ।

 তুমি ছাড়া সব ফাঁকা ।

তুমি ছাড়া এই ব্রহ্মান্ডে আর কোন অস্তিত্ব নেই ।

“অন্তর্দৃষ্টিহীন অবিদ্যাগ্রস্থ জীব স্বীয় আত্মাকে ভুলিয়া

বহির্দৃষ্টিতে বাহ্যেশ্বর আরাধনা ও ইন্দ্রিয়ক্রিয়ায় লিপ্ত হইয়া

অশেষ দুঃখের ভাগী হয় ।”

আত্মাতেই সমস্ত সুখ কেন্দ্রিভূত । 

আগে জানো কি সেই আত্মা

তোমার নিজস্ব রূপ,

নিজ আত্মাকেই তুমি জানো না

তাইত তোমার যত দুঃখ,

যত দৈন্য যত তোমার হাহুতাশ।

এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড তোমারি ধ্যান করে নিরবধি ।

অথচ সেই তোমাকে তুমি চিনছ না বলেই অসীম যন্ত্রণা ভোগ করছ ।

ভগবান ব্রজানন্দ স্বামী মানবের দ্বারে দীন সন্ন্যাসীর বেশে উপস্থিত হয়ে

মোহ – মুগ্ধ মানবের তরে নগ্ন সন্ন্যাসীর বেশে করুণাময় ভগবান

ব্যগ্র ব্যাকুল কন্ঠে ডেকে বলছেন-

“ওগো পাশবন্ধ জীব আত্মবিস্মৃত বিমুঢ় হ’য়ে রয়েছ কেন – তুমি যে শিব;

একবার আত্মচৈতন্য লাভ করে পাশ মুক্ত হও ।

“নির্গতোহসি জগজ্জ্বালা, পিঞ্জরাদিব কেশরী ।”

প্রবল পরাক্রম সিংহ তুমি,

সামান্য বক্ষ পিঞ্জরে আবদ্ধ হ’য়ে ঘুমিয়ে রয়েছ ।

অমতি তেজ সিংহ শাবক হয়ে তুমি ভেড়ার দলে মিশে ভেড়া বনে গেছ ।

নিজের চেহারার দিকে একবার দৃকপাত করো !

মায়ামোহের অধীনতা পাশে আবদ্ধ হ’য়ে আছ বলেই তুমি জীবনের দাসত্ব করছ,

এই মায়ামোহের অধীনতা পাশ ছিন্ন করে মুক্ত’ হয়ে শিবত্ব লাভ করো ।

সেইত তোমার সত্যিকারের স্বাধীনতা, প্রকৃত স্বরাজ ।”

ঘৃণা, শঙ্কা, ভ্য়, লজ্জা, জুগুপ্সা (নিন্দা) কুল, শীল ও মান –

 এই আটটি তোমার বন্ধনের কারণ

তুমি বন্ধন মুক্ত হও ।

কর্মই বন্ধনের কারণ- তুমি কর্ম বন্ধন মুক্ত হও।

তুমি জাগ, চেতন হও ।

এর জন্য চাই সাধনা ।

মমতা ভরে ডেকেছেন

আস তুমি আমার সাথে  ,

আমাতে তোমার দশ ইন্দ্রিয়, ষড়রিপু অর্থাৎ দশে ছয়ে মিল করে ষোল আনা দাও,

সমর্পন কর ।

ষোল আনা ভক্তি নিয়ে আমার কাছে আস,

তবেই আমি তোমাদের জন্য কিছু করতে পারবো ।

আমার প্রসাদ চরণামৃত মুহুর্মুহু গ্রহণ কর ।

প্রসাদ খেয়ে তোমার দেহশুদ্ধ কর ।

“তেত্রিশকোটি দেবতা আসে আমার সন্ধ্যারতি দর্শনে ।

করজোড়ে দর্শন করে ।

ওদের দৃষ্টিতে তোমাদের কর্মক্ষয় হয় ।  

পুনঃ পুনঃ দর্শন না পাইলে এ-দূর্জয় কর্মভোগ কাটবে কী করে ?

না কাটিলে কর্মপাশ সকলি যে অশিব ।”

মন শুদ্ধ কর

গুরু ধ্যান, গুরু জ্ঞান, গুরু চিন্তামনি

গুরু বিনে অন্য কিছু না জানিয় তুমি ।

আমার তারক ব্রহ্ম নামে আমার ভজন কীর্তনে, নাম জপ করতে করতে ।

লীলা পরিচয়, অর্ঘম্য, পাঁচালী,  ভোরারতি, ভোগারতি, তারকব্রহ্মনাম যোগে সন্ধ্যা আরতি দর্শন, অষ্টোত্তর শতনাম,

ব্রজানন্দ শরণম,  ব্রজানন্দ অষ্টকম, প্রার্থনা সংগীত

ভজন, শ্রবন, কথন, মনন, পঠন, কীর্তনে চিত্ত শুদ্ধ কর ।

এইগুলিই তোমার আত্মার খাবার

মনে বিশ্বাস আন তুমিই সেই ব্রজানন্দরূপ শিব/ কৃষ্ণ/ আদ্যাশক্তি

এই খাবারই তোমার আত্মাকে শক্তিশালী করবে, বলবান করবে ।

ফলে তুমি ব্রহ্ম হয়ে উঠবে

 চিদানন্দময় আনন্দে বিরাজ করবে

সেই তুমিই এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের পরম সত্য হয়ে উঠবে ।

 ধর আমার হাত ।

আমাকে ভালোবাস আমাতে সব সমর্পন কর,

যা তা না

গুরু ছাড়া জানেনা তাঁকে না দেখলে থাকতে পারে না ।

নিজের ভালো মন্দ দুই-ই জানে না ।

কিসে তার ভালো শুধু এই চিন্তা ।

এই ঠিক ভালোবাসা ।

এই ভাবে তুমি আমাতে লিন হয়ে যাও

আমাতে তোমার তুমিকে লয় করে লীন হয়ে যাও ।

এটাই তোমার জীবনে সার্থকতা ।

“আমাকে সর্বদা আসনেই পাবে ।

তোমাদের যার যা প্রার্থনা আমার আসনেই জানাবে ।

আমি সেখান থেকেই তোমাদের যা কিছু প্রার্থনা, সব পূরণ করবো ।

ব্রজানন্দ সদা সর্বদা আসনেই বিদ্যমান ।

সচরাচর লোকচক্ষুর গোচর হই না ।

কোন কোন ভাগ্যবান আমার দর্শন পায় ।”

“তোমরা জেনে রাখ অধ্যাত্ম সাধনার দূর্গম পথে গুরু শক্তিই ভরসা ।

কোন সাধনা কোন শাস্ত্রই এর তুল্য নয় ।

সদ্‌গুরুতে বিশ্বাস, তাঁর পদে শরণ গ্রহণ ও আত্মসমর্পণই হচ্ছে সিদ্ধিলাভের পথ ।”

তাঁর শান্তিপূর্ণ মঙ্গল আশীর্বাদ গ্রহণ করুন ।

তিনি মহাকলির মহা মহা পাপীকে গ্রেস মার্ক দিয়া পাশ করিয়ে পরম গতি করতে এসেছেন ।”

পরমেশ্বরের মহা বিশাল ছাড় অফারে নিজের চির অক্ষয় ভাগ্য বানিয়ে নিন সুযোগকে কাজে লাগান ।

আসুন আপনারা আশ্রয় মাগুন সেই শ্রীচরণে ।

বাবার কত্ত্ব মমতা!

তিনি কাউকে ফেলতে পারেন না ।

তাই তিনি বহু মত ও পথ সৃজন করেছেন । ধর্ম চর্চায় দিয়েছেন  বৈচিত্রতা ।

বাবা, যে ছেলেটি যে ভাবে বুঝে তাকে তিনি সেভাবেই ধরা দিয়েছেন ।

তিনি যে আমাদের সকলের পরমস্নেহময়ী পিতা ।

তাই ব্রজানন্দ বহু ভল্লব ।

আর

তিনি আরু বলেছেন-

“তোমাদের জীবনের লক্ষ্য এক ।

তোমরা সর্বদা মনে রাখিও সমস্ত গুরু ভ্রাতা-ভগ্নিকে এক পরিবার ভুক্ত,

সকলে একই পিতার সন্তান,

এই অনুভূতি তোমাদের প্রাণে উদয় হইলে তোমাদের যাবতীয় হিংসা দ্বেষ, ক্ষুদ্র অশান্তি বিদুরিত হইবে ।”

“বিশ্ববাসী জাতি ধর্ম নির্বিশেষে যখন “তত্ত্বমসি” মহাকাব্যের সুমহান নীতি গ্রহণ করিবে

তখন জগতে সচ্চিদানন্দের পূর্ণ আসন প্রতিষ্ঠিত হইবে,

মনের কপটতা, হিংসা দ্বেষ পলায়ন করিবে,

বিশ্ব আনন্দের-মঙ্গল জয় শংখ পুনরায় বাজিয়ে উঠিবে,

নিখিল বিশ্বে শাশ্বত অনাবিল শান্তি প্রতিষ্ঠা লাভ করিবে ।

প্রাণে প্রকৃত মধুর ভাব উদিত হইলে কিছুই অসাধ্য থাকে না ।”

“তোমরা গুরুধামের বিশেষ বিশেষ উৎসবে এবং সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিবসে

একত্রিত হইয়া আসনে প্রণাম, পূজার্চ্চনা, আরতি, ভজন কীর্তন করিবে ।”

“সদ্‌গুরু ভগবানের মহাভাব ও মহাপ্রেমের বিষয়

চিন্তা, ধর্মালোচনা, সাধন মার্গে ও আধ্যাত্মিক পথে উন্নতি বিধান, নিঃস্বার্থ সেবাধর্ম উদযাপন

করাই এই গুরুধাম মহামিলন মঠের প্রধান উদ্দেশ্য

তাহা বিশেষভাবে পর্যালোচনা ক্রমে কর্ম পন্থা নির্দ্ধারণ করিবে,

গুরুধামের সুশৃঙ্খলা, রক্ষণাবেক্ষণের সুষ্ঠ উপায় উদ্ভাবন করিবে ।”

“এই গুরুধাম প্রতিষ্ঠার মূলে কি সত্য, আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিহিত আছে

তাহা বিশেষ ভাবে পরিস্ফুট করিয়া বিশ্ব কল্যাণে ও লোকহিত কর্মে বিশ্ববাসীর সম্মুখে উত্থাপিত করিয়া

আদর্শ নিষ্কাম সেবা ধর্ম্মের কথা ধরিয়া তুলিও। 

সংঘে একত্রিত হইয়া ভাব বিনিময় ও আলোচনা করিও।”  

“আমি স্থুল দেহে ধামে উপস্থিত থাকিলে তোমরা যেরূপ – সংযম, শ্রদ্ধা ভক্তির সহিত উপবেশন কর

সংঘে উপস্থিত হইয়াও তোমরা শ্রদ্ধা ভক্তির সহিত উপবেশন করিবে ।

সর্বদা আসনে আমি প্রত্যক্ষ আছি এবং তোমাদের কার্যকলাপ সমস্তই লক্ষ্য করিতেছি ।

আমি ও আমার আসন এক ।

এই সিদ্ধ আসনই গুরুশক্তি ।

তাহা কদাচ কেহ গ্রহণ বা ব্যবহার করিবে না ।”

“তোমরা ভক্তি নিষ্ঠার সহিত গুরুপীঠ বা গুরুর আসনের সর্বোতভাবে সর্বদা পবিত্রতা রক্ষা করিবে ।

আমার আসন কথা বলিবে ।

যাহার যাহা অভিলাষ আসনে জানাইবে ।

আমি কোথায় নাই ?

গুরু কোথায় নাই ?

তিনি আছেন আকাশে-বাতাসে প্রতি জীবের অন্তরে ।

তিনি ভক্তি লভ্য, ভাবগম্য ।

আসনেই তাঁহাকে খুঁজিয়া পাইবে ।  

কাজেই গুরুর আসনের পবিত্রতা রক্ষা করা প্রত্যেক ভক্ত শিষ্যের কর্তব্য ।

গুরুর সিদ্ধ আসন এবং গুরু অভিন্ন । 

আসনে সরল প্রাণে ভক্তি বিশ্বাসে যে যাহা প্রার্থনা করিবে আমি তাহা পূর্ণ করিয়া থাকি ।”

“সংঘে যখন গুরু ভাই-বোনগণ সমবেত হইবে তখন পরস্পরের মধ্যে ভাব বিনিময় করিও । 

এইরূপআলাপ আলোচনার মাধ্যমে সাধনমার্গের দোষক্রটি ধরা পড়িবে এবং অন্যের সাহায্যে সাধনমার্গের পথ সুগম হইবে ।

সদ্ভক্তের সঙ্গলাভ এবং নিঃস্বার্থ নিষ্কাম কর্ম উদযাপন করিয়া সাধনপথে অগ্রসর হইবে ।

তাহাতে মনের মলিনতা, আবিলতা দূর হইবে ।

প্রাণে বিমল আনন্দ উপভোগ করিবে ।

চিত্তশুদ্ধিই একমাত্র ভগবানকে লাভ করিবার প্রকৃষ্ঠ পন্থা । “

 “নিষ্কপটে সুষ্ঠভাবে সংঘ পরিচালনা করিতে পারিলে তোমরা অচিরে শ্রীগুরু ভগবানের কৃপা লাভে সমর্থ হইতে পারিবে ।

এই জগতে এমন কোন শক্তি নাই তোমাদের অনিষ্ঠ সাধন করিতে পারে ।

তোমরা সংঘকে দৃঢ়ভাবে ধরিয়া রাখিতে পারিলে –

সমগ্র বিশ্ব একত্রিত হইয়াও তোমাদিগকে বিব্রত ও বিপন্ন করিতে পারিবে না ।

গুরু ও সংঘের সহিত তোমরা ঠিক ঠিক সম্বন্ধ রাখ ।

সাধু সঙ্কল্পে অবিচলিত থাক ।

সেই শিষ্য গুরুশক্তি দ্বারা সর্বোতভাবে সুরক্ষিত ।

চতুর্দ্দশ ভুবনে এমন কোন শক্তি নাই তাহার কেশাগ্র স্পর্শ করিতে পারে ।”

“এক লক্ষ্য বা ইষ্ট সিদ্ধিলাভের জন্য সকলের প্রাণে আকুলতা জন্মিলে সংঘের সৃষ্টি হয় ।

এই  সংঘ অতুলনীয় ।

তোমাদের অনৈক্য, মতবৈষম্য, ক্ষুদ্র অশান্তি সমস্ত ভুলিয়া গিয়া প্রাণের নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হইতে পারিলে

তোমরা জগতে অসাধ্য সাধন করিতে পারিবে,

মায়াবদ্ধ সংসারে থাকিয়াও অমৃতরস আস্বাদন করিতে পারিবে ।”

“আমি চাই তোমরা আদর্শ গৃহী হও ।

তোমরা মনে প্রাণে দৃঢ় হও ।

গরিষ্ঠ হও, সত্যাশ্রয় হও ।

সংসারে তোমাদের দ্বারা – পুত্র-পরিজন বিষয়-সম্পত্তি যশখ্যাতি সমস্তই থাকিবে ।

তোমরা অনাসক্ত ভাবে নিষ্কাম কর্ম করিয়া যাইবে ।

ভগবানের উদ্দেশ্যে কোন ফলাকাঙ্ক্ষা না করিয়া কার্য্য করার নামই নিষ্কাম নিঃস্বার্থ কর্ম ।

এই কর্মে তোমাদের বন্ধন নাই ।

তোমরা ভগবানের সংসারে নিযুক্ত কর্মচারী ।

তাঁহার রচিত বিশ্বশালায় কর্ম করিয়া যাও ।

জ্ঞানী সংসার করে অনাসক্তভাবে আর অজ্ঞানী সংসার করে বিষয়-বিষে-আসক্ত হইয়া ।

তাহাতেই কর্ম্ম বন্ধন ঘটে ।”

“বাসনাই বারংবার জন্মিবার কারণ ।

এই সংসারে যাহার যতটুকু পাওনা ততটুকু তাহাকে কড়ায় গন্ডায় পরিশোধ করিয়া দিতে হইবে ।

অথচ নিজ লক্ষ্যে সর্বদা সজাগ ও ধীর স্থির থাকিতে হইবে ।

প্রত্যেকের সমান অধিকার আছে ।

কাহাকেও দাবাইয়া কাহারও অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যায় না ।

যেইখানে ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় সেইখানে প্রেম আসিতে পারে না

এবং মনুষ্যপ্রীতি, প্রেম-ভালবাসা বিশ্বমানবতা বিশ্বধর্মের বিলুপ্তি ঘটে ।

 অনাসক্ত আদর্শগৃহী সংসারে হাসিয়া খেলিয়া ভগবানের কার্য্য করিয়া যাইতেছে ।

মুক্তি তাহাদের করতলগত ।

আর বিষয় মদিরায় মত্ত হইয়া

অজ্ঞান-সংসারী সংসার মরু ভূখন্ডে তৃষিত হরিণের মত ধাবিত হইতেছে ।

তাঁহাদের মুক্তি কোথায়?

যেই তিমিরে সেই তিমিরেই পড়িয়া থাকিবে ।”

“অগ্রে তোমরা নিজে আদর্শ হও ।

তোমাদের নিজ পরিবারস্থ-পরিজনকে আদর্শে গড়িয়া তোল ।

তোমাদের আদর্শ অবলোকন করিয়া গ্রামবাসী মহৎ আদর্শে অনুপ্রাণিত হইবে ।

এইভাবে দেশ-বিদেশে আদর্শের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি ফুটিয়া উঠিবে ।

তোমাদের আত্মত্যাগে ও নিষ্কাম মহৎকার্য্যে অনুপ্রাণিত হইয়া

শত শত সহস্র সহস্র ব্যক্তি ত্যাগের মহামন্ত্রে দীক্ষিত হইয়া

দেশ-দেশান্তরে বিজয় অভিযানে বাহির হইবে ।

আদর্শকে রূপদান করাই তোমাদের কর্ম ও সাধনা ।”  

“তোমরা বিশ্বজাগরণে ত্যাগের নিঃস্বার্থ মহান কর্মে এগিয়ে চল ।

মাভৈঃ তোমাদের সকল ভার, সকল বোঝা আমি বহন করিব ।”

“গুরুর উপর নির্ভর করিয়া তাঁহার নিকট শক্তি সামর্থ প্রার্থনা কর ।

তিনি তোমাদিগকে শক্তি সামর্থ, প্রেরণা যোগাইবেন ।

আমার ভক্তের ধ্বংস নাই ।

আমার ভক্ত যেইখানে যায় আমি তাহার পশ্চাতে গমন করি ।

আমার ভক্তের পশ্চাতে মুক্তি স্তুতি করিয়া যায় ।”

“জগতে কর্ম্মেরই প্রশস্তি ।

তোমরা আদর্শ নিষ্কাম কর্ম করিয়া যাও

বিশ্ববাসী তোমাদের সুমহান কর্মের জন্য জয়ের মালা পরাইয়া দিবে ।

তোমাদের নিঃস্বার্থ কর্মে অনুপ্রাণিত হইয়া

তাহারা নব নব কর্মের প্রেরণা লাভ করিবে ।

তোমরা জ্ঞানে যখন সমদর্শী হইবে, 

প্রেমে প্রীতিমান হইবে এবং কর্ম্মে সর্বভূত কল্যাণে ব্রতী হইবে

তখন এই বিশ্বশান্তির অমিয় হিল্লোল বহিতে থাকিবে ।”

“গৃহীর সাহায্য ভিন্ন কোন আশ্রমই পরিপুষ্টি লাভ করিতে পারে না ।

গৃহী ও সন্ন্যাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জগতে মহৎকার্য্য প্রতিষ্ঠা লাভ করিতে পারে ।”

“সহকর্মিগণের নিকট হইতে যদি বাস্তবিক আন্তরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা পাইতে চাও

তবে তোমার গুরুদায়িত্ব, দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের কিছু অংশ সহকর্মিগণকে বিলাইয়া দাও ।

তাহারা অংশগ্রহণ করুক ।

তবেই তাহারা তোমার সহিত সমতা রক্ষা করিয়া সমান দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়া কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হইতে পারিবে ।

তুমি যেই কর্মে অগ্রসর হইবে তাহারাও সানন্দে প্রয়োজনবোধে বিনা দ্বিধায়, বিনা আহ্বানে

জীবনপণ করিয়া বীর সৈনিকের মত তোমার অনুসরণ করিবে ।”

দুটি কথাঃ-

যিনি এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের অধিশ্বর, পরমেশ্বর  তিনি অবতীর্ণ হয়েছেন

আপনার জন্য আপনার মুক্তির সরল পথ নিয়ে

জন্ম মৃত্যু মায়ার পরপারে যাওয়ার জন্য,

ব্রজানন্দ মহানাম জপ করে ব্রজানন্দ হয়ে যাওয়ার জন্য ।

এ সত্যের প্রতি আপনাকে আহব্বান ।

তাঁর অমোঘ শান্তি আশীর্বাদ গ্রহণ করুন

ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি ।।

স্বামী ব্রজানন্দের
মহা জীবন, মহাভাব, জীবন শৈলপি, ভাবাদর্শ গবেষণা ও মর্ম উপলব্দি/ অনুধাবন ও জীবন বিজ্ঞান শিক্ষা অনুসরণ এবং চিত্তশুদ্ধি কেন্দ্র ।
শ্রীশ্রী ব্রজানন্দ ধাম
গ্রামঃ বাঘুয়া, পোঃ সিংগুয়া, উপজেলাঃ কাপাসিয়া, জেলাঃ গাজীপুর,
বিভাগঃ ঢাকা, বাংলাদেশ, এশিয়া ।