“পরমেশ্বর ভুবনে স্বাগত”

আত্মানাং বিদ্ধি=নিজেকে জানো বা আত্মাকে জানো

আত্ম উপলব্দি ও আত্মরুপান্তরের এ অভিযাত্রায় আপনাকে অভিনন্দন ।

নিজেকে জানুন, বিকশিত করুন নিজের অসীম সম্ভাবনাকে ।

জগৎ গুর্ব্বাচার্য্য পরমহংস পরিব্রাজক ব্রজানন্দ জীউ (১৭১৯ – ১৯৭৯খ্রিঃ) ছিলেন সনাতন ধর্মের পরমপুরুষ। “পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম্মাবলম্বী চিরস্মরণীয় সাধক ও মহাপুরুষগণের মধ্যে ঠাকুর ব্রজানন্দের স্থান একটু স্বতন্ত্র কারণ তিনি সাধক নহেন স্বয়ং স্বাধ্য উপাসক নহেন উপাস্য এবং কোন ঠাকুর-দেবতার আরাধনা করেন না । ভগবান ব্রজানন্দ সকল ঐশ্বর্য্যে বিশ্ববিধায়ক”- তাঁর শিষ্যসমাজে, এমনকি তাঁর আধুনিক ভক্তসমাজেও তিনি ঈশ্বরের অবতাররূপে পূজিত হন।

“হরে ব্রজানন্দ হরে, হরে ব্রজানন্দ হরে, গৌর হরি বাসুদেব, রাম নারায়ণ হরে ।”-এই তারকব্রহ্মনাম নাম আমি গোলক থেকে এনেছি । এই নামের  মধ্যেই আমার পরিচয় ।  সত্যযুগে আমি নারায়ণরূপে,  ত্রেতাযুগে রামরূপে, দ্বাপরযুগে কৃষ্ণরূপে ও কলিযুগে গৌরহরিরূপে । এখন ঘোর কলিতে পাপী উদ্ধারী ব্রজানন্দ রূপে ।

এই বৃক্ষাধি জীবকূল যা দেখছো, সব আমারই সৃষ্টি । আবার সব আমাতেই লয় হবে ।

এই জগতে সর্ব্বত্রই একমাত্র গুরুদেবেরই লীলা খেলা । একমাত্র ব্রজানন্দই জগৎ ব্যাপিয়া আছেন । এই জগতে যা কিছু সবই “ব্রজানন্দ” ।

আমি সর্বভূতে বিদ্যমান । আমাকে বলে যেখানে যা অর্পণ করবে তাহা আমাতেই যাবে ।

আমি নির্গুণ নিরাকাররূপে এবং সগুণ সাকার রূপে চরাচর বিস্তার আছি । আমা হইতে দ্বিতীয় কেহ নাই । এই সংসারে সব উপাধিই আমার অথচ কোন উপাধিই আমার নয় ।

গুরুতে সব সমর্পন কর । গুরুকে ভালোবাস । ঠিক ঠিক ভালোবাসা । যা তা না । গুরু ছাড়া জানে না । তাকে না দেখলে থাকতে পারে না । নিজের ভালোমন্দ দুই-ই জানেনা । কিসে তাঁর শান্তি এই চিন্তা । এই ঠিক ভালোবাসা ।

ভগবান ব্রজানন্দ বেদবাণী

এবার আমার অবতীর্ণ হ’বার একমাত্র উদ্দেশ্য ভক্তের উদ্ধার ।

আমি স্বয়ং ভগবান । ঘোরকলিতে বুড়াশিব আমার মর্ত্যপরিচয় । আমি এবার এসেছি জীবের দুঃখ মোচন করতে । প্রেম ও শান্তির বাণী প্রচার করতে ।

১. জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন ।

২. স্বপ্রয়োজন অপেক্ষা মুক্তি প্রয়োজনই শ্রেষ্ঠ ।

৩. নির্ব্বান মুক্তিই একমাত্র কাম্য । মনুষ্য জন্ম লাভ ও সেই জন্যই ।

৪. তুমি আত্মজয়ী হইয়া জন্মমৃত্যুর হাত হইতে মুক্ত হও । তোমার জন্ম সফল হউক ।

৫. ত্যাগেই সুখ, ভোগে সুখ নাই । তন্‌ মন্‌ ধন্‌ সব কিছুই ধর্ম্মার্থে লাগাইয়া দাও । জীবনের উদ্দেশ্যও তাই বটে ।

৬. খাওন নিধনের জন্য কাঁদিও না । তোমার গোপাল লাভ হয় নাই সেই জন্য কাঁদ । এ দুদিনের ভোগ সুখ দিয়া কি করিবে ? ভোগে কি সুখ আছে ? সুখ যোগে । সুখ গুরু পাদ পদ্মে । সে সুখ কোন কালে ফুরায় না । সংসার সুখে কেবলি দুঃখ আর জ্বালা । কেবল ঘোরাঘুরি, আসা যাওয়া । মুক্তি নাই ।

৭. আত্মসমর্পণের তুল্য আর যোগ নাই ।

৮. যার জগৎ তাতে যত বেশী মন দেবে তত শান্তি পাবে ।

৯. ইচ্ছাময়ের ইচ্ছায় ইচ্ছা মিলাইয়া দাও । তাঁহার যাহা ইচ্ছা তাহাই ভাল, তাহাই আদরের সহিত গ্রহণ কর । ভগবান যতই কেন কষ্ট দিন না ভক্ত তাঁহার দিক ভিন্ন অন্য দিকে তাকান না ।

১০. যে হৃদয়ে ক্ষমা নাই, দয়া নাই সে হৃদয়ে ভক্তি ও জ্ঞানের বীজ অংকুরিত হইতে পারে না ।

১১. অহিংসা পরম ধর্ম্ম, অহিংসা জীবে দয়া এইসব কর্ম্মই অন্ধকার হইতে আলোর পথে লইয়া যায় । যেখানে হিংসা, দ্বেষ, অপ্রেম সেখানে আলোর প্রকাশ হইতে পারেনা ।

১২. নির্দয়ের হৃদয় অতিশয় কঠিন ও পাষানবৎ হয় । সেই হেতু সৎসঙ্গধারী হাজার সিঞ্চন করিলেও ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত হইতে পারেনা ।

১৩. দ্বৈত ভাব ত্যাগ কর, সর্ব্বভূত প্রাণীতে দয়াশীলা হও ।

১৪. অন্তর্দৃষ্টিহীন অবিদ্যাগ্রস্ত জীব স্বীয় আত্মাকে  ভুলিয়া বহির্দৃষ্টিতে বাহ্যেশ্বর আরাধনা ও ইন্দ্রিয়ক্রিয়ায় লিপ্ত হইয়া অশেষ দুঃখের ভাগী হয় ।

১৫. গুরুর অধিক আরকেহ নাই, গুরু সর্ব্বেশ্বর, সকলের নিয়ন্তা ও নির্ব্বাহ কর্ত্তা ।

১৬. বিনয়ী, নম্র, দয়ালুহৃদয়বিশিষ্ট হইলে তবে সে শিষ্য পদের অধিকারী হয় ।

১৭. আমার কৃপা লাভের যোগ্য হও ।

১৮. বাবা যেখানে ব্রজানন্দের মহিমাকথা বলবে, সেখানে তার ও তোমার মাঝে আমি হাজির থাকবো বাবা ।

১৯. ভক্তিতেই মুক্তি ।

২০. এ চরণ শিবের চরণ । এ-চরণ ভজে কেউ বিমুখ হয়নি ।

২১. যে আমার একান্ত শরণ নেয় সে বিপদের মাথায় পা দিয়ে চলে । আমার ভক্তের বিনাশ নাই ।

২২. বিধাতার কলম একমাত্র গুরুই রদ্‌ করতে পারে ।

২৩. সংসারী লোক তো মরিতে আসিয়াছে । আর আমরা মৃত্যুকে জয় করিতে আসিয়াছি ।

২৪. তোমাদের ঐহিক ও পারত্রিক কল্যাণের পথ মুক্ত করিয়া দেওয়াই আমার একমাত্র কর্তব্য ।

২৫. তোমাদের ইহ -পারলৌকিক মঙ্গল কামনাই আমার একমাত্র জীবন ব্রত ।

শ্রীশ্রী ব্রজানন্দ অষ্টোত্তরশতনাম

গীতমালা

অহং নামে আত্মদেব, তুমি ব্রজানন্দ ।        ১

অন্তরাত্মা রুপে আত্মা, সচ্চিদানন্দ ।           ২

অনাদি নামেতে দেব সত্য সনাতন ।          ৩

আদিদেব নামে তুমি পুরুষ প্রধান ।            ৪

অসীম যেহেতু বেদে, দিতে নারে সীমা ।    ৫

অনন্ত বলিয়া বনে অন্ত না পাইয়া ।            ৬

অনিন্দ্য সুন্দর তুমি, প্রিয়দর্শন নাম ।           ৭

আনন্দ-মধুর নিত্য ভক্তিগুণ ধাম ।             ৮

অভয় নামেতে তুমি বরাভয় দাতা ।           ৯

অজ্ঞান নাশন গুরু বভার্ণব ত্রাতা ।               ১০

যুগাবতার শ্রীশ্রী ব্রজানন্দ স্মরণম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ ঈশ্বর ভজনম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ রামচরিত পঠনম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ কৃষ্ণরূপ ধ্যানম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ পূর্ণব্রহ্ম বরণম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌পরমাত্মা পূজনম্‌

ব্রজানন্দ স্মরণম্‌ওঁ মন্ত্র জপম্‌